বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ ও সায়ক পন্ডা, ২৯ জুলাই : প্রায় ৩৪ বছর পর ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত! রাজীব গান্ধীর আমলে, জাতীয় শিক্ষানীতি ১৯৮৬’র পর এল “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১৯” । শিক্ষায় নবজাগরণের অগ্রদূত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসেই (২৯ জুলাই) এল সেই জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া। এর প্রথম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, “কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক” নামটি বদলে রাখা হয়েছে “কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক”।

৩৪ বছর পরে একেবারে নতুন ভাবে সাজানো হলো সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থাকে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে সর্বমোট ৮ টি সেমিস্টার। নতুন তৈরি জাতীয় এই শিক্ষানীতিতে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে মাধ্যমিকের মতো পরীক্ষা। দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষাও তুলে দেওয়া হচ্ছে। মাতৃভাষা এবং আঞ্চলিক ভাষাতে পঠনপাঠনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, স্নাতকের সময়সীমা আরো এক বছর বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের মোট পঁয়তাল্লিশ হাজার কলেজের মধ্যে বিভিন্ন কলেজকে তাদের গ্রেডের ভিত্তিতে স্বশাসনের অধিকার দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, UGC, NCERT র মতো একাধিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থাকে সরিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কেবলমাত্র একটি সংস্থা। যার নাম দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। স্কুল শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষারও এমন বদল রাজ্য সরকার কিভাবে গ্রহণ করে সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।

শিক্ষাব্যবস্থার ১০+২ কাঠামো ভেঙে ৫+৩+৩+৪ (১৫) কাঠামো করা হবে। প্রথম কাঠামো করা হবে ৩-৮ বছর, দ্বিতীয় কাঠামো ৮-১১ বছর, তৃতীয় কাঠামো ১১-১৪ বছর, এবং চতুর্থ কাঠামো ১৪-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে। দশম শ্রেণীর পরীক্ষা বাতিল করে এরপর থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৮ টি সেমেস্টার হবে, অর্থাৎ উচ্চশিক্ষার জন্য ১৪-১৮ বছর পর্যন্ত ধরা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার এই চার বছরে সাইন্স, আর্টস, কমার্স এর স্ট্রিম আর থাকবেনা। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দসই বিষয় নিয়ে পড়তে পারবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু হবে কোডিং। মিউজিক, স্পোর্টস প্রভৃতি বিষয়েও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ভারতে শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হবে এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও বিদেশে শাখা খুলতে পারবে। আরো বেশি জোর দেওয়া হবে ভারতীয় জ্ঞান, ভাষা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, টেকনোলজি প্রভৃতি বিষয়ে। এছাড়া শুধু হিন্দি বা ইংরেজী নয় আঞ্চলিক ভাষাতেও ই-কন্টেন্ট তৈরি হবে।
২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়তে এই নীতি চালু করার প্রচেষ্টা করা হবে। উচ্চমানের এই শিক্ষা পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে দেশের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এই পর্যায়ে জাতীয় মিশন তৈরি হবে তৈরি হবে একাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিট তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মজুত করা হবে।








