পদ পেলেন মুকুল অনুগামীরা, পদ-হীন মুকুল একুশ সালের মুখ্যমন্ত্রী পদেরও নেপথ্য নায়ক, বলছেন অনুগামীরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মুকুল রায় ও অমিত শাহ

বিশেষ প্রতিবেদন, নবীন কুমার ঘোষ, ৪ জুন : করোনা মোকাবিলা ও লকডাউন পরিস্থিতির জন্য, কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত করে রেখেছিল। বঙ্গ বিজেপি’র সিদ্ধান্তে শীর্ষ নেতৃত্ব একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে ব্যাপক রদবদল ঘটালেন। যদিও এই ঘোষণা মার্চের মধ্যে হওয়ার কথা, করোনা জেরেই তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। সভাপতির পদে আগেই  পুনর্বহাল হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের সামনে রাজ্য কমিটির নতুন পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করেন তিনি। তার পাশাপাশি মোর্চা সংগঠনগুলিরও সভাপতির নাম ঘোষণা করেন তিনি।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ:

২০২১ এর নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসবে, এটাই দেখতে চেয়েছেন অমিত শাহ। গোপন রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সেই সূত্র ধরেই নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির অঙ্গুলিহেলনে। শুধু তাই নয়, সেই অনুযায়ী রাজ্য কমিটিতে মুকুল অনুগামীরা শীর্ষ নেতৃত্বে স্থান পেয়েছেন। তবে লক্ষ্যনীয় যে, মুকুল রায় বঙ্গ-বিজেপি’তে পদ-হীনই থেকে গেছেন। প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে, তবে কি ২০২১ এ মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুকুল রায়! সেজন্যই কি মুকুল অনুগামীদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়ে আসা হল? বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এই নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পর থেকে।

[ আরও পড়ুন -   শূন্য নবান্নে বিজেপি'র অভিযান! মেদিনীপুর থেকে কলকাতা, হুঙ্কার পুলিশের বিরুদ্ধে ]

অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আসা বিধায়ক ও সাংসদের গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবার বঙ্গ বিজেপির বিভিন্ন কমিটিতে। কেন্দ্রীয় ও সর্বভারতীয় নেতৃত্ব অতীতে বড় বড় দায়িত্ব দিয়েছেন মুকুল রায়’কে। মুকুল সব পরীক্ষাতেই বেশ ভালো ভাবে পাশ করে জায়গা করে নিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। রাজ্যের তাবড় মুকুল অনুগামীদের মতে, ২০২১ এ মুকুল রায় মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী পদেরও নেপথ্য নায়ক !

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মুকুল রায় ও অমিত শাহ:

মেদিনীপুরের সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সোমবার দুপুরে বিজেপির সদর দপ্তর থেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে জানিয়েছেন এই কমিটিতে ১২ জন সহ-সভাপতি ১০ জন সম্পাদক ও ৫ জন সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও মোর্চাগুলির সংগঠনের সভাপতি পরিবর্তন করে নতুন মুখ আনা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থান দেওয়া হয়েছে মুকুল ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের। শাসকদল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা’কে হারিয়ে বিষ্ণুপুরের সাংসদ হয়েছে সৌমিত্র খাঁ। মুকুল ঘনিষ্ঠ এই সাংসদকে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে সৌমিত্র খাঁ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য হিসেবে রাজ্য যুব সভাপতি হয়েছিলেন তিন মাসের জন্য। পরে, জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় কারণে, তাঁকে সরিয়ে নিজের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে নিযুক্ত করেন! সেই মুকুল ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র এবার বিজেপি যুব মোর্চার দায়িত্বে এলেন। এছাড়াও মুকুল ঘনিষ্ঠ বাগদার বিধায়ক দুলাল বরকে তপশিলি মোর্চার সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুকুলের হাত ধরে বিজেপি’তে আসা হবিবপুরের তিন বারের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মুকে এই কমিটির তপশিলি উপজাতি মোর্চার সভাপতি পদের দায়িত্বে আনা হয়েছে। এছাড়াও মুকুল ঘনিষ্ঠ, সদ্য আসা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত’কে রাজ্য কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁকে করা হয়েছে, রাজ্য কমিটির সম্পাদক। তৃণমূল রাজনীতিতেও সব্যসাচী বরাবরই মুকুল রায়ের অনুগামী ছিলেন। নিজের রাজনৈতিক গুরু বলে পরিচয়ও দিয়েছেন। সেই গুরুর হাত ধরেই প্রাপ্তিযোগ বলে মনে করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল! সেই সঙ্গে, লোকসভা ভোটের আগে দল বদল করা, কোচবিহার থেকে বিজেপি’র সাংসদ নিশীথ প্রামানিক রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি পদে এসেছেন। দীর্ঘদিন মুকুল রায়ই তাঁর রাজনৈতিক পথ প্রদর্শক হয়ে ছিলেন। রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি ভারতী ঘোষ থেকে মাহফুজ খাতুন অনেকেই মুকুল ঘনিষ্ঠ।মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল।উল্লেখযোগ্য ভাবে বাদ পড়ে গেছেন বিজেপির সভাপতি দীর্ঘদিনের চন্দ্র বসু। বারংবার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন, তাই এবার পুরোপুরিভাবে তাকে ছেঁটে ফেলা হল বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি কিষান মোর্চার সভাপতি মহাদেব সরকার ও সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন।

[ আরও পড়ুন -   "আগে ছিল বাংলার গর্ব মমতা, এখন বাংলার গর্ব আলকায়দা" মেদিনীপুরে অগ্নিমিত্রা'র অগ্নিবাণ ]
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌমিত্র খাঁ :

*বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি*

 

সভাপতি : শ্রী দিলীপ ঘোষ

সহ সভাপতি :

——————-

সুভাষ সরকার

বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী

প্রতাপ ব্যানার্জি

রাজকমল পাঠক

বাপি মিত্র

রীতেশ তিওয়ারী

জয়প্রকাশ মজুমদার

অর্জুন সিং

অনিন্দ্য ব্যানার্জি

দীপেন প্রামাণিক

ভারতী ঘোষ

মাফুজা খাতুন

 

সাধারণ সম্পাদক :

————————–

সায়ন্তন বসু

লকেট চ্যাটার্জি

জ্যোতির্ময় মাহাতো

সঞ্জয় সিং

রথীন্দ্রনাথ বসু

[ আরও পড়ুন -   ইতিহাস গড়ল ভারত! এসে গেল করোনা'র ভ্যাকসিন, মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতিও মিলল ]

 

সম্পাদক :

—————-

তুষার মুখার্জী

দিপাঞ্জন গুহ

বিবেক সোনকার

সব্যসাচী দত্ত

ফাল্গুনী পাত্র

তনুজা চক্রবর্তী

সংঘমিত্রা চৌধুরী

শর্বরী মুখার্জী

অরুণ হালদার

তুষার ঘোষ

 

মোর্চা :

———

মহিলা মোর্চা- অগ্নিমিত্রা পাল

যুব মোর্চা- সৌমিত্র খাঁ

কিষাণ মোর্চা- মহাদেব সরকার

এস সি মোর্চা- দুলাল বর

এস টি মোর্চা- খগেন মুর্মু

সংখ্যালঘু মোর্চা- আলি হোসেন ।