মেদিনীপুর শহরে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস পুলিশ সুপারের তরফে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১ মার্চ: মেদিনীপুর শহরে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলেন জেলার সাংবাদিকদের। প্রসঙ্গত, গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, জেলা শহর মেদিনীপুরে হাতি প্রবেশ করার দিন রাত্রি ৯ টা নাগাদ, মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পার্থসারথি পাল কর্তব্যরত দুই সাংবাদিককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও চড়থাপ্পড় মারেন বলে জেলার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালেই জেলার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে, জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে লিখিত ও মৌখিক ভাবে অভিযোগ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) অম্লান কুসুম ঘোষের কাছে। ওইদিন জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে শহরের বাইরে থাকায় জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি! কিন্তু, তিনি সাংবাদিকদের অভিযোগপত্র পেয়েছিলেন। এরপর, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি নিজে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাঁদের মুখ থেকে পুরো বিষয়টি মন দিয়ে শোনেন। এই বিষয়ে তিনি নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে, ওইদিন জেলা শহরে ঘটে যাওয়া ‘অবিশ্বাস্য’ ঘটনার (বুনো হাতি প্রবেশ করার) কথা তুলে ধরে পুলিশের উপর থাকা অস্বাভাবিক মানসিক চাপ ও দুঃশ্চিন্তার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে পুলিশকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়েছে এবং অনভিপ্রেত ওই ঘটনাটি যে রাস্তায় ঘটেছিল, সেই রাস্তা দিয়ে ‘গজরাজ’ যায়নি। তাই, রাস্তা ফাঁকা করার অজুহাত দিয়ে, আইসি পার্থসারথি পাল কিছুটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই দুই সাংবাদিকের উপর চড়াও হন। গলায় ঝোলানো সাংবাদিকের পরিচয় পত্র বা হাউস কার্ড দেখানোর পরও তিনি ক্ষান্ত হননি! এমনকি, তাঁর সঙ্গে থাকা সিভিক পুলিশ আইসি’কে নিরস্ত করতে চাইলেও, আইসি রীতিমতো মারমুখী মেজাজে ছিলেন! সোমবার সন্ধ্যায়, অন্যান্য কয়েকজন সাংবাদিকও ইতিপূর্বে আইসি পার্থসারথি পালের অভব্য আচরণের দিকটি তুলে ধরেন এবং অতীতে তাঁদের প্রতিও অনভিপ্রেত আচরণের কথা জেলা পুলিশ সুপার’কে জানান। সব শুনে এদিন জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানান, তিনি অভিযুক্ত আই সি’র সাথে কথা বলে, এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করবেন এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে এই আশ্বাস পেয়ে নিগৃহীত দুই সাংবাদিক সহ জেলার সকল সাংবাদিক আশ্বস্ত হন।

thebengalpost.in
সোমবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছেন জেলার সাংবাদিকরা :

[ আরও পড়ুন -   কোভিড কো-মর্বিডিটিতে মাত্র পঞ্চাশেই চলে গেলেন মেদিনীপুরের আরেক প্রিয় মানুষ, সাংস্কৃতিক জগতে শোকের ছায়া ]

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শহর মেদিনীপুরে ঘটে যায় এক বিস্ময়কর ঘটনা! একটি বুনো হাতি, জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জ-অলিগলি-রাজপথ পেরিয়ে সোজা মেদিনীপুর শহরে প্রবেশ করে। ধর্মা থেকে হবিবপুর হয়ে রাজাবাজার-পঞ্চুরচকে অবস্থিত মেদিনীপুর কলেজ (স্বশাসিত) এর মধ্যে ঢুকে পড়ে। রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে যায়! এরপর প্রায় আধঘণ্টার প্রচেষ্টায়, রাত্রি ঠিক ৯ টা নাগাদ, মেদিনীপুর কলেজ থেকে বনদপ্তরের কর্মীরা মত্ত মাতঙ্গ’কে বাইরে বের করে। তবে, ততক্ষণে সারা শহরে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। আতঙ্কিত গজরাজ ছুটতে ছুটতে কলেজের উল্টোদিকের গলিপথ ধরে পৌঁছে যায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেই সময় অতি উৎসাহী জনতার ভিড় সরাতে তৎপর ছিল মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এদিকে এই পুরো ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে শহরের রাস্তায় ছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। নিজেদের কর্তব্যপালনে দায়বদ্ধ সাংবাদিকরা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ভাগ হয়ে ছবি বা ভিডিও সংগ্রহের কাজ করছিলেন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে। রাজাবাজার থেকে এল আই সি’র দিকে যাওয়ার রাস্তায় টরেন্টো লজের কাছে ছিলেন নিউজ 18 বাংলার সাংবাদিক শোভন দাস এবং তাঁর সহযোগী ঝাড়েশ্বর দোলই। ইতিপূর্বেই অবশ্য মত্ত সেই মাতঙ্গ’টি (হাতিটি) মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে গিয়েছিল অন্য রাস্তা দিয়ে। তা সত্ত্বেও পুলিশ তার কর্তব্য পালন করছিলেন, শহরের সমস্ত রাস্তা থেকেই ভিড় সরিয়ে। সেই সময়ই, রাত্রি ৯ টা ১০ নাগাদ ওই রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে ছবি সংগ্রহ করছিলেন শোভন ও ঝাড়েশ্বর। শোভনের গলায় ঝোলানো ছিল সাংবাদিকের পরিচয়পত্র। আই সি পার্থসারথি পাল মারমুখী মেজাজে তাঁর সামনে উপস্থিত হলে, শোভন নিজের পরিচয়পত্র দেখায়। কিন্তু, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আইসি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে মারতে শুরু করেন। এক সিভিক পুলিশ আইসি’কে থামাতে গিয়েও ব্যর্থ হয়! এই ঘটনায় জেলার সাংবাদিকরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়। তাঁদের মতে, “জেলা শহরে হাতি প্রবেশের মতোই, পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও সাংবাদিকদের প্রতি আইসি’র এই ন্যক্কারজনক ব্যবহার নজিরবিহীন! দিনরাত পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার পরও তাঁর এই ধরনের ব্যবহার কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না। ওইদিন উচ্চ পদস্থ অফিসার সহ আরও অনেক পুলিশকর্মী ছিলেন, কিন্তু আইসি ছাড়া কেউই এই ধরনের নিন্দনীয় কাজ করেননি। তাই জেলা পুলিশের কাছে আমাদের আবেদন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, এইভাবে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের একজন সৈনিকের প্রতি অভব্য আচরণ করার জন্য।” জেলার সাংবাদিক মহলের তরফে এই আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে যে, যদি একজন সাংবাদিক ওই আইসি’র কাছ থেকে এরকম দুর্ব্যবহার পান, তাহলে সাধারণ মানুষ যে কিরকম ব্যবহার পাবেন, তা বোধহয় সহজেই অনুমেয়!

thebengalpost.in
ঘটনার পরের দিনই লিখিতঅভিযোগ জানানো হয়েছিল সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে :

[ আরও পড়ুন -   পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩ জন এসডিও ই একসাথে বদলি! ২ জন এডিএম সহ বদলি একাধিক আধিকারিক ]