সংবাদ শিরোনামে শীতের হাত থেকে চির-পরিত্রাণ! কালভার্টের নীচে বাস করা পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭ টি আদিবাসী পরিবার পেলেন বাসস্থান

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ জানুয়ারি: গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ ফের নিজের ভূমিকায় উজ্জ্বল! গত চার বছর ধরে রাজ্য সড়কের নীচে বসবাসকারী ৭ টি আদিবাসী পরিবার অবশেষে জীবন ধারনের অন্যতম প্রধান উপাদান ‘বাসস্থান’ পেলেন। প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার, ঘাটাল থেকে চন্দ্রকোনাগামী রাজ্য সড়কে মনসতলায় একটি কালভার্টের নীচে আশ্রয় নিয়েছিল গৃহহীন ৭টি আদিবাসী পরিবার। গত ১৮ ই জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই, সেখানে যান চন্দ্রকোনার তৃণমূল বিধায়ক ছায়া দলুই। ওই পরিবারগুলির হাতে ওইদিনই শীতবস্ত্র তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের পুর্নবাসন দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারীও। তিনিও তাঁদের হাতে কম্বল তুলে দেন। দেওয়া হয় খাবারও। এরপর, গতকাল চন্দ্রকোনার সভা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি ঘোষণা করেন, বুধবারের মধ্যেই ওই ৭ টি পরিবারের হাতে ‘বাংলা আবাস যোজনা’ প্রকল্পের অনুদান তুলে দেওয়া হবে। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদও জানান। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আজ (বুধবার) পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের কার্যালয়ে বিধায়ক ছায়া দোলুই ওই ৭ টি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হন। বাংলা আবাস যোজনা‌ প্রকল্পের আওতায়, ওই মনসতলা এলাকাতেই দ্রুত ওই ৭ টি পরিবারের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়,‌ বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী’কে।

thebengalpost.in
আজ জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিধায়ক ছায়া দোলুই এর সঙ্গে আদিবাসী পরিবারগুলি :

বিজ্ঞাপন

[ আরও পড়ুন -   মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব! ছবি সহ প্রমাণ দিলেন আমেরিকার বিজ্ঞানী ]

উল্লেখ্য যে, আশ্রয় না থাকায় গত প্রায় চার বছর ধরে কালভার্টের নীচেই আস্তানা তৈরি করে ছিল পরিবারগুলি। একপ্রকার খোলা আকাশের নীচেই দিন কাটাচ্ছিলেন কালু সরেন, জবা সরেন, রূপাই সরেন প্রমুখরা। ভূমিহীন-গৃহহীন ওই পরিবারগুলির অন্যতম সদস্যা রূপাই মুর্মু সোমবার জানিয়েছিলেন, ‌”আমাদের বাড়ি ছিল চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের দিয়াসা গ্রামে। বছর চারেক আগে রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের সময় আমাদের মতো মোট ৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তার পর থেকে আজও বাসস্থান জোটেনি।” বিধায়ক ছায়া দোলুই তৎক্ষণাৎ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন বাড়ি তৈরি করার বিষয়ে। আজ (বুধবার) সেই আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেওয়ার পর বিধায়িকা জানালেন, “প্রথমত, রাস্তা সম্প্রসারণের সময় ওনাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল, কিন্তু ওনারা অনড় ছিলেন। এরপর, ওনাদের একবার বাড়ি তৈরির অর্থ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই টাকায় ওনারা বাড়ি তৈরি না করে খরচ করে ফেলেছিলেন। এবার তাই, জেলা প্রশাসন এবং আমাদের সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর ওনাদের হাতে সরাসরি টাকা দেওয়া হয়নি, বিডিওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওনাদের বাড়ি, সৌচাগার সবকিছুই দ্রুত মনসাতলার চিহ্নিত এলাকাতে তৈরি করে দেওয়া হবে।” আপাতত, চার বছরের জীবন-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। পরিত্রাণ শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার হাত থেকে। খুশি কালু, জবা, রূপাই’রা। তৃপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের সাংবাদিকরাও।

[ আরও পড়ুন -   পুজোর মুখেই জনপ্রিয় অনলাইন সংস্থার নামে ১ লক্ষ টাকা প্রতারণা খড়্গপুরে, অভিযোগ দায়ের টাউন থানায় ]