বিধানসভার আগে ফের পাল্লা ভারী মুকুল গোষ্ঠীর! নাড্ডার দক্ষিণবঙ্গ সফরের আগেই বিজেপির সাংগঠনিক পদে বড়সড় রদবদল

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ২৮ অক্টোবর: বিজেপি’র রাজ্য সাংগঠনিক পদে বড়সড় রদবদল করা হল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রদবদল যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ! বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) এর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দীর্ঘদিন ধরে এই পদে থাকা বর্ষীয়ান সুব্রত চট্টোপাধ্যায়’কে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হল, তুলনায় নবীন অমিতাভ চক্রবর্তী’কে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ এর ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে যিনি সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ডেপুটি হিসেবে অর্থাৎ সহ-সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

thebengalpost.in
রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে অমিতাভ চক্রবর্তী :

.
.

সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি, দিল্লিতে দিলীপ ঘোষ তাঁর (সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের) হয়ে জোর সওয়ালও করেছিলেন, এই পদে রেখে দেওয়ার বিষয়ে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডাও একটা সময় চেয়েছিলেন, বিধানসভা পর্যন্ত সুব্রত চট্টোপাধ্যায় কেই দায়িত্বে বহাল রাখতে। কিন্তু, সম্প্রতি বিজেপি’তে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর মতামতকেও গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই, দিলীপ ঘোষের সাথে সৌমিত্র খাঁ’র যুব সংগঠন (ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার কমিটি ভেঙে দেওয়া) নিয়ে বিরোধ বাঁধে। যদিও সৌমিত্র খাঁ নিজের উদ্যোগে সেই বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ ও সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের উপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলেই সূত্রের খবর! সেজন্যই বিধানসভা নির্বাচনের আগে আর কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়ে আসা হল তুলনামূলক ভাবে নরমপন্থী ও সহনশীল মানসিকতা সম্পন্ন অমিতাভ চক্রবর্তী’কে। যিনি আর এস এস ছাড়াও চুটিয়ে ছাত্র রাজনীতি (এবিভিপি) করেছেন। তাই,দলের ছাত্র-যুব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতার মানসিকতা বুঝতে পারবেন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মতামত।

thebengalpost.in
অমিতাভ চক্রবর্তী :

.

এদিকে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর অনুগামীরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেন, ঠিক তেমনই মুকুল গোষ্ঠীর পালে হাওয়া লাগল বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। কারণ, সম্প্রতি বাংলা তথা দক্ষিণবঙ্গ সফরে আসছেন সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি নাড্ডা। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর বাংলা সফরে আসছেন তিনি। ৬ নভেম্বর বর্ধমানে বৈঠক করবেন তিনি। বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, আসানসোল, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া, ৫ সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে ওই দিন বৈঠক করবেন জে.পি নাড্ডা। ৭ তারিখ জঙ্গলমহল এলাকার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি র সাথে বৈঠক হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবে, তার আগেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলে মুকুল রায়’কে গুরুত্ব দেওয়ার সাথে সাথে, তৃণমূল সহ অন্য দল থেকে আসা অন্যান্য নেতাদেরও সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর এ নিয়েই অভিযোগ ছিল, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি। বাংলার মসনদ দখলের ক্ষেত্রে তাই আর কোন ঝুঁকি নিতে রাজি নয়, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পছন্দকে উপেক্ষা করেই সেক্ষেত্রে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল দল! একুশের বিধানসভার আগে যা যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ।

thebengalpost.in
সুব্রত চট্টোপাধ্যায় ও দিলীপ ঘোষ :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে