লকডাউনের রাতেই রাজ্যে সর্বাধিক সংক্রমণ ও মৃত্যু ! প্রশ্ন উঠছে অনিয়মিত লকডাউনে লাভ কতটুকু, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪২ জন আক্রান্ত গত ২৪ ঘন্টায়

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ৬ আগস্ট : আগস্ট মাসের প্রথম লকডাউন পালিত হল গতকাল (৫ আগস্ট)। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ ছাড়া মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এবারও লকডাউন পালন করেছে। তবে, এই লকডাউনের রাতেই এলো রাজ্যে এ যাবৎ সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর! ৫ আগস্টের বুলেটিন অনুযায়ী (বিভিন্ন জেলায় যাঁরা সংক্রমিত হয়েছেন ৪ ঠা আগস্ট) রাজ্যে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ২৮১৬! শুধু তাই নয়, মৃত্যু সংখ্যাও সর্বাধিক, ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টায়। টেস্ট বেড়েছে, প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমানে, গড়ে ২২০০০-২৫০০০ টেস্ট হচ্ছে প্রতিদিন এবং টেস্টের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। যেহেতু, সারা রাজ্য জুড়ে রেপিড অ্যান্টিজেন (Rapid Antigen Test)ও শুরু হয়ে গেছে, তাই সবমিলিয়ে টেস্টের সংখ্যা আরো বাড়ছে ও বাড়বে। একইসাথে বাড়ছে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গহীন বা asymptomatic আক্রান্তদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত টেস্টের ফলে। সেজন্যই এখন আর প্রতিদিন, ১৪০০-১৫০০-১৬০০ নয়, করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন ২৭০০-২৭৫০-২৮০০ করে। কিন্তু, টেস্টের ফলে আক্রান্তের সংখ্যা না হয় বাড়ছে, কিন্তু মৃত্যু সংখ্যাও বেড়ে চলেছে কিভাবে, প্রশ্ন উঠছে! গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের, যা এখনো পর্যন্ত সর্বাধিক। তার মানে, মানুষ শুধু উপসর্গহীন নয়, উপসর্গযুক্ত ভাবেও আক্রান্ত হচ্ছেন এবং সমস্ত চিকিৎসা ব্যর্থ করে (বা, সঠিক চিকিৎসার অভাবে) মারাও যাচ্ছেন। যদিও রাজ্যে মৃত্যুর হার, ২ শতাংশের কিছু বেশি। রাজ্যের হিসেবে এই মুহূর্তে সুস্থতার হার ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, ২০০০ এর কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে, সুস্থতার হারও কমেছে, ৭২-৭৩ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে নেমে গেছে! এই পরিস্থিতিতে, অনিয়মিত লকডাউনের মাধ্যমে সংক্রমণে রাশ টানা যাচ্ছে কতটুকু, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে ২৯ জুলাই সম্পূর্ণ লকডাউন হয়েছে, আর এরপর হবে ৮ আগস্ট; আর তারপর হবে একেবারে ২০ আগস্ট! ফলে, সংক্রমণ কতটুকু প্রতিরোধ করা যাবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দ্বিধাবিভক্ত। ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য, নিয়মিত লকডাউনে বাধা পড়ছে, ফলে লকডাউনের সার্থকতা বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলেই অভিমত একদল বিশেষজ্ঞের।

thebengalpost.in
রাজ্যের করোনা বুলেটিন :

[ আরও পড়ুন -   সকাল সকাল দুর্ঘটনা খড়্গপুরে! গরু বোঝাই গাড়ি উল্টে আহত চালক, ব্যবসায়ী এবং অবলা প্রাণীগুলিও ]

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, ৪২ জন। বুধবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন। মেদিনীপুর শহরের ২ জন এবং শালবনীর ১ জন ছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, চন্দ্রকোনারোড বা গড়বেতা-৩ , চন্দ্রকোনাটাউন, বেলদা, খড়্গপুর, ঘাটাল দাসপুর প্রভৃতি এলাকায়। গত ৩ আগস্ট, চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা ৪ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে ৫ আগস্ট রাতে। এদের মধ্যে তিনজনই চন্দ্রকোনা ২ নং ব্লকের ভগবন্তপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী। একজনের বাড়ি এই ব্লকের চৈতন্যপুর গ্রামে। ২৮ বছরের এই যুবক পঞ্চায়েতের কম্পিউটার অপারেটর। অপরজন, একই ব্লকের বসনছোড়া এলাকার বাসিন্দা (৪৫ বছরের মহিলা), তিনি ভগবন্তপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী। ৪৫ বছরের ওই মহিলা পঞ্চায়েতের কর্মী বর্তমানে বসবাস করেন চন্দ্রকোনা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড গোঁসাইবাজার দালালপুকুর পাড় এলাকায়।আর, একজন ৫১ বছরের ব্যক্তি ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি, ওনার বাড়ি গড়বেতা থানার ডাঙ্গরপাড়া এলাকায়। করোনা আক্রান্তদের দুজন চন্দ্রকোনা থানা এলাকার হওয়ায়, নতুন করে চন্দ্রকোনায় বাড়লো আরও দুটি কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা। চতুর্থ ব্যক্তি গড়বেতা-২ নং এর ডিগ্রি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ১ লা আগস্ট চন্দ্রকোনার ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসারের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপরই দপ্তরের প্রধান, উপ প্রধান সহ ১৩ জন কর্মীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় পঞ্চায়েত অফিস।

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন :

এদিকে, চন্দ্রকোনারোডের (গড়বেতা-৩) কাদড়া এলাকার ৫ জন যুবক এবং বিলা গ্রামের ১ জন যুবকের রিপোর্ট গতকাল পজিটিভ এসেছে। এছাড়াও, বেলদা শহর সংলগ্ন রবীন্দ্রনগরের একটি পরিবারের ৩ জন, বাখরাবাদের ১ জন এবং কেশিয়াড়ির ২ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। খড়্গপুরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে সূত্রে ৩ জন এবং ইন্দা বিদ্যাসাগরপুরের একজন (৩৮) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দাঁতন ২ নং ব্লকের ৯ জনের শরীরে পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাসের জীবাণু। এদিকে, ঘাটাল, দাসপুর ১ এবং দাসপুর ২ এ তিনজন করে মোট ৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কেশপুরের মার্কা (মার্খা) ৪ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি পরিবারের ৪ জনের করোনা পরীক্ষা করা হলেও, ১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে (৫৮ বছর বয়সী মহিলা)। এছাড়াও, মেদিনীপুর শহরের ২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।‌ সবমিলিয়ে জেলায় এদিন (বুধবার) ৪২ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী (রাজ্যের বুলেটিন অনুযায়ী নয়), জেলায় এখনো পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩২ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৯৫ জন। সুস্থতার হার, ৭০.২৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ২.৩৮ শতাংশ।

[ আরও পড়ুন -   করোনা আক্রান্ত হয়ে চালকের মৃত্যু, সংক্রমিত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ]