শালবনীতে বাড়ানো হল প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা, বাড়ছে আরো ২০ টি এইচডিইউ শয্যা, সহায়তা কেন্দ্রে শতাধিক ফোন প্রথম দিনই

trained nurse appointed at Saloni Corona Hospital, Paschim Medinipur

.

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী (পশ্চিম মেদিনীপুর), ৩ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একমাত্র লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনী’তে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়লো প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেল, এই মুহূর্তে প্রায় ৭৯ জন স্টাফ নার্স নিযুক্ত আছেন শালবনীতে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত যে সংখ্যাটা ৩০ এর আশেপাশে ছিল বলে জানা যায়। অন্যান্য পরিকাঠামো ও পরিষেবা দ্রুততার সাথে উন্নত ও ত্রুটিমুক্ত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করার সাথে সাথে, জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও শালবনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে স্বাস্থ্যকর্মী তথা প্রশিক্ষিত নার্সের অপ্রতুলতার বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর তথা রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের কাছে নিয়মিতভাবে দরবার করা হয়েছে বলেও জানা যায়। জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যকর্মী তথা প্রশিক্ষিত নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে রাজ্যকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। অপরদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর এম আর বাঙুরের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর স্বয়ং শালবনী পরিদর্শনে এসে সমস্যার বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এইচডিইউ ইউনিট (HDU Unit), ডায়ালিসিস ইউনিট (Dialysis Unit) চালু, আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজের দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরিদর্শন এবং গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত এম আর বাঙুরের ১৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিয়োজিত থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান, এভাবেই এগিয়েছে শালবনী। ইতিমধ্যে, গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের একটি ৮ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডও সর্বক্ষণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিয়োজিত আছেন। বাকি ছিল শুধু, উপযুক্ত সংখ্যায় প্রশিক্ষিত নার্সের যোগদান করার বিষয়টি। চলতি সপ্তাহে, এই সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে বলে জানা গেল জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও হাসপাতাল সূত্রে। রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর তথা রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ১৫ জন প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ নার্স এবং রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের নিজস্ব উদ্যোগে প্রেরিত আরো ২০ জন প্রশিক্ষিত নার্স শালবনীতে ডিউটি করা শুরু করেছেন বলে জানা যায়। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭৯ জন‌ নার্স এই মুহূর্তে শালবনী করোনা হাসপাতালের পরিষেবায় নিয়োজিত আছেন। শালবনী করোনা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নবকুমার দাস জানিয়েছেন, “আমরা প্রথম থেকেই আন্তরিকভাবে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছি, তবে অভিজ্ঞ নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি ছিল, এটা অস্বীকার করা যায় না! জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে এবং রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশক্রমে এই মুহূর্তে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়েছে। তাই, সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া বেশ অনেকটাই সম্ভব হচ্ছে।”

THEBENGALPOST.IN
শালবনী করোনা হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে তৎপরতা (ফাইল ও প্রতীকী ছবি) :

.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর থেকে (২ রা অক্টোবর পর্যন্ত) এই হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বাঙুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। তাঁদের ৭ দিনের মেয়াদ ২ অক্টোবর সম্পূর্ণ হয়েছে। এই ক’দিন তাঁরা শালবনী করোনা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী’দের হ্যান্ড হোল্ডিং সাপোর্ট বা সরাসরি (হাতে ধরে) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবার বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে তৎপর ছিলেন। অপরদিকে, উপযুক্ত সংখ্যায় প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নার্সরাও যোগ দিয়েছেন। তাই এই মুহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কিত বিশেষ সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল। এই বিষয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গীও জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে উপযুক্ত সংখ্যায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত আছেন শালবনীতে। পরিষেবা সম্পর্কিত আর কোন সমস্যা নেই বলে আমরা খবর নিয়েছি। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট চালু হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে আরো ২০ টি এইচডিইউ শয্যা যুক্ত হতে চলেছে। কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে।”

THEBENGALPOST.IN
শালবনী করোনা হাসপাতালে উন্নত এইচডিইউ, বাড়ছে আরো ২০ টি শয্যা :

.

এদিকে, আজ থেকেই শালবনীতে চালু হয়েছে, রোগী সহায়তা কেন্দ্র। ৬ জন করোনা জয়ী বা কোভিড ওয়ারিয়র্স এই কাজে নিয়োজিত হয়েছেন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। তাঁরা আজ (৩ অক্টোবর) থেকেই তিনটি শিফটে ডিউটি করা শুরু করেছেন, পুরো ২৪ ঘন্টা। আজ, প্রথম দিনই চিকিৎসাধীন প্রায় শতাধিক রোগীর পরিজনেরা ফোন করে নানা খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই কাজে নিযুক্ত একজন কর্মী বললেন, ভিডিও কল থেকে শুরু করে সমস্ত রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোগীর সমস্ত ধরনের খোঁজখবর পাবেন পরিজনেরা। প্রথম দিনই হেল্পলাইন নম্বরে প্রায় ১০০ র কাছাকাছি ফোন এসেছিল।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে