মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ জুলাই : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৮ জুলাইয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, করোনা সংক্রমিত বা বিশেষ করোনা উপদ্রুত এলাকাগুলিতে কনটেইনমেন্ট জোনের পরিধি বৃদ্ধি এবং লকডাউন কঠোর করার বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল, জেলাগুলিতেও। প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এই ধরনের কনটেইনমেন্ট জোনগুলি চিহ্নিত করার বিষয়ে, যেখানে ৯ ই জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে আগামী ৭ দিন কড়া লকডাউন জারি থাকবে। বৃহস্পতিবার, রাজ্য পুলিশের ডিজি (বা মহানির্দেশক) বীরেন্দ্র, খড়্গপুরে এসে সেই বার্তাই দিয়ে গেছেন। সেই নির্দেশিকা মেনে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন তথা জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল বিভিন্ন আধিকারিক, স্বাস্থ্য ভবন এবং পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা করে, জেলায় এই ধরনের ২৩ টি কনটেইনমেন্ট জোনের নাম ঘোষণা করেছেন, যেখানে আগামী ৭ দিন কড়া লকডাউন বিধি প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ২৩ টির মধ্যে শুধুমাত্র খড়্গপুর পৌরসভা বা শহরেই ৮ টি কনটেইনমেন্ট জোন। পৌরসভার ২, ৪, ৬, ৯, ১২, ১৮ নং ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এবং ২৬ নং ওয়ার্ডের দু’টি এলাকায় (সাউথ সাইড আরপিএফ ব্যারাক এবং ভবতারিণী মন্দিরের কাছে গাড্ডা বস্তি) কঠোর লকডাউন জারি থাকবে আগামী সাত দিনের জন্য। এছাড়াও, খড়্গপুর গ্রামীণের (খড়্গপুর – ২) দুটি এলাকায় (সাঁকোয়া ও চাঙ্গুয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা) কঠোর লকডাউন বজায় থাকবে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি এলাকায়, নারায়ণগড় ব্লক অর্থাৎ বেলদা থানার দুটি এলাকা (সবুজপল্লী ও আম্বিডাঙর), গড়বেতা – ১ নং ব্লকের কাদড়া উপরপল্লী এলাকার কিছু অংশে আগামী ৭ দিন কঠোর লকডাউন বজায় থাকবে। এছাড়াও, ঘাটাল ব্লকের একটি নির্দিষ্ট এলাকা (১৬ নং ওয়ার্ডের), দাসপুর -১ এর ৫ টি নির্দিষ্ট এলাকা ও দাসপুর – ২ এর ৩ টি নির্ধারিত এলাকায় কঠোর লকডাউন বজায় থাকবে। এই ২৩ টি এলাকাকে বিশেষ সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে, মেদিনীপুর শহরের সুভাষ নগরের সরকারি আবাসন সহ জেলার অন্যান্য যে সমস্ত এলাকাগুলি থেকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন, সেখানে পূর্বের নিয়মেই কনটেইনমেন্ট জোন করা হবে বলে জানা গেছে। ৭ দিন পর পরিস্থিতি দেখে, মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে নতুন কিছু ঘোষণা করতে পারেন! আপাতত, ৭ দিন কলকাতা সহ জেলাগুলি যে পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রেখেই চলবে, তা বলাই বাহুল্য!







