সর্বোচ্চ পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে প্রস্তুত শালবনী! ২০ শয্যার ফিমেল এইচডিইউ, প্রতিদিনই উচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসক দলের পরামর্শ

.

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী (পশ্চিম মেদিনীপুর), ১৮ অক্টোবর: পুজোর পর করোনা-সুনামি বা করোনা’র ঢেউ আসুক বা না আসুক, শালবনী করোনা হাসপাতাল সর্বোচ্চ পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে প্রস্তুত থাকছে আজ থেকেই। গতকাল (১৭ অক্টোবর), থেকে চালু হয়েছে ২০ শয্যার আরো একটি অত্যাধুনিক এইচডিইউ (High Dependency Unit)। এই নিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনীতে এইচডিইউ (HDU) শয্যা বেড়ে হল, ৪০ টি। মেল ২০ টি এবং ফিমেল ২০ টি। অপরদিকে, গত ৭ অক্টোবর রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় একজন করে ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর (Clinical Coordinator) নিযুক্ত করা হয়েছে এবং দু’জন করে প্রোটোকল সুপারভাইজার (Protocol Supervisor)। সেই নির্দেশ’কে মান্যতা দিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর তথা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত দায়িত্ব গ্রহণ করেই, গত ১৫ অক্টোবর দ্য বেঙ্গল পোস্ট‘কে জানিয়েছিলেন, “প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, জেলার মৃত্যু হার আরো কমানো। সিসিইউ’র পেশেন্টদের অর্থাৎ সংকটজনক রোগীদের আরো ত্রুটিমুক্ত পরিষেবা দেওয়ার জন্য একযোগে কাজ করা হবে। জেলা স্বাস্থ্য ভবন, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও শালবনী করোনা হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতাল গুলির মধ্যে সমন্বয় রেখে আরো উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” আর, সেই লক্ষ্যেই বিশেষজ্ঞ সকল চিকিৎসকদের নিয়ে একটি “কোভিড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ” তৈরি করার কথা জানিয়েছিলেন, ডাঃ‌ গাঁতাইত। একই কথা বলেছিলেন জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। তিনি ওই দিন জানিয়েছিলেন, “জেলা ও রাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী’দের সরাসরি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি মেন্টরস গ্রুপ তৈরি করা হবে।” সেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। মেন্টরস গ্রুপ (Mentor’s Group) কাজ করা শুরু করেছে।

thebengalpost.in
শালবনীতে আরো ২০ টি ফিমেল HDU :

.

কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে যেহেতু সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুস (Lungs) এবং শ্বাসযন্ত্র বিকল (Respiratory Failure) হয়েই মারা যাচ্ছেন আট থেকে আশি (১-১.৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত) সকলেই; তাই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চেস্ট মেডিসিন (Chest Medicine) বা পালমোনারি মেডিসিন (Pulmonary Medicine) এর ওপর। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে জেলার করোনা হাসপাতাল, বিশেষত লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনী সুপার স্পেশালিটি (যেহেতু ক্রিটিক্যাল বা সংকটজনক রোগীরা এখানেই ভর্তি থাকেন)’র সুপার, ডেপুটি সুপার, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ নার্স এবং শালবনীর বিএমওএইচ এর একটি সরাসরি সমন্বয় সাধন এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত ছাড়াও বেলেঘাটা আইডি’র ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ তথা HOD ডাঃ বিভূতি সাহা, আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল, পিজি বা এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (২) জয়দেব বর্মন ছাড়াও মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ প্রণব মন্ডল এবং অন্যান্য কয়েকজন চিকিৎসক এবং শালবনীর বিএমওএইচ তথা চিকিৎসক ডাঃ নবকুমার দাস, সুপার ডাঃ নন্দন ব্যানার্জি ছাড়াও অন্যান্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স এবং ডেবরা, ঘাটাল ও খড়্গপুরের বিএমওএইচ এবং সেফ হোম গুলির সুপার বা ভারপ্রাপ্ত সুপারদের নিয়ে একটি কোভিড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট মেন্টরস গ্রুপ (CPMMG, Paschim Medinipur) তৈরি করা হয়েছে।

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল উন্নত পরিষেবা নিয়ে হাজির :

.

একইসাথে, শালবনী করোনা হাসপাতালের সংকটজনক রোগীদের বা এইচডিইউ (HDU) ও আইসিসিইউ (ICCU)’র রোগীদের আরো উন্নত ও ত্রুটিমুক্ত পরিষেবা দেওয়ার জন্য, সপ্তাহের প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা পরামর্শ দান করবেন, গত ১৬ অক্টোবর এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু। ডাঃ কুন্ডু জানিয়েছেন, “ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ডাঃ গাঁতাইত ইতিমধ্যে নিজের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করছেন। এবার, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহ কয়েকজন চিকিৎসককে সরাসরি শালবনী করোনা হাসপাতালের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বা রোটেশনালী তাঁরা সপ্তাহের প্রতিদিনই ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরামর্শ দান করবেন। এছাড়াও, আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল সবসময়ের জন্য শালবনী করোনা হাসপাতলেতো থাকছেই।” জেলার করোনা চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে, তা জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যে জেলার মৃত্যুর হার একেবারে কমে গেছে। শালবনী করোনা হাসপাতালের যেটা প্রধান সমস্যা ছিল, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম, সেই অভাব পূরণ করা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স যোগ দিয়েছেন, এজন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে সাথে, জেলা প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানাই। সহযোগিতা করছেন, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু, ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত সহ অন্যান্য চিকিৎসকেরাও। সকলের প্রচেষ্টায় মৃত্যুর হার ১ শতাংশেরও কম করাই আমাদের লক্ষ্য।” এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থা ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “কোভিড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট মেন্টরস গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে, গতকাল থেকেই এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের বিজ্ঞপ্তি মেনে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরাও গতকাল থেকে পরামর্শদানের কাজ শুরু করেছেন। আপনারা শুনলে খুশি হবেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি এই মেন্টরস গ্রুপের মাধ্যমে শুধুমাত্র গতকালই (প্রথমদিন) ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১২ টি ক্রিটিকাল কেস বা সংকটজনক চিকিৎসার সমাধান করা হয়েছে। আপনাদের এটাও জানিয়ে রাখি, গত ৩ দিনে জেলায় মাত্র ১ জন করোনা সংক্রমিতের মৃত্যু হয়েছে। আরো উন্নত পরিষেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তা সত্ত্বেও আবেদন রাখবো, পুজোর সময় মানুষ আরো সচেতন ও সতর্ক থাকুন।”

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে