পুজোর আগেই মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে আছড়ে পড়ল করোনা-ঢেউ, সংক্রমিত ৪৬, জেলায় দু’দিনে ৩৩৮, রাজ্যে ৭৫০০, চরম সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দপ্তরের

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল উন্নত পরিষেবা নিয়ে হাজির :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ১৬ অক্টোবর: পুজোর আগেই সবেগে করোনা’র ঢেউ আছড়ে পড়ল বাংলায়। গত দু’দিনে বা ৪৮ ঘন্টায় সারা রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৭৫০০ জন! বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) করোনা বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন ৩৭২০ জন এবং শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) করোনা বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন রেকর্ড ৩৭৭১ জন। সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, চিন্তিত স্বয়ং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। তিনি সেই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন, “এখনই যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, পুজোর পর তা আরো বাড়তে পারে!” প্রতি ১০০ টি নমুনা’তে ১০ জন করে করোনা সংক্রমিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসচিব দিতে শুরু করে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি জেলাতেই সেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরেও গত কয়েক সপ্তাহে বেশ অনেকটাই কমে গিয়েছিল সংক্রমণ। কিন্তু, গত দু’তিন দিন ধরে ফের করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন ১৬০-১৭০ জন করে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ১৭৮ জন এবং ১৬০ জন। গত ৪৮ ঘন্টায় সংক্রমিত ৩৩৮ (জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী)। তবে গত দু’দিনে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১ জনের। মোট মৃত্যু ১৮১। গত দু’দিনে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। এই মুহূর্তে জেলায় চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৯৯ (১৫ অক্টোবরের রিপোর্ট অনুযায়ী)। এর মধ্যে, হাসপাতাল আইশোলেশনে আছেন ২৩৯ জন। বাকি, ১০৬০ জন হোম আইশোলেশনে আছেন। মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১২২৯১।

thebengalpost.in
শুক্রবার সন্ধ্যার করোনা বুলেটিন :

.

এদিকে, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) মেদিনীপুর শহরে মাত্র ২০ জন সংক্রমিত হলেও, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শহরে এক ধাক্কায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে হয়েছে ৪৬! পরিবার থেকে গোষ্ঠী সংক্রমণের লক্ষণ একেবারে সুস্পষ্ট। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, পরিবারের পঞ্চাশোর্ধ্ব বা ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ় ও প্রৌঢ়া’রা করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন, যাঁরা নিঃসন্দেহে গোষ্ঠী সংক্রমণের স্বীকার। কারণ, তাঁদের বেশিরভাগ জনই বাড়িতে থাকেন, নূন্যতম বাইরে বেরোন এবং সেটাও মাস্ক পরিধান করে। তা সত্বেও সংক্রমিত হওয়া মানেই, এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ ভাবে। আরো, সতর্কতা ছাড়া, পুজোর পর সত্যিই হয়তো আরো বিপদ আসতে চলেছে! মেদিনীপুর শহরের নজরগঞ্জে সংক্রমিত হয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি (70 ও 65)। রাঙ্গামাটি এলাকায় একই পরিবারের ৩ জন (64m, 54f, 15m) ছাড়াও, ওই এলাকার আরো একজন প্রৌঢ় (62) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। পালবাড়িতেও একই পরিবারের ২ জন (43m ও 34f) ছাড়া আরো এক যুবক (32) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গোলকুঁয়াচকে এক প্রৌঢ়ার (63) করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পুলিশ লাইনে এক যুবক (29) এবং এক ব্যক্তি (49) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, বার্জটাউন (32m), কেরানিতলা (34f), নতুন বাজার (37m), মিত্র কম্পাউন্ড (53f), কুইকোটা (49m) প্রভৃতি এলাকাতেও ১ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের এক কর্মী’র (40m) রিপোর্ট বৃহস্পতিবার রাতে পজিটিভ এসেছে। অপরদিকে, কোতোয়ালী থানার অধীনে আরো ১৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে আরটি-পিসিআর অনুযায়ী, যাঁদের এলাকা‌ সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে, এই ১৮ জনের মধ্যেও পরিবার সংক্রমণ সুস্পষ্ট। অন্যদিকে,‌শহরতলীর গুড়গুড়িপাল থানা এলাকার কালগাঙ (২ জন) এবং গুড়গুড়িপাল এলাকায় এক শিশুকন্যা (২) ও তার মা (২০) ছাড়াও মোট ৯ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সবমিলিয়ে শহর ও শহরতলীতে বৃহস্পতিবার রাতে ৪৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে আছড়ে পড়ল করোনা-ঢেউ :

.

অন্যদিকে, খড়্গপুর শহরে বুধবার করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩৮ জন।‌ এই তালিকায় খড়্গপুর লোকাল থানার ২ জন পুলিশ কর্মী নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। খড়্গপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুকোমল কান্তি দাস জানিয়েছেন তাঁরা ২ জন হলেন এস.আই সুশান্ত মান্ন (৪৭) এবং এএসআই সুদীপ্ত মহাকুল (৫৫)। এছাড়াও, খড়্গপুর শহর ও গ্রামীণ মিলিয়ে বুধবার রাতে আরো ৩৫ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, যাদের মধ্যে রেলসূত্রে ৭ জন। বৃহস্পতিবার, খড়্গপুর শহর ও শহরতলীতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন, ২৪ জন। এর মধ্যে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী ও তাঁর পরিবারের ১ জন আছেন। রেল সূত্রে সংক্রমিত হয়েছেন ১২ জন। এছাড়াও, ইন্দা (৩ জন), বারোবেটিয়া ভবানিপুর, মালঞ্চ, গোয়ালাপাড়া প্রভৃতি এলাকা থেকে সংক্রমিতের সন্ধান পাওয়া গেছে। সবংয়ে গত দু’দিনে ৭ জন (বুধবার ৫ ও বৃহস্পতিবার ২ ) জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গড়বেতা ৩ নং অর্থাৎ চন্দ্রকোনা রোডে গত ২ দিনে ৭ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। বেলদা, দাঁতন, গড়বেতা, কেশপুর, গোয়ালতোড় প্রভৃতি এলাকাতেও সংক্রমণ মোটামুটিভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। এই সমস্ত এলাকাতে পুজোর বাজারের প্রভাব অনেকটাই কম বলেই হয়তো সংক্রমণও বেশ কম, এমনটা মনে করছেন অনেকেই। শালবনীতেও গত ২ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ৪ জন।‌ শালবনীর ২ জন ছাড়াও, গড়মালের এক যুবক (২০) এবং মালিদা (পিড়াকাটা)’র এক প্রৌঢ় (৭০) এর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল :

এদিকে, ঘাটাল মহকুমার ঘাটাল, দাসপুর ১, দাসপুর ২ এবং ক্ষীরপাই মিলিয়ে গত ২ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, ৪৯ জন। বুধবার ২৯ জন এবং বৃহস্পতিবার ২০ জন। ঘাটাল ও ক্ষীরপাই পৌরসভার একাধিক জন সহ গ্রামীণ এলাকাতেও সংক্রমণের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্যনীয়। বৃহস্পতিবারের আরটি-পিসিআরে ডেবরা’তে করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর না থাকলেও, বুধবার ডেবরায় করোনা’র ঝড় উঠেছিল! সংক্রমিত হয়েছিলেন ২০ জন। আলিসাগড়, বড়গড়, গোপীনাথপুর, গোবিন্দপুর, ভবানীপুর, রুস্তমপুর, রাধাবল্লভপুর, চন্ডিপুর, অযোধ্যাপুর, কমলপুর, ত্রিলোচনপুর, রাধামোহনপুর, অকালপৌষ, সত্যপুর তিন নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২০ জন‌ করোনা সংক্রমিতের সন্ধান পাওয়া গেছে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে