দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদক, মেদিনীপুর, ২৩ ডিসেম্বর: একজন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ‘সর্পবন্ধু’। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের প্রতিটি প্রান্তেই “সর্পবন্ধু” হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। বাড়িতে সাপ বেরোলে শুধুমাত্র ফোন করলেই সর্প উদ্ধারে সবার আগে পৌঁছে যান দেবরাজ। এবার, তাঁর উদ্দেশ্যে সহযোগিতার হাত যাঁরা বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁরা অন্য কেউ নয়, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ”। অবিভক্ত মেদিনীপুর জুড়ে হাত বাড়ালেই যাদের প্রেম-ভালোবাসা-সেবা-সাহচর্য-আন্তরিকতার স্পর্শ পাওয়া যায়! তাই, অবিভক্ত মেদিনীপুরের সমাজবন্ধু বললে তাঁদের প্রতি অত্যুক্তি করা হয়না! লকডাউন থেকে সাধারণ দিন, তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবিভক্ত মেদিনীপুর অবহিত ইতিমধ্যেই। খাদ্যপ্রদান থেকে রক্তদান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে চিকিৎসার অর্থ তুলে দেওয়া, ছাত্রসমাজ তুলনাহীন। দেবরাজের যাতায়াতের সুবিধার্থে, বুধবার তাঁরা একটি মোটরবাইক (সেকেন্ড হ্যান্ড) তুলে দিলেন।
প্রায়শই, দেবরাজের কাছে শুধু শহর নয়, দূরদুরান্তের প্রত্যন্ত গ্রামে থেকে ফোন আসে বিষধর সাপকে উদ্ধার করে বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু, দেবরাজের নিজস্ব কোনো বাহন না থাকায় এতদিন নির্ভর করতে হতো অন্যদের ওপর। এবার সেই নির্ভরতা থেকে এক্কেবারে ছুটি পেলেন দেবরাজ। ছাত্রসমাজের পক্ষে এই বাইক প্রদানে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী, সম্পাদক রাজকুমার বেরা,সহ সভাপতি আগন্তুক ঘোড়াই,সহ সম্পাদক অনিমেষ প্রামানিক, কোষাধ্যক্ষ কৌশিক কঁচ, অভিজিৎ চক্রবর্তী, শিশির দত্ত সহ প্রমুখরা। এই প্রসঙ্গে ছাত্রসমাজের সভাপতি কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী বলেন যে, “পরিবেশে সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মাথায় রেখে দেবরাজের কাজকে আরও উৎসাহিত করতে শুভানুধ্যায়ী মানুষজনের থেকে সাহায্য নিয়ে একাজ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।” এদিকে সর্পবন্ধু দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন যে, “ছাত্রসমাজের থেকে এই বাইক পেয়ে যেমন আমার কাজ অনেক সহজ হয়েছে, তেমন কাজের দায়িত্বও অনেকগুন বেড়ে গেল।”