জেলার করোনা হাসপাতালে এবার রোগী সহায়তা কেন্দ্র! শালবনী, মেদিনীপুর ও ঘাটালে নিযুক্ত ‘করোনা জয়ী’রা, শালবনীর পুরানো ৭ কর্মীও প্রশাসনের মুখাপেক্ষী

THEBENGALPOST.IN
শালবনী করোনা হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে তৎপরতা (ফাইল ও প্রতীকী ছবি) :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ‘করোনা জয়ী’ বা ‘করোনা মুক্ত’ যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছিল, স্বাধীনতা দিবসের দিন (১৫ আগস্ট, ২০২০)। এবার, এই করোনা জয়ী (Covid Warriors) দের, করোনা হাসপাতালের “রোগী সহায়তা কেন্দ্র” এ নিযুক্ত করা হচ্ছে। জেলার তিনটি করোনা হাসপাতালে মোট ১৮ জনকে নিযুক্ত করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। গত ২১ শে সেপ্টেম্বর, সোমবার জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল এই মর্মে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশানুযায়ী, জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে লেভেল ফোর শালবনী ‌সুপার স্পেশালিটি, আয়ুশ কোভিড হসপিটাল (আবাস, খাসজঙ্গল) এবং ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নির্মিত সেফ হোমের জন্য মোট ১৮ জন’কে (৬ জন করে তিনটি হাসপাতালে) চিহ্নিত করে, তাঁদের নাম পাঠিয়ে দিয়েছেন জেলাশাসকের দপ্তরে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “কোভিড জয়ী বা কোভিড ওয়ারিয়র্স দের নিযুক্ত করা হচ্ছে, রোগী সহায়তা কেন্দ্রে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত করোনা হাসপাতালে কোনো রোগী সহায়তা কেন্দ্র ছিল না। সম্প্রতি, রাজ্য সরকার সেই অনুমোদন প্রদান করেছেন, রোগীর পরিজনদের এবং সর্বোপরি, রোগীদের উৎকণ্ঠা ও সুবিধার কথা ভেবে। সেই সূত্র ধরেই, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

THEBENGALPOST.IN
আয়ুশ হাসপাতাল (ফাইল ‌ছবি) :

.

জেলার অন্যতম প্রধান তিনটি করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে (শালবনী, মেদিনীপুর ও ঘাটাল) ৬ জন করে মোট ১৮ জনকে আপাতত নিযুক্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই তাঁরা কাজে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। এই ১৮ জনের তালিকায় মেদিনীপুর শহরের দু’জন করোনা জয়ী যেমন আছেন শালবনী ব্লকের ৩ জন, কেশপুর ব্লকের ৬ জন, গড়বেতার ১ জন এবং ঘাটাল ও দাসপুর মিলিয়ে ৬ জন আছেন। ইচ্ছুক প্রার্থীদের আবেদন এবং তাদের এলাকা’র ভিত্তিতে আপাতত এই ১৮ জনকে তিনটি করোনা হাসপাতালের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। ২ জন করে তিনটি শিফটে (পর্বে) প্রতিদিন এই ৬ জন, রোগী সহায়তা কেন্দ্রে রোগীর পরিজনদের তথ্য প্রদান থেকে শুরু করে নানা ভাবে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী।

THEBENGALPOST.IN
রোগী‌ সহায়তা কেন্দ্র করোনা হাসপাতালে :

.

এদিকে, শালবনী ‌সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী সহায়তা কেন্দ্রে ২০১৫ সাল থেকে নিযুক্ত থাকা ৭ জন কর্মী এই মুহূর্তে কর্মচ্যুত হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। জেলা প্রশাসনের কাছে তাই তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদেরও এই কাজে নিযুক্ত করা হোক। শালবনী‌ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০২০’র জুন মাস থেকে লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল হওয়ার পর, এই ৭ জনের কাজ চলে গিয়েছিল। কারণ, করোনা হাসপাতালে এতদিন রোগী সহায়তা কেন্দ্রের অনুমোদন ছিল না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, সেই অনুমোদন প্রদান করেছে রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন। তাই, পুরানো কর্মীরাও নিজেদের কাজ ফিরে পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন। আবেদনকারী’দের মধ্য থেকে বর্ণালী সামন্ত, সৌমেন সিংহ, বাপ্পা মাল প্রমুখরা বলছেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে। আমাদের কথাও একটু ভাবুক জেলা প্রশাসন। এই আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যে তাঁরা জেলাশাসক, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, জেলা সভাধিপতি, জেলার জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রমুখ’কে চিঠি দিয়েছেন। এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “ওনাদের আবেদনের বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছে।” জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র জানিয়েছেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।”

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে