দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ৩ জুন : দেশে আক্রান্ত আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে শেষ ২৪ ঘন্টায়; আর রাজ্যে চারশো ছুঁই ছুঁই (৩৯৬)! রেকর্ড প্রতিদিনই ভাঙবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন। সব কিছু মেনে নিয়েই ‘গা ছাড়া ভাব’ সাধারণ মানুষেরও। লকডাউন উঠে গেছে মানে ‘করোনা’ও পালিয়ে গেছে, এমনটাই মনে করছেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু, সংক্রমণ যে এর ফলেই বেড়ে চলেছে, আর পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসন কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের সে বিষয়ে হুঁশ নেই কারুর। এর সঙ্গে আছে, ভিন রাজ্য থেকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে ফিরে আসা এ রাজ্যের শ্রমিকদের প্রবল চাপ! আজ সারাদিনে শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দিকে নজর দিলেই বোঝা যায়, এই পরিস্থিতিতেও মানুষ কতটা অসচেতন হতে পারে!
খড়্গপুরের এক যুবক (১৮), মহকুমা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাবার সরবরাহ করত। ১৭ মে খড়্গপুরের শ্রমিক স্পেশালের শ্রমিকদেরও খাদ্য সরবরাহ করতে গিয়ে শ্রমিকদের সংস্পর্শে আসে এবং জ্বর-গলা ব্যথার উপসর্গ উপলব্ধি করে। এর পরেও তার মালিক (খাদ্য সরবরাহ সংস্থা’র ঠিকাদার) তাকে ছুটি না দেওয়ায় সে নিজের কাজ চালিয়ে যায়। ২৩ মে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং আজ সকালে রিপোর্ট আসে পজিটিভ! ইতিমধ্যে, শুধুমাত্র অসচেতনতাবশত কতজনের সংস্পর্শে এসেছে ইয়ত্তা নেই। ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে বলে জানা যায়, প্রয়োজনে আরো কিছুজনকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে।
এদিকে, আজ সন্ধ্যায় শালবনীর চকতারিনীতে বাঁকুড়ার যে যুবকের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে, তিনি তো রীতিমতো ‘ধরা ছোঁয়ার বাইরে’ এক অবতার! হাসপাতালে নমুনা দিয়ে এসেও, দাপিয়ে বেড়ালেন আত্নীয় বাড়ি থেকে শুরু করে শালবনীতে অনুষ্ঠিত একটি রক্তদান শিবিরে। বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, ২২ মে বাঁকুড়ায় লালারসের নমুনা দিয়ে এসে, ২৩ মে শালবনীতে আত্মীয় বাড়িতে (হবু শ্বশুর বাড়িতে) আসেন এবং ২৪ মে শালবনীতে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে রক্তদানও করেন! এক্ষেত্রেও অজ্ঞতা, অসচেতনতা আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, শুধু ওই যুবকই নন, সংশ্লিষ্ট অনেকেই! যদিও যুবকের পরিচিতদের মাধ্যমে ওই যুবক দাবি করেছে, তার বাড়ি বাঁকুড়ার রাইপুরে হলেও লকডাউনের আগে থেকেই সে শালবনীতে ছিল এবং মাঝখানে একদিনের জন্য বাঁকুড়াতে গেলে গ্রামবাসীদের চাপে তাকে নমুনা দিতে হয়, ২২ মে। তবুও প্রশ্ন উঠছে, এই জেলা থেকে ওই জেলা হওয়ার পরও তার রক্তদান করা উচিৎ ছিল কিনা!
পরিযায়ী বা ভিন রাজ্যের সূত্র ধরে শালবনী আর সবং ব্লকও করোনা খাতায় নাম তুলে দিয়েছে আজ (২ জুন) সকালেই। দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিয়েছিল, তাই দুজনেই ভর্তি ছিলেন মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতাল লেভেল – ২ (গ্লোকালে) তে। মহারাষ্ট্র থেকেই দুই পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছিলেন। শালবনীর দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভুলা (মধুপুর) গ্রামের যুবক অসুস্থ ছিলেন মুম্বাই থেকেই। ২২ মে গ্রামে ফিরে ২৪ মে প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমে আয়ুশ (করোনা হাসপাতাল-১) এবং পরে গ্লোকালে (লেভেল-২) ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা যায়। আজ রিপোর্ট আসে পজিটিভ। সবং এর আক্রান্ত মোহাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দুবরাজপুরের যুবক। ২৫ মে ফিরেছিলেন মহারাষ্ট্রের কুড়লা থেকে। উপসর্গ থাকায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল, মেদিনীপুর শহরের লেভেল-২ গ্লোকালে। আজ রিপোর্ট আসে পজিটিভ।







