দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ জুলাই : সারা দেশ ও রাজ্য জুড়ে একের পর এক আমলা, আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশ-প্রশাসন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত “করোনা-যোদ্ধা”রা এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। বেশিরভাগ জনই করোনা মুক্ত বা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও, কিছু কিছু পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটেছে! তাই, দেশজুড়ে সবার এখন প্রার্থনা, সুস্থ থাকুন, করোনা যোদ্ধা তথা জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী, আমলা, আধিকারিকরা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও ইতিমধ্যে, দু’জন বিডিও (চন্দ্রকোনা-১ ও কেশিয়াড়ি) সহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন সুস্থ হয়ে উঠলেও, জেলার দুই বিডিও সহ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশকর্মী’রা এখনো চিকিৎসাধীন জেলার লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল, শালবনীতে।

গত ১৭ জুলাই চন্দ্রকোনা-১ এর বিডিও অভিষেক মিশ্র করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর, জেলা প্রশাসনের আমলা ও আধিকারিক সহ প্রায় ১৪ জন নিজেদের লালারসের নমুনা দিয়েছিলেন করোনা পরীক্ষার
জন্য। ১৮ জুলাই রাতে, তাঁদের সকলকে স্বস্তি দিয়ে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল! তালিকায় ছিল, স্বয়ং অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) প্রণব বিশ্বাসের নামও। এদিকে, রবিবার অর্থাৎ ১৯ জুলাই গভীর রাতে জেলার আরো একজন বিডিও (কেশিয়াড়ির
বিডিও সৌগত রায়)’র রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এরকমই এক পরিস্থিতিতে হয়তো কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চাননি, জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমলও। ২০ জুলাই নিজের সোয়াব বা লালারসের নমুনা দিয়েছিলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য। প্রতিদিনই যেহেতু
তাঁকে বিভিন্ন মিটিং কিংবা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হয়, তাই শত সতর্কতা অবলম্বন করলেও, করোনা নামক এই নিস্তব্ধ ঘাতক (silent killer) এর উপর বিশ্বাস না করে, কোভিড টেস্টের উপর ভরসা রেখেছিলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক।
জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট এবং সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্বয়ং জেলাশাসক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সকলের রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। করোনা আবহে’র চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে, জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের নেগেটিভ
রিপোর্টে জেলাজুড়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।







