বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ১০ আগস্ট : “আত্মনির্ভর ভারতবর্ষ” গড়ার উদ্দেশ্যে, যেখানে বন্ধ করা হচ্ছে একে একে চীনা পণ্য, সেখানে বাদ যায়নি বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রতিরক্ষার সরঞ্জামও। এবার রাইফেল, কামান, যুদ্ধে ব্যাবহৃত হালকা হেলিকপ্টার, বিভিন্ন মিসাইল সহ ভারি পণ্যবাহী বিমান সহ প্রায় ১০১ টি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্র। রবিবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এই খবর প্রকাশ করেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। আগামী ২০২০-২০২৪ এর মধ্যে, ধাপে ধাপে এই আমদানি বন্ধ করার চেষ্টা হবে। যার ফলে আগামী ৬-৭ বছরে অন্তত ৪ লক্ষ্য কোটি টাকার বরাত বাইরে যাওয়ার বদলে ভারতীয় সংস্থাগুলি পাবে বলে দাবি করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বহু বছর ধরেই অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম আমদানিতে বিশ্বের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, যে সমস্ত পন্যতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, কেবলমাত্র সেই গুলোর জন্যই, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছিল ৩.৫ লক্ষ্য কোটি টাকা। সুতরাং সেই পরিমাণ সরঞ্জাম যদি দেশের মধ্যেই তৈরি হয় তাহলে দেশের কোম্পানিগুলি কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট স্বনির্ভরশীল হবে।

অপরদিকে কেন্দ্রের এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একমাত্র আমদানিকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তাই তাদের এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ নিজেদের উপরেই তা চাপানো! প্রতিরক্ষামন্ত্রী যাকে রবিবারের ঐতিহাসিক ঘোষণা বলে দাবি করেছিলেন, আসলে তা নিছকই সচিবদের প্রতি তাঁর সরকারি নির্দেশ”। তিনি আরো বলেন, “আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বেশ খটমট শব্দ! এই ক্ষেত্রে এর মানে হলো এখন যে যে সরঞ্জাম আমদানি করা হয়, আগামী ৩-৪ বছরে সেগুলিই তৈরীর চেষ্টা করা হবে। আমদানি বন্ধ করা হবে তারপরে। হলে একটা আশঙ্কা থেকেই যায়, এখন আমদানি করা সরঞ্জামগুলি তৈরি করার পদ্ধতি যখন এই দেশের সংস্থাগুলি রপ্ত করবে, ততদিনে বিশ্ববাজারে উন্নততম প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে যাবে। ফলে নতুন সরঞ্জাম সেনাবাহিনীর তিন বিভাগ পাবে তো?” এর উত্তরে রাজনাথ আশ্বাস দিয়েছেন, “তিনটি বিভাগের বাহিনীর সাথেই আলোচনায় বসার পরেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য রাজনাথ সিং জানান, এই বছরের বাজেটের মধ্যেই ৫২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল শুধুমাত্র দেশীয় সংস্থাগুলিকে দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে পা রেখেছে টাটা, মাহিন্দ্রা, রিলায়েন্স, আদানি প্রভৃতি সংস্থাগুলি। তবে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে সত্যিই কি আধুনিকতম প্রযুক্তিতে দেশের মাটিতে তৈরি হবে এই সব সরঞ্জামগুলি? নাকি ভারতের কারখানায় পণ্য তৈরি করবে সেই বিদেশি সংস্থাই! আমদানি ছেঁটে ফেলতে গিয়ে পণ্যের গুণমান এর সঙ্গে আপস করা হবে নাতো!







