দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, দান্তেওয়াড়া (ছত্তিশগড়), ২৬ আগস্ট: ছত্তিশগড় রায়পুরের দান্তেওয়াড়া জেলায় ফের মাওবাদী হামলা! মাও অধ্যুষিত এই এলাকায় নজিরবিহীন হামলার অভিযোগ উঠল। পুলিশ সূত্রে খবর, চিকপাল,
পার্চেলি ও নাহাদি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মাওবাদীরা বিভিন্ন সময় তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে ও নির্যাতন করছে। গত এক মাস ধরে ঘটনাগুলি ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৭ জুলাই রাতে পার্চেলি গ্রামে। এই মামলায় এফআইআর করা
হয়, যাতে বলা হয়, “৭ জন কুখ্যাত মাওবাদী ১০-১৫ জন গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছে। এমনকি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তিকে ধরে তাদের যৌনাঙ্গে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।” সুরক্ষা বাহিনী এফআইআর দায়ের করে এবং
ওই গ্রামবাসীদের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। দ্বিতীয়টি করা হয়, ২১ শে জুলাই নাহাদিতে। এবার গ্রামবাসীদের উপর গণপিটুনির অভিযোগ আসে। এফআইআর করা হয়, “১১ জন কুখ্যাত মাওবাদীর বিরুদ্ধে”। ২৪ জুলাই এই এফআইআর
দায়ের করা হয়। কিছুদিন আগে, চিকপালে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়েই ২০ আগস্ট সর্বশেষ এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, মাওবাদীরা ১২ বছরের এক কিশোরী সহ ১০ জন গ্রামবাসীকে নির্যাতন করে। তাদের মেডিক্যাল রিপোর্টে
বলা হয়েছে যে তাদের পিঠে এবং উরুর উপরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ জানায়, ১২ বছরের ওই কিশোরীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ জন নামযুক্ত ও বেশ কয়েকজন নামবিহীন মাওবাদীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
৩০ বছর বয়সী বাওয়ান মার্কান জানান, “১৯ আগস্ট রাতে, মাওবাদীরা এলে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলেন এবং এখনও তিনি ফিরে যেতে পারেননি। তিনি বলেন তিনি তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কাটেকলিয়নে পৌঁছে যান এবং এখনো আত্মগোপন করে রয়েছেন, যেহেতু তাঁর বাবা-মা তাঁকে বলেছিল যে তাঁরা যদি মারাও যান তাহলেও তিনি যেন গ্রামে ফিরে না আসেন।” তিনি আরো জানান, “তাঁরা নির্মমভাবে আমার বাবা, দুই বোন এবং মা সহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে মারধর করেছিল। তাঁরা ৪০,০০০ টাকা এবং আমার বাবার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে রাস্তা, স্কুল ও ঘরের আবেদন জানিয়েছিলাম। এতেই মাওবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিল। আমরা দান্তেওয়াড়া এসপি’র সামনে আমাদের দাবি জানিয়েছিলাম। স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনের জন্য গ্রামে এসেছিলেন এসপি ও আধিকারিকরা। এই খবর পেয়েই মাওবাদীরা গ্রামবাসীদের উপর হামলা করেছিল। তবে প্রায় দেড় মাস হতে চললেও পুলিশ এখনও অবধি কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।” আর এই ঘটনায় যেন, ২০০৮-‘০৯ এর বাম শাসিত পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের সেই চিত্র ফুটে উঠছে অনেকের চোখে!







