জঙ্গলমহলের ভাদুতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মুকুটে আবারো নতুন পালক, নাবালিকার বিয়ে রুখে পুরস্কৃত ছাত্রী বৈশাখীও

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ১৫ আগস্ট : মুখ্যমন্ত্রী’র স্বপ্নের প্রকল্প “কন্যাশ্রী” র জন্মদিন (১৪ আগস্ট) উপলক্ষে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তিনটি বিদ্যালয় ও তিনটি মহাবিদ্যালয়’কে পুরস্কৃত করা হল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। শুক্রবার, মেদিনীপুর কালেক্টরেট বা জেলাশাসকের দপ্তরে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে, ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প সফল ও সার্থক ভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য, জেলার যে তিনটি বিদ্যালয় কে পুরস্কৃত করা হল, সেগুলি হল- শালবনীর ভাদুতলা বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, কেশিয়াড়ির কেশিয়াড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোহনপুরের গোমুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়। একইসাথে, যে তিনটি মহাবিদ্যালয় (কলেজ)’কে পুরস্কৃত করা হল, সেগুলি হল- দাঁতন ভট্টর কলেজ, চন্দ্রকোনা রোডের গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজ এবং দাসপুরের চাঁইপাট কলেজ। জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) প্রণব বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা ও পঞ্চায়েত) প্রতিমা দাস, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামণি মান্ডি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র প্রমুখরা এই পুরস্কার তুলে দেন বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের প্রধানদের হাতে।

thebengalpost.in
জেলাশাসকের কার্যালয়ে তুলে দেওয়া হল পুরস্কার ও সার্টিফিকেট :

[ আরও পড়ুন -   রাখীবন্ধনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং মানবপ্রেমের নজির শালবনী ও ডেবরাতে ]

অপরদিকে, সারা জেলার দু’জন “কন্যাশ্রী’কেও এদিন (১৪ আগস্ট) পুরস্কৃত করা হয়, বাল্যবিবাহ কিংবা নাবালিকার বিয়ে রোখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে, সমাজের এক সার্থক “কন্যাশ্রী” হয়ে ওঠার জন্য! প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের, শালবনী ব্লকের ভাদুতলা বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বৈশাখী দাস এই দুই কন্যাশ্রীর অন্যতমা। শালবনী ব্লক প্রশাসন তথা বিডিও সঞ্জয় মালাকার গতকাল নিজের দপ্তরে, বৈশাখী’র হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিদ্যালয়ের গর্বিত প্রধান শিক্ষক হিসেবে ডঃ অমিতেশ চৌধুরী বললেন, “আমাদের কন্যাশ্রী ক্লাবের নাম বহ্নিশিখা। বৈশাখী’র মতো মেয়েরাই যার রসদ। পাড়ায়, গ্রামে বা পরিচিত এলাকায় বাল্যবিবাহ বা নাবালিকা বিবাহ রুখতে গোপনে এরা যোগাযোগ করে প্রশাসন কিংবা বিদ্যালয়ের সাথে। আর তাতেই এসেছে সাফল্য। সেই সাফল্যের পুরস্কারই আজ বৈশাখী পেয়েছে প্রশাসনের কাছ থেকে। উৎসাহিত করার জন্য ধন্যবাদ জানাই প্রশাসনকে। আমরা, শিশু ও কিশোরীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধেও লড়াই করার জন্য ক্লাব গড়ে দিয়েছি, সেখানেও সাফল্য আসছে। এভাবেই প্রশাসনের সমর্থন ও সহযোগিতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”

thebengalpost.in
ছাত্রী বৈশাখী দাসের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন বিডিও সঞ্জয় মালাকার :

উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিদ্যালয়ের পরিবেশ কিংবা সার্বিক পরিকাঠামোর বিচারে জঙ্গলমহলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নির্মল বিদ্যালয় পুরস্কার’ এবং ‘শিশু মিত্র’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডঃ চৌধুরী “শিক্ষারত্ন ২০১৯” পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

[ আরও পড়ুন -   "মেদিনীপুর কারও বাপের সম্পত্তি নয়", ঘাটালের জনপ্লাবন থেকে হুঙ্কার অভিষেকের ]