পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুস্থতার হার প্রায় ৭৩ শতাংশ, মৃত্যুর হার ২.৩৩ শতাংশ, দেখে নিন কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কতজন এবং কতগুলি শয্যা খালি আছে

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ আগস্ট : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন থেকে গতকাল (১০ আগস্ট) পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেই অনুযায়ী জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৩২৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, ৯৬৬ জন এবং চিকিৎসাধীন আছেন মাত্র ৩২৯ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। জেলা স্বাস্থ্য ভবন প্রদত্ত এই তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সুস্থতার হার প্রায় ৭২.৮৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার প্রায় ২.৩৩ শতাংশ। চিকিৎসাধীন আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ জনই সুস্থ হয়ে ওঠার পথে বলেও জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও হাসপাতাল সূত্রে। এই মুহূর্তে, যে ৩২৯ জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের মধ্যে ২১৮ জন জেলার তিনটি করোনা হাসপাতাল বা সেফ হোমে চিকিৎসাধীন। শালবনীতে ১৩২ জন, আয়ুশে ৫১ জন এবং ডেবরাতে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি ১১১ জন উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন কোয়ারেন্টিন সেন্টারে এবং হোম আইশোলেশনে আছেন বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে।

[ আরও পড়ুন -   পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট আক্রান্ত কতজন? কতজন করোনা হাসপাতালে ভর্তি? কতজন হোম আইশোলেশনে? দেখে নিন ]
thebengalpost.in
জেলা স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য (১০ আগস্ট) :

এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য ভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি করোনা হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে এই মুহূর্তে (১১ আগস্ট পর্যন্ত), করোনা শয্যা আছে যথাক্রমে ২০০ (শালবনী), ১০০ (আয়ুশ) এবং ৪০ (ডেবরা) টি, সবমিলিয়ে ৩৪০ টি। ১০ আগস্ট রাতে যাঁরা আক্রান্ত (প্রায় ৭৭ জন) হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও বেশ কিছু সংখ্যক উপসর্গহীন, তাই তাঁরা হোম আইশোলেশন বা কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকবেন হয়তো। কাজেই এই মুহূর্তে, জেলার করোনা হাসপাতাল বা সেফ হোম মিলিয়ে প্রায় ৮০’র কাছাকাছি শয্যা খালি থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যেহেতু প্রতিদিনই বিভিন্ন করোনা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হচ্ছেন করোনা সংক্রমিতরা।

[ আরও পড়ুন -   মহামারীর মধ্যেও বেতন বকেয়া দশ-বারো মাস ধরে! পিএইচই'র অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে কাঁপল মেদিনীপুর কালেক্টরেট ]
thebengalpost.in
রাজ্যের বুলেটিন (১০ আগস্ট) :

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, রাজ্যের করোনা বুলেটিনের সঙ্গে জেলার তথ্যভিত্তিক পার্থক্য প্রথম দিন থেকেই বিদ্যমান। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী (১০ আগস্ট), পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট আক্রান্ত ১৫৯৭, সুস্থ ১২৩৪, চিকিৎসাধীন ৩৪৪ এবং মৃত্যু ১৯ জনের। এ প্রসঙ্গে জেলার তৎকালীন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরিশ চন্দ্র বেরা’র যে বক্তব্য ছিল, বর্তমান মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডলও তাই জানিয়েছেন, “পশ্চিম মেদিনীপুরের স্থায়ী ঠিকানা, অথচ কর্মসূত্রে কলকাতা বা বাইরের জেলাতে থাকেন এবং চিকিৎসাও হচ্ছে অন্য জেলাতে, তাঁদের তথ্য জেলার কাছে থাকেনা, রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছে যায়, নিয়মানুযায়ী।”
গতকাল (১০ আগস্ট) এই তথ্য নিয়ে, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গীও আমাদের জানিয়েছিলেন, “জেলা থেকে প্রতিদিন তথ্য নিয়মানুযায়ী পাঠিয়ে দেওয়া হয়, রাজ্য ওই তথ্য সংগ্রহ করে পরের দিন আপডেট করে, সঙ্গে এই জেলার ঠিকানা অথচ কলকাতা বা ভিন জেলায় চিকিৎসাধীনদের তথ্যও যুক্ত করা হয়। সেজন্যই রাজ্যের হিসেবে জেলার আক্রান্তও বেশি, সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বেশি। জেলা স্বাস্থ্য ভবনে আসা সমস্ত তথ্যই এখানে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।”

[ আরও পড়ুন -   শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে প্রশান্ত কিশোর, ঘাটালে 'নেত্রী' আর 'আন্দোলন' কে স্মরণ করেও 'এগিয়ে যাওয়ার' বার্তা মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের ]