বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ১৬ জুলাই : দিন দিন বেড়েই চলছে করোনার সংক্রমণ। গোটা বিশ্বব্যাপী এই মারণ রোগের ফলে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৩.৪ মিলিয়ন মানুষ, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ। বিজ্ঞানী থেকে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা দিন রাত খেটে চলেছেন এই সংক্রমক রোগের টিকা আবিষ্কার করার প্রচেষ্টায়। ইতিমধ্যেই এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইতে প্রায় ১৫৫ টিরও বেশি ভ্যাকসিন আবিষ্কার প্রার্থী রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে, ২৩ টি ভ্যাকসিন মানব দেহে পরীক্ষার জন্য মোটামুটি ভাবে প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে আবার ৩ টি ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংক্রমণ প্রতিরোধের বিরুদ্ধে তার সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করা চলছে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের লড়াইয়ে অন্যতম যোদ্ধা। ইতিমধ্যেই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করার জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার সাথে জোট বেঁধেছে এবং ওষুধ নির্মাতা এটি অনুমোদনের আগেই দুই মিলিয়ন উৎপাদন করার জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সেপ্টেম্বরে ভ্যাকসিন “লঞ্চ” এর পরিকল্পনা অনুসারে এগিয়ে চলেছে অক্সফোর্ড। প্রথম ধাপের সম্পূর্ণ ফলাফল পরবর্তী সপ্তাহে “দ্য ল্যানসেটে” প্রকাশিত হবে। সূত্র অনুযায়ী, এই ভ্যাকসিনটি covid-19 এর বিরুদ্ধে অন্যান্য ভ্যাকসিনের তুলনায় ব্যতিক্রমী ভাবে দুই দিক দিয়ে প্রতিরক্ষা সরবরাহ করবে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেকোনো সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ভ্যাকসিনের অত্যাবশ্যকীয় দুটি কাজ হল, অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল তৈরি করা। অ্যান্টিবডি শরীরের মধ্যে থাকা ভাইরাস চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করে। অন্যদিকে টি-সেল শুধু মাত্র অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে না বরং ভাইরাসে আক্রান্ত কোষগুলোকে কাজ করে এবং ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে। আবার কোন ভাইরাসে একবার যদি কেউ সংক্রমিত হন, তাহলে তার কোষ সৃষ্টি হওয়া ভাইরাসের মেমোরি সেল গুলি নিষ্ক্রিয় করতেও এই টি-সেল কাজ করে। অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানী ছাড়া গিলবার্ট এর গবেষকদের দাবি, তাদের তৈরি ভ্যাকসিনে অ্যান্টিবডির সাথে এই টি-সেলও থাকবে। যেটি এখনও পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন প্রার্থী দাবি করতে পারেনি। মডার্না, ফাইজার, বায়োএনটেকের মতো বহু সংস্থা টিকা আবিষ্কার করার চেষ্টা চালালেও কেউই এখনও পর্যন্ত তাদের টিকায় টি-সেল থাকার কথা উল্লেখ করেনি। এই টিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক বর্ষীয়ান বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সূত্র ধরে এক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে অক্সফোর্ড জেনার ইনস্টিটিউটের তৈরি টিকায় অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল দুটোই রয়েছে।
তবে নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন বলের মতে, “আমি শুধু এটা বলতে পারি যে কোন টিকা যদি এই দুই উপাদানে তৈরি করতে সক্ষম হয় তাহলে, অন্য টিকা যেগুলি একটি উৎপাদন তৈরি করে তাদের থেকে এগিয়ে থাকবে।” অক্সফোর্ডের এই টিকাটি অনুমোদিত হয়েছিল, বার্কশায়ার রিসার্চ এথিকস কমিটির দ্বারা। এই সংস্থার চেয়ারপার্সন ডেভিড কার্পেন্টার বলেছেন, কেউই আগে থেকে প্রকৃত দিনক্ষণ বলতে পারেনা, যেকোনো সময় যেকোনো বিষয়ে আগে পরে হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যেতে পারে সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এগোচ্ছেন।







