বিশেষ প্রতিবেদন, নিসর্গ নির্যাস, ২৭ জুলাই : ‘আত্মহত্যা’ না ‘খুন’ তা নিয়ে বিতর্কের রেশ এখনো কাটেনি! সুশান্ত-কুলের দাবি, খুনই করা হয়েছে; না হলে একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ দিয়ে, বিভিন্ন ডিরেক্টর-প্রডিউসর-শিল্পী-প্রোডাকশন হাউস তাঁকে দমানোর জন্য বয়কট করে! সেই অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে করণ জোহর থেকে একাধিক অভিনেতা- অভিনেত্রী’র দিকে। দায়ী করা হয়েছে ‘নেপোটিজম’ (স্বজন-পোষণ)’কেই। স্টার কিড নয় সুশান্ত। তাই স্বজনপোষণের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর শেষ ফিল্ম ‘দিল বেচারা’য় আবারও অভিযোগ উঠল, সেই ‘নেপোটিজম’ এর! এবার, শিকার বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রী। প্রতিবাদে সরব নেটিজেনরা।
মূল চরিত্র, সুশান্ত সিং রাজপুত (ম্যানি, ইমানুয়েল রাজ কুমার জুনিয়র) ও সঞ্জনা সাংহি (কিজি বাসু)। এর পরেই যাঁদের সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে, তাঁরা হলেন সাহিল বেদ (জগদীশ পান্ডে/ জেপি), স্বস্তিকা মুখার্জি (কিজি’র মা), শাশ্বত চ্যাটার্জি (কিজি’র বাবা) ও সুনিত টন্ডন (ডা: ঝা)। “দিল বেচারা” লিখলেই গুগল সার্চে অভিনয়ের যে তালিকা আসে, সেখানে সকলেরই নাম আছে। নাম নেই কেবল দুই প্রখ্যাত বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রী’র, স্বস্তিকা ও শাশ্বত-এর! অথচ এঁদের অভিনয় সাবলীল ও নজরকাড়া। সেই তুলনায় সইফ আলি খান (অভিমণ্যু বীর) অভিনয় খুব কম সময়ের জন্য। অথচ তাঁর নাম রয়েছে। বাদ গিয়েছে কেবল বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম ও ছবি। এও এক ধরণের নেপোটিজম। বাঙালি শিল্পীদের বলিউডে দীর্ঘ সময় ধরে, বারবার কাজ করিয়ে নাম চেপে দেওয়ার চেষ্টা এর আগেও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে নেটদুনিয়া। আর এর বিরুদ্ধে এবার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষুব্ধ স্ট্যাটাস, কমেন্ট, শেয়ার চলছে ঝড়ের গতিতে।
কয়েক বছর আগেই এক বাঙালি অভিনেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ডাবিং করা সত্ত্বেও তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হতে বহু টাকার বিনিময়ে মুখ না খোলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, বলিউড-টলিউডে তাঁর কাজ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে বলেও হুমকি এসেছিল। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বলিউডের সুপরিচিত অভিনেতা। এভাবেই বিভিন্ন প্রসঙ্গে একাধিকবার পড়েছে শোরগোল। সুশান্ত ফ্যানেদের দাবি ছিল, প্রিয় অভিনেতার শেষ ফিল্ম যেন হলে মুক্তি পায়। তা হয়নি। ওয়েব কাস্ট হয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রেলার ও ফিল্ম ভিউয়ার্স-এর সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলে নজির গড়েছে। আগেই অভিযোগ উঠেছে নায়ক স্বজনপোষণের শিকার। আবারো নেপোটিজমের অভিযোগ সোশ্যাল সাইটে। চলচ্চিত্রপ্রেমী মহুয়া রায় ঘোষ বলেন, “বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে খুব ছোট মনে হলেও এভাবেই চলে আগ্রাসন। বাঙালি শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ অভিনয় সত্বেও তাঁদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যা সত্যিই লজ্জার। সমবেত প্রতিবাদ প্রয়োজন।”
অবশ্য, গুগল সার্চ এ যা দেখায় তা ম্যানুয়ালি এন্ট্রি। এতে গুগল বা প্রোডাকশন হাউসের কোনও হাত নেই। ফিল্মের ডিটেলসে বা উইকিপিডিয়া-য় সকলেরই ভূমিকা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। তবুও গুগল সার্চে গিয়ে কাস্ট সেকশনে দুই বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম না দেখতে পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বাঙালি!







