উপসর্গহীন ৯০ শতাংশ! জেলার ১২১৫ জন সংক্রমিত গৃহ নিভৃতবাসে

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ আগস্ট : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেই অনুযায়ী জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬৩ জন (রাজ্যের করোনা বুলেটিনের সাথে এই পরিসংখ্যান সম্পর্কিত নয়)। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন (২৮ আগস্ট সকাল পর্যন্ত), ২০৫০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। চিকিৎসাধীন আছেন ১৪৫২ জন। এই চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ (৮৩.৬৮) মানুষ সম্পূর্ণভাবে উপসর্গহীন, তাই তাঁরা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করছেন বা নির্দেশ মতো ওষুধ সেবন করছেন। অপরদিকে, ১৪৫২ জনের মধ্যে ২৩৭ জন জেলার ২ টি করোনা হাসপাতাল (শালবনী ও আয়ুশ) এবং ৩ টি (আয়ুশ সেফ হোম, ডেবরা ও খড়্গপুর) সেফ হোমে চিকিৎসাধীন আছেন। এঁদের মধ্যে আবার অনেকেই স্বল্প উপসর্গযুক্ত, অর্থাৎ জ্বর, গলাব্যথা সহ সামান্য উপসর্গ আছে, তাই তাঁদের সেফ হোমে রাখা হয়েছে।

[ আরও পড়ুন -   করোনা ঝড় অব্যাহত! একদিনে ১১৯৮ জন আক্রান্ত রাজ্যে ]
thebengalpost.in
আয়ুশ সেফ হোম :

জেলা স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য বা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহ আগেও (২২ আগস্ট) যেখানে, পাঁচটি করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে মিলিতভাবে ৩৯০ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন, এই মুহূর্তে সেখানে মাত্র ২৩৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে, লেভেল ফোর শালবনীতে আছেন মাত্র ৬০ জন (শয্যা ২০০), আয়ুশ হাসপাতালে আছেন ৭৯ জন (শয্যা ১০০), আয়ুশ সেফ হোমে আছেন ৪১ জন (শয্যা ১০০), ডেবরা সেফ হোমে আছেন ২৯ জন (শয্যা ৪০) এবং খড়্গপুর সেফ হোমে আছেন ২৮ জন (শয্যা ৫০)। অপরদিকে, এই মুহূর্তে ১২১৫ জন আছেন হোম আইশোলেশন বা গৃহ নিভৃতবাসে। সুতরাং, জেলা স্বাস্থ্য ভবনের ২৮ আগস্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ৮৪ শতাংশ মানুষ (১৪৫২ এর মধ্যে ১২১৫ জন) সম্পূর্ণভাবে উপসর্গহীন! জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “উপসর্গহীন আক্রান্তদের মধ্যে যাঁদের বাড়িতে সঠিক বা উপযুক্ত পরিবেশ আছে, তাঁদের এখন গৃহ নিভৃতবাসে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে, ওষুধ কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের বাড়িতে উপযুক্ত পরিবেশ নেই, তাঁদের সেফ হোমে রাখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ সংক্রমিত ব্যক্তিই উপসর্গহীন।” স্বাস্থ্য ভবন ও প্রশাসন সূত্রে এও জানা গেছে, বিভিন্ন ব্লকে আরো কয়েকটি সেফ হোম গড়ে তোলা হবে। তবে, আপাতত এই পরিসংখ্যান যে জেলাবাসীকে অনেকখানি আশ্বস্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য! কিন্তু, তুলনামূলকভাবে যাঁরা অসুস্থ (ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কিডনির সমস্যায় ভোগেন) বা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খান, তাঁদের যথাসম্ভব বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়াও হচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা প্রশাসনের তরফ থেকে। আর, সকল জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে সচেতনতার বার্তা।

[ আরও পড়ুন -   সরকারি হিসেবেই ডবল সেঞ্চুরি ঝাড়গ্রামের, নতুন করে আক্রান্ত ২৫ জন, সুস্থ হলেন ১৭ জন ]