বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ১৫ মে :
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের বেসরকারি হাসপাতালের আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে থাকা, বাকি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রত্যেকের রিপোর্টই ‘নেগেটিভ’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। একইসাথে, গত ৪৮ ঘন্টায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে আসা, সমস্ত রিপোর্টই নেগেটিভ বলে জানানো হয়েছে। তবে, আজ থেকে জেলায় যে দুটি কনটেইনমেন্ট জোন যুক্ত হল, তার একটি হল, এই বেসরকারি হাসপাতাল (নির্ণয়) সংলগ্ন এলাকা। অন্যটি হল, গত ১৪ মে আক্রান্ত পুলিশ কর্মীর (প্রায় ৫০ বছর বয়সী) দেশের বাড়ি চন্দ্রকোনা টাউনের ১২ নং ওয়ার্ড। যদিও তিনি ১১ মে’র আগে কলকাতার বারুইপুরে থাকতেন এবং এই মুহূর্তে কলকাতাতেই চিকিৎসাধীন। এছাড়া, গত ৫ মে থেকে ক্ষীরপাইয়ের ৭ নং ওয়ার্ডের আনন্দপুর এলাকা তো আছেই! সবমিলিয়ে, জেলার তিনটি কনটেইনমেন্ট জোনেরই মেয়াদ আগামী ২৫ মে পর্যন্ত, আজকের প্রকাশিত কনটেইনমেন্ট জোনের আপডেটেড লিস্ট অনুযায়ী।
এদিকে, গত ১৪ মে, কলকাতা যোগে করোনা আক্রান্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা টাউনের ব্যক্তির পর, আজ (১৫ মে), পূর্ব মেদিনীপুরের এক যুবকের রিপোর্টও করোনা পজিটিভ এসেছে। মহিষাদলের এই যুবক কলকাতায় একটি মিষ্টি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গত রবিবার বছর তিরিশের এই যুবক একটি মুরগির গাড়িতে করে নন্দকুমারে নামেন, তারপর হেঁটেই মহিষাদলের দক্ষিণ শ্রীরামপুরে নিজের বাড়িতে পৌঁছে যান। এরপর, প্রতিবেশীদের চাপে, তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে, রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ঐ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে এবং যুবককে বড়মা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সন্ধ্যে নাগাদ কাঁথি মহকুমার এক প্রৌঢ়েরও আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসা সূত্রে, কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই, তাঁর করোনা পরীক্ষার পর আজ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও প্রশাসনের তরফে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, ঝাড়গ্রামের করোনা আক্রান্ত অদল-বদলের ব্যতিক্রমী ঘটনায়, ভুল শুধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত করোনা আক্রান্ত যুবককে (১৮) বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে মানিকপাড়ার কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রেখেছে বলে সূত্রের খবর। ওই যুবকের দাদা এখনো ‘বড়মা’ হাসপাতালেই আছেন বলে খবর। আগামীকাল হয়তো, এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য ভবন এবং বড়মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকা, ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাবা, অর্থাৎ হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা (৫৫) করোনা মুক্ত হয়ে গতকাল (১৪ মে) বড়মা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরিশ চন্দ্র বেরা। গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে আক্রান্ত ও মৃত যথাক্রমে, ৮৪ ও ১০। সারা দেশে আজ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার (৩৯৬৭) এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, ১০০ জনের।







