বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ ও শ্রীনিকা ঘোষ, ৩১ জুলাই : গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ জুলাই, রিহা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিহার আদালতে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন, সুশান্তের বাবা কে.কে সিং। এরপরই বিহার পুলিশের একটি
দল সুশান্তের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত করতে মুম্বাই আসে।
সুশান্তের বাবা কে.কে সিং এফআইআর (FIR) এ অভিযোগ করেন-
১. রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছেন এবং তাকে জোর করে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছিলেন।
২. রিহা চক্রবর্তী আর্থিক দিক থেকে
সুশান্তের প্রচুর ক্ষতি করেছেন এবং তার ফ্যামিলির থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
৩. রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিলেন, তার সাথে প্রতারণা করেছিলেন এবং তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছিলেন।
৪. রিহা চক্রবর্তী সুশান্ত’কে ভয় দেখিয়ে ছিলেন যে তিনি মিডিয়ার সামনে তার মানসিক অসুস্থতা এবং তার চিকিৎসার ব্যাপারে বলে দেবেন।
৫. রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের সাফল্যকে তার নিজের বলিউড ক্যারিয়ার গঠনে সিঁড়ি
হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন।
৬. রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন এবং তাকে আর্থিক দিক থেকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।
৭. রিহা চক্রবর্তী ইচ্ছে করে সুশান্তকে মানসিক অবসাদের মধ্যে
রাখতেন এবং তার মানসিক অসুস্থতার জন্য তাকে ভুল ওষুধ খাওয়াতেন।
৮. রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের ফোন নম্বর চেঞ্জ করে দিতেন, যাতে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন।
৯. রিহা চক্রবর্তী সুশান্ত’কে
কুর্গে জৈব চাষের কাজের জন্য যেতে দেননি।
১০. রিহা চক্রবর্তী সুশান্ত’কে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং বেশি পরিমাণে ভুল ওষুধ খাওয়ান এবং মিডিয়ার সামনে ডেঙ্গির চিকিৎসার ওষুধ বলেন।
১১. রিহা চক্রবর্তী
সুশান্তর একাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলে নেন।
১২. যখন রিহা বুঝতে পারেন যে সুশান্তের সব টাকা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সুশান্ত আর তার কোন কাজে লাগবে না, তখন রিহা তার নিজের সমস্ত জিনিস নিয়ে সুশান্তের ফ্ল্যাট
ছেড়ে চলে যান।
১৩. সুশান্ত সিং রাজপুত ফোনে তার বাবা কে.কে সিং’কে জানান রিহা এবং তার পরিবার সুশান্তকে কিছুতেই সুস্থ ভাবে থাকতে দেবেনা, তাকে পাগল বানিয়ে দেবে!
১৪. সুশান্ত সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতেন
যে তাকে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সুশান্তের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি সুশান্তের পরিবার মুম্বাই পুলিশের ডিজিপি’কে ফোন করে বলে যে সুশান্ত বিপদের মধ্যে আছে আপনারা কিছু করুন। কিন্তু মুম্বাই পুলিশ কিছুই
করেনি। এছাড়াও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, সুশান্তের মৃত্যুর কিছুদিন আগেই নাকি রিহা চক্রবর্তী সুশান্তের মোবাইল, ল্যাপটপ, এমনকি হার্ডডিক্স পর্যন্ত নিজের বাড়িতে নিয়ে চলে যান। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৩০ জুলাই, ইডি’র
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় রিহা চক্রবর্তী সহ আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বিহার আদালতে; যার অনুলিপি ইতিমধ্যেই বিহার পুলিশের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা আরো বলেছেন,
কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এই প্রসঙ্গে বিহার পুলিশ’কে চিঠি দিয়েছেন, কারণ তা অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে সম্ভাব্য তদন্তের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সুশান্তের বাবা দাবি করেন, সুশান্তের কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের ১০১১৯৭২৫৯১ আ্যকাউন্টে ১৭ কোটি টাকা জমা ছিল। গত ১ বছর ধরে ১৫ কোটি টাকা যে সমস্ত ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে তার সাথে তার ছেলের কোন যোগাযোগ
নেই। রিহা চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের একাউন্টে কত টাকা গেছে তা তদন্ত করা উচিত পুলিশের। বিহার পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিনেতার বাবা কে.কে সিং এর দায়ের করা এফআইআর মামলাটিকে বিভিন্ন আই পি সি ধারা যথা- ৩৪১, ৩৪২, ৩৮০,
৪০৬, ৪২০ এবং ৩০৬ এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অপরদিকে, ইডির আগ্রহ হল, সুশান্ত সিং রাজপুতের অর্থ এবং ব্যাংক একাউন্টের অপব্যবহারের অভিযোগ অনুযায়ী, কেউ সুশান্তের উপার্জিত অর্থ পাচার করছে কিনা অথবা অন্য কোনো অবৈধ সম্পদ
কিনতে বা তৈরি করতে ব্যবহার করছে কিনা, সেটি নিয়ে তদন্ত চালানো!







