ইতিহাস গড়ে স্বাধীনতা দিবসের আগেই করোনা’র ভ্যাকসিন ভারতে? আইসিএমআর এর তৎপরতায় দ্বিধা-বিভক্ত বিশেষজ্ঞরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ৪ জুলাই : স্বাধীনতা দিবসের আগেই কি নতুন ইতিহাস? লালকেল্লার সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি ঘোষণা করতে চলেছেন- করোনা থেকে স্বাধীন (করোনা মুক্ত) হতে চলেছে ভারত ! করোনা ভ্যাকসিন কোভাক্সিন এর প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) কে দেওয়া আইসিএমআর ২ রা জুলাই একটি চিঠি ঘিরে সেই প্রশ্ন আর স্বপ্ন দুইই জাগরিত হয়েছে দেশবাসীর অন্তরে। আইসিএমআর (ICMR) এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব ভারত বায়োটেক’ কে চিঠিতে লিখেছেন, “BBV152 COVID ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাইট হিসেবে আপনাদের বাছা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের জেরে তৈরি হওয়া জনস্বাস্থ্যের আপৎকা‍লীন অবস্থায় দ্রুত ভ্যাকসিন লঞ্চ করা অত্যন্ত জরুরি! তাই ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে। এই প্রকল্পকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে।”

thebengalpost.in
আইসিএমআর এর চিঠি :

[ আরও পড়ুন -   প্রয়াত হলেন প্রবীণ সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী, ছিলেন করোনায় আক্রান্ত ]

আর সেই চিঠির সূত্র ধরেই, কোভাক্সিন (Covaxin) এর মানব শরীরে ট্রায়াল চলতি মাসেই (জুলাই) শুরু হয়ে যাচ্ছে। প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ভাল ফল মিলেছে বলেও জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা হেপাটাইটিস ভ্যাকসিনও এই ভারত বায়োটেকই তৈরি করে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রথম সংস্থা, যারা জিকা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান ও এমডি কৃষ্ণ এল্লা ভারতের মলিকিউলার রিসার্চের পথিকৃত। উল্লেখ্য যে, তামিলনাড়ুর এক কৃষকের ছেলে কৃষ্ণ অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বায়োটেক পার্ক তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন, পরে তা বিখ্যাত হয়েছে। পোলিও, র‌্যাবিস, রোটাভাইরাস, জাপানি এনসেফালাইটিস ও চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিনও তৈরি করে এই সংস্থাটি৷

thebengalpost.in
কোভাক্সিন :

তবে, প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাত্র তিন মাস আর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাজারে ভ্যাকসিন নিয়ে আসার তৎপরতা অতিরিক্ত ঝুঁকির হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একাংশ। ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরাও দ্বিধাবিভক্ত এ নিয়ে! অনেকেই বলছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর তিনটি ফেজে বা পর্যায়ে মানব শরীরে এর প্রয়োগ করার পর, বাজারে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। অন্তত এক বছর তো লাগবেই! সেক্ষেত্রে, মাত্র দেড়-দু’মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, হঠকারিতাও! এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একাংশ। অপরদিকে, অন্য এক দল বিশেষজ্ঞ বলছেন, অসম্ভব বলে কিছু হয়না চিকিৎসা বিজ্ঞানে! আইসিএমআর এবং ভারত বায়োটেক সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাবে! এ নিয়ে মোদী বিরোধী রাও আসরে নেমে পড়েছেন। কটাক্ষ করে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী’র স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণায় চমক আনতেই এতো তৎপরতা!
thebengalpost.in
আইসিএমআর ও ভারত বায়োটেকের যৌথ প্রচেষ্টায় ভারতে ইতিহাস ? :

[ আরও পড়ুন -   মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়ায় নতুন করোনা চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, খতিয়ে দেখলেন উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ]