বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ১৪ আগস্ট : স্বাধীনতা দিবসের পূর্বেই স্বেচ্ছায় আয়কর দানের মাধ্যমে দেশপ্রেম প্রদর্শনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে আয়করদাতাদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কিত সনদও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৩ আগস্ট, ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’ ব্যবস্থার ঘোষণাও করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, “১৩০ কোটির মধ্যে কেবমাত্র দেড় কোটি ভারতবাসী আয়কর মেটান। নিজের আত্মাকে প্রশ্ন করুন, দুদিন বাদেই ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের স্মরণ করে দেখুন, আপনাদেরও মনে হবে আমাদেরও কিছু করতে হবে”। গত ৬ বছর ধরেই আয়কর আদায় ব্যবস্থাকে ‘সিমলেস’, ‘পেনলেস’ এবং ‘ফেসলেস’ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন মোদি। তিনি আরো বলেছেন “আইনের জটিলতা আগের থেকে অনেক কমেছে, করের হার কমেছে, সেইসঙ্গে মামলাও কমেছে। তার ফলে আয়কর রিটার্নের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি বেড়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে আয়কর ব্যবস্থা এখনও বেশ জটিল আছে। বহু মানুষ সেই কারণেই স্বেচ্ছায় কর জমা করতে চান না। অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ এখনো শূন্য অংকের রিটার্ন জমা করছেন। ফলে অর্থমন্ত্রক রাজস্ব আদায়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছেন, তা পূরণ করতে আয়করের অফিসাররা কড়া হতে বাধ্য হন। এমনকি কি ধরনের আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে তারা কর আদায়ের নোটিশ নিয়ে হানা দেবেন তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।”

বৃহস্পতিবারই আয় করদাতাদের উদ্দেশ্যে সম্মান জানানোর ব্যবস্থা চালু করেন মোদি। তিনি দাবি করেন এর মাধ্যমে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’, ‘ফেসলেস আপিল’ ও করদাতাদের সনদের মত বহু ব্যবস্থা সংস্কার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকেই অ্যাসেসমেন্ট ও করদাতাদের সনদ চালু হয়েছে, ‘ফেসলেস আপিল’ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হবে।
ফেইসলেস অ্যাসেসমেন্ট কিভাবে কাজ করবে?
১. আয়কর দাতাদের আয়কর অফিসে যেতে হবে না। আয়করের হিসেব-নিকেশ বা অ্যাসেসমেন্ট এর জন্য আয়কর অফিসারদের সঙ্গে করদাতাদের মুখোমুখি দেখা হবে না।
২. তথ্য পরিসংখ্যান ঘেঁটে কৃত্রিম প্রযুক্তি দ্বারা করদাতা বাছাই হবে।
৩. করদাতা যে শহরের বাসিন্দা হবেন, সেটি বাদে অন্য কোন শহরের অফিসারেরা হিসেব-নিকেশ করবেন। স্ক্রুটিনি ও রিভিউ আবার অন্য শহরে হবে। কোন করদাতার হিসেব-নিকেশ কোথায় হবে তা কম্পিউটার ঠিক করবে।
৪. যেকোনো আয়কর নোটিশ কেন্দ্রীয়ভাবে জারি হবে। প্রতিটি নোটিশ চিহ্নিত করতে আলাদা নম্বর থাকবে। আয়কর অফিসারেরা আলাদাভাবে কাজ না করে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।

ফেসলেস অ্যাসেসমেন্টের ব্যতিক্রম
১. বড় মাপের জালিয়াতি
২. বড় অংকের কর ফাঁকি
৩. বেনামী সম্পত্তি
৪. আন্তর্জাতিক কর এবং কালো টাকার অভিযোগ।
আয়কর দাতাদের অধিকার
১. আয়কর দপ্তর, করদাতাদের সঙ্গে ভদ্রতা ও পেশাদারিত্বের ব্যবহার করবেন এবং দ্রুত পরিষেবা দেবেন।
২. সন্দেহের কারণ না করদাতাদের সৎ ভেবেই কাজ করতে হবে। করদাতাদের সাথে কোন দুর্ব্যবহার করা যাবে না।
৩. আইন অনুযায়ী প্রাপ্য করই আদায় করা হবে।
৪. করদাতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলেও পরিচয় গোপন রাখা হবে।
৫. আয়কর দপ্তর এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য করদাতাদের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা থাকবে।
৬. আইনের অনুমোদন না থাকলে করদাতাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে।
৭. করদাতারা নিজের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবেন।
৮. করদাতাদের অভিযোগ জানানোর ও তার সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে।
৯.নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষভাবে কর সংক্রান্ত যাবতীয় বিবাদ মিটানো হবে।
১০. আয়কর বিভাগ করদাতাদের সঠিক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাবে।
১১. নির্দিষ্ট সময় অন্তর আয়কর দপ্তর পরিষেবার খতিয়ান জানাবে।

করদাতাদের দায়িত্ব
১. সততার সঙ্গে আয়কর জমা করবেন এবং রায়ের বিষয়ে সমস্ত তথ্য জানাবেন।
২. করদাতারা তাদের করার বিষয়ে অবহিত থাকবেন, আয়কর দপ্তরকে সমস্ত নথি ঠিকমতো জমা দেবেন।
৩. তার প্রতিনিধি কি নথি জমা দিচ্ছেন কত টাকা কর মেটাচ্ছেন সেই সম্পর্কে সমস্ত জ্ঞান রাখবেন এবং কিছু জানতে চাওয়া হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা করবেন।
যদিও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন আয়কর আদায় করতেও কি মোদীর ভরসা জাতীয়তাবাদ? আয়করের কারচুপি রুখতে কি সেই জন্য দেশপ্রেমকে কাজে লাগাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী? অন্যদিকে শিল্পমহলের দাবি এবার আয়কর রিফান্ড এবং পুরোনো বিবাদ মেটানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত কেন্দ্রের।







