মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ জুলাই : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আনলক-পর্বে রাজ্যে আপাতত প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিহত করতেই, এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে কঠোর ভাবে পালিত হয়েছে লকডাউন। লকডাউন সফল করতে, দ্বিগুণ উদ্যমে পথে নেমেছিলেন পুলিশ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মীরা। সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের পর্যালোচনায় আনলক পর্বের প্রথম লকডাউন একপ্রকার সফল! সপ্তাহের দ্বিতীয় লকডাউন আজ (শনিবার), আর কয়েকঘন্টা পর থেকেই শুরু হচ্ছে, পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি’র মধ্য দিয়ে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও সফল হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের লকডাউন। শনিবারের লকডাউনও সফল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে! ইতিমধ্যে, তীব্র সংক্রমণের আবহে, বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন সপ্তাহে দু’দিন ছাড়াও, বিভিন্নভাবে লকডাউন বৃদ্ধি করছে প্রয়োজন অনুযায়ী। পশ্চিমের অন্যতম করোনা-প্রাণকেন্দ্র খড়্গপুরেও তাই কঠোর লকডাউন পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সপ্তাহে দু’দিন ছাড়াও। ইতিমধ্যে, শুক্রবার সন্ধ্যায় খড়্গপুরের মহকুমাশাসক বৈভব চৌধুরী একটি বিজ্ঞাপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫ তারিখ লকডাউনের পর, খড়্গপুর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত কড়া লকডাউন জারি থাকবে, দুপুর দেড়টা থেকে পরদিন সকাল ৬ টা পর্যন্ত। এর মধ্যে ২৯ জুলাই বুধবার সারাদিনই (সকাল ৬ টা থেকে রাত্রি ১০ টা) লকডাউন জারি থাকবে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী। তবে, ২৬, ২৭, ২৮ ও ৩০ জুলাই কেবল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা ৩০ মিঃ পর্যন্ত দোকানদানি খোলা থাকবে, তারপর সব বন্ধ।

এরকমই এক পরিস্থিতিতে, শুক্রবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন। মেদিনীপুর শহরের কোতোয়ালী থানার অধীন আবাস এবং আমতলাতে এবার করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেল। আয়ুশ হাসপাতাল থেকে গত ২২ জুলাই তাঁদের নমুনা সংগৃহীত হয়েছিল, ২৪ জুলাই রাতে রিপোর্ট আসে পজিটিভ! শহরে ঢোকার দুই অভিমুখে দু’জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। এই পরিস্থিতিতে শহরে শনি’র লকডাউন যে আরো কড়াকড়ি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য! গ্রাম থেকে শহর, খড়্গপুরেও চলছে সংক্রমণ। খড়্গপুর টাউন থানার অধীন (বারবেটিয়া, চাঙ্গুয়াল) দু’জন এবং লোকাল থানার আধীন (নিউ সেটেলমেন্ট) ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন নতুন করে।

করোনার বাড়বাড়ন্ত অব্যাহত দাসপুর (দাসপুর-২ এ ৪ জন), ঘাটাল (পৌরসভা-৪ নং ও ৫ নং ওয়ার্ড ও গ্রামীণ এলাকা মিলিয়ে ৪ জন) এলাকাতও। গড়বেতার আমলাশুলিতে ২ জন এবং ধাদিকা গ্রামে ১ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে। চন্দ্রকোনা-১ এর খাপুর এলাকায় একই পরিবারের ৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় সবমিলিয়ে এদিন ২১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে।







