দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর ও খড়্গপুর, ৩১ আগস্ট : সংক্রমণের কারণে, গত ২৬ শে আগস্ট থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গনস্টিক ল্যাবরেটরি (VRDL) বন্ধ আছে। ল্যাবরেটরিতে কর্মরত একাধিক কর্মী করোনা সংক্রমিত হয়ে বাড়িতে বা করোনা হাসপাতালের আইশোলেশনে আছেন। এদিকে, ল্যাব’টি জীবাণুমুক্ত করার জন্য দু’দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ আগস্ট। কিন্তু, এর মধ্যে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের আরো কয়েকজন প্রযুক্তিবিদ বা ল্যাব ট্যাকনিসিয়ান সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা যায়। তাই, গত ২৮ শে আগস্ট, পেন্ডিং (২৬ শে আগস্টের আগেই ল্যাবরেটরিতে পৌঁছে যাওয়া কিছু নমুনা) কিছু নমুনা পরীক্ষা করা হলেও, গত ২৯ শে আগস্ট (শনিবার) থেকে পুনরায় ল্যাবটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন-চারদিন তাই ল্যাব বন্ধ থাকবে বলে, কলেজ সূত্রে ও স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা যায়। কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।” সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকালও র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজের একজন স্বাস্থ্যকর্মী’র রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে, ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা’র প্রক্রিয়া ফের শুরু করতে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। এই সময়ের মধ্যে আরটি-পিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা এসএসকেএম হাসপাতালের ভিআরডিএলে যথারীতি পাঠানো হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের গত ২৮ শে আগস্টের রিপোর্টে, রেলশহর খড়্গপুরে ২১ জন রেলকর্মী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সংক্রমিত হয়েছিলেন (সবমিলিয়ে ৪৫ জন) এবং
৩৫ জনের রিপোর্ট অমীমাংসিত (Inconclusive) এসেছিল। গত, ২৯ শে আগস্ট (শনিবার) রাতে, সেই অমীমাংসিত রিপোর্টগুলির মধ্যে ২৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা যায় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। তাঁরা সকলেই রেলকর্মী বা তাঁদের
পরিবারের সদস্য ও সদস্য, থাকেন শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়াও, শনিবার (৩০ শে আগস্ট), র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে খড়্গপুর শহরের আরো ৮ জন করোনা যোদ্ধা’র
রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পুলিশ কর্মী, দমকল কর্মীরা আছেন এই তালিকায়। খড়্গপুর টাউন থানাতে এই প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে! টাউন থানার ট্রাফিক পুলিশে (এন ভি আর এফ কর্মী- ৩০ বছর) কর্তব্যরত এক কর্মীর করোনা রিপোর্ট
পজিটিভ এসেছে এদিন। তিনি খড়্গপুর পুরসভার খরিদার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রের জানা যায়, সম্প্রতি বাড়িতে থাকা তাঁর বৃদ্ধা মা করোনায় আক্রান্ত হন। সেই সূত্রেই তাঁর ছেলের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে প্রাথমিক অনুমান স্বাস্থ্য
দপ্তরের। জানা যায়, ওই যুবকের শরীরে করোনার মৃদু উপসর্গ (জ্বর) রয়েছে। এখনো পর্যন্ত তিনি হোম আইসোলেশনেই আছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, সবং থানায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মী (খড়্গপুরের বাসিন্দা, বয়স ৩৪)’র রিপোর্টও
অ্যান্টিজেন টেস্টে পজিটিভ এসেছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। অন্যদিকে, রবিবারও র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে রেলশহরের একাধিক প্রথম সারির করোনা যোদ্ধার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সূত্র মারফত জানা যায়।
তবে, বেশিরভাগ জনই উপসর্গহীন এবং হোম আইশোলেশনে আছেন বলেও জানা গেছে।
***আরো পড়ুন : র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে জেলায় ৬৩ করোনা সংক্রমিত…







