মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ জুলাই : “গোষ্ঠী সংক্রমণ কিছু জায়গায় হচ্ছে”, রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকরা তা স্বীকার করে নিচ্ছেন। গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে বলেই, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় মাত্রাতিরিক্ত হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে! কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগণা, হাওড়া প্রভৃতি এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণের চিত্র ফুটে উঠছে বারবার; তুলনায় ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে সংক্রমণ কম! এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার করোনা হটস্পট হিসেবে প্রথম থেকেই চিহ্নিত হয়ে আছে, দাসপুর, ঘাটাল, খড়্গপুর প্রভৃতি কয়েকটি এলাকা। সেইসব এলাকাতেই বেশিরভাগ সংক্রমণ! তবে, এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন ভাবে সারা জেলাতেই সংক্রমণ হচ্ছে। ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকরা ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছেন। আর, এখন শুধু সংক্রমণের পরিধি তাঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এক্ষেত্রে, ভিন রাজ্য যোগ যেমন আছে, তেমনই কলকাতা-হাওড়া যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ার ফলে। আর, যেহেতু এটি ভয়াবহ সংক্রামক তাই সামান্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিংবা চিকিৎসা করাতে গিয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখো যাচ্ছে, এক-একটি পরিবারের ৫-৭ জন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন একেকদিনে! এক্ষেত্রে, উপসর্গ না থাকাটাই হয়তো এই সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ, উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে তিনি পরিবারের সবার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশে যাচ্ছেন। শুরু হয়েছিল, জেলার প্রথম করোনা আক্রান্তের (দাসপুর-১ এর নন্দনপুর-১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজামপুর) পরিবার দিয়ে। এবার তা জেলার বিভিন্ন জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় আসা জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিবার-সংক্রমণের রেকর্ড ভেঙে গেল, চন্দ্রকোনারোড এবং দাসপুর-১ এর দুটি পরিবারকে কেন্দ্র করে। এ প্রসঙ্গে এও উল্লেখ্য যে, গতকালের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলার মোট আক্রান্ত ৩১ জনের মধ্যে ২০ জনই একই পরিবারের; আর রেল-পরিবার ধরলে ২৬ জনই একই বৃত্তে বসবাসকারী!
গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যার রিপোর্ট অনুযায়ী
দাসপুর-১ নং ব্লকের জগন্নাথবাটী এলাকায় দেখা যাচ্ছে, একই পরিবারের ৮ থেকে ৮০ সকলেই করোনা আক্রান্ত! ৮৫ বছরের বৃদ্ধা যেমন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ঠিক তেমনই ১০ বছরের বালকও করোনা
আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে, চন্দ্রকোনারোডের (সাতবাঁকুড়া) একটি পরিবারের অবস্থাও একই রকম। গত ২২ জুলাই ওই পরিবারের ৬ জনের শরীরে মিলেছিল, করোনা ভাইরাসের জীবাণু; শনিবার রাতে আরো ৫ জনের রিপোর্ট এল পজিটিভ! সবমিলিয়ে একই
পরিবারের ১১ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। এদিন, করোনা আক্রান্ত ৩১ জনের মধ্যে ডেবরা’র খাসকেন্দুবাগিচা’র (গোলগ্রাম ৮ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত) একই পরিবারের ৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মা (৩১) ও তাঁর দুই
সন্তান (১৪ ও ৯) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বাবা’র রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দাসপুর- ২ নং ব্লকেও একটি পরিবারের দু’জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবংয়ে এদিন ৪ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সবং এর
মির্জাপুরের ১ জন, জুলকাপুরের ১ জন, বারসাড়ার ১ জন এবং নারায়নবাড়ের ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের খড়্গপুর শাখার ৬ জন কর্মী নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলের
কোয়ার্টারে থাকতেন। আক্রান্ত এই ছয় রেল কর্মচারীর মধ্যে সাউথসাইডে ৩ জন, ওল্ড সেটেলমেন্টে ১ জন, গোলবাজারে ১ জন এবং চাঁদমারিতে ১ জন থাকতেন। এদিকে, মেদিনীপুর শহরের এক প্রৌঢ়ার রিপোর্টও গতকাল পজিটিভ এসেছে। প্রবল শ্বাসকষ্ট
থাকার কারণে, তাঁকে গতকাল রাতেই লেভেল ফোর করোনা হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।







