মেদিনীপুরের আকাশে ‘সবুজ আলো’র রেখা, ব্যাখ্যা দিলেন আবহাওয়াবিদ

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ২১ মে : গতকাল ঠিক সন্ধ্যে (৬-৬.৩০ টা) নাগাদ, উপকূলবর্তী অন্যান্য জেলাগুলির সাথে সাথে পশ্চিম মেদিনীপুরেও যখন চলছিল, আমফানের তাণ্ডব, ঠিক সেই সময়ই, মেদিনীপুর শহরের বিধাননগরের বাসিন্দা সৌমেন্দু দে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চোখে পড়ে, দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে এক সবুজ আলোর রেখা! প্রথমে নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে না পারলেও, কয়েক সেকেন্ড পর আবার দেখতে পান সেই রেখা। দ্বিতীয়বার, ভুল হয়নি ক্যামেরাবন্দী করতে! গতকাল, রাত্রি ৯ টা নাগাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেই ছবি পোস্টও করেন, মেদিনীপুর কলেজ (স্বশাসিত) এর ‘জার্নালিজম এন্ড মাস কমিউনিকেশন’ ডিপার্টমেন্টের কো-অর্ডিনেটর সৌমেন্দু বাবু। তাঁর সেই পোস্টে, বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার বিস্ময় প্রকাশও করেছেন! হয়তোবা কেউ অবিশ্বাসের চোখেও দেখেছেন!

[ আরও পড়ুন -   করোনা আক্রান্ত হলেন বিজেপি নেত্রী ও ফ্যাসন ডিজাইনর অগ্নিমিত্রা পল ]

আজ (২১ মে), এই বিষয়ে সৌমেন্দু বাবু ও তাঁর পরিবারকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, শিক্ষক ও আবহাওয়াবিদ ডঃ শুভেন্দু ঘোষ। এরপরই, দ্য বেঙ্গল পোস্টের পক্ষ থেকে, শুভেন্দু বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যা বললেন, তা শুনে এই ঘটনা অবিশ্বাস্য বা বিস্ময়কর কোনটাই মনে হবেনা! মহাজাগতিক নিয়মে (বা, ভৌগলিক নিয়মও), এই ধরনের ঘটনা বিশেষ কোন সন্ধিক্ষণে স্বাভাবিকভাবেই পরিস্ফুট হয়। শুভেন্দু বাবুর মতে, এই ‘সবুজ আলো’র রেখা হলো “অররাস বা অরোরা বা মেরুজ্যোতি” (Aurora)। একে তিনি, ‘প্রোটন অরোরা’ হিসেবেও চিহ্নিত করতে চেয়েছেন।

এবার এই সম্পর্কে শুভেন্দু বাবু বিস্তারিতভাবে যা বললেন, “অরোরা বা অররাস হল পৃথিবীর আকাশে সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, আকস্মিক আলো প্রদর্শন। উত্তর গোলার্ধে অরোরা বোরিয়ালিস এবং দক্ষিনে আন্টার্কটিকার আকাশে অরোরা অস্ট্রালিস নামে পরিচিত (যথাক্রমে, সুমেরু জ্যোতি ও কুমেরু জ্যোতি)। সোর বায়ু দ্বারা চৌম্বকীয় অঞ্চলে গোলযোগের ফলে এই ধরনের আলোর সৃষ্টি হয়। সৌর বায়ু এবং চৌম্বকীয় ইলেকট্রন ও প্রোটন কনাগুলি মুলত উর্ধ-বায়ুমণ্ডলে এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে প্রবাহিত হয়। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানগুলির আয়োনাইজেসান ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলো নির্গত হয়। এই আলোর ছটাটি বৃষ্টিপাতের কণাগুলির প্রদত্ত ত্বরনের উপর নির্ভর করে।

[ আরও পড়ুন -   দিনভর নাটকের শেষে 'নায়িকা' জানালেন, দিল্লি যাচ্ছেন না, তৃণমূলেই থাকছেন ]

কিছু কিছু সময় বিশেষত আবহমণ্ডলে বিপর্যয়ের সময় নিম্ন অক্ষাংশে মুলত ২৫-৪০ ডিগ্রি অক্ষাংশ এর মধ্যে প্রোটন অরোরা দেখা যায়। নিম্ন উচ্চতায় বায়ুমন্ডলে অত্যন্ত উত্তেজিত নাইট্রোজেন অণুর সাথে অক্সিজেন পরমাণুর সংঘর্ষের মাধ্যমে একটি সবুজ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দ্বারা শক্তি স্থানান্তরিত হয়। প্রায় ১০০ কিমির নিচে, পারমাণবিক অক্সিজেনের ঘনত্বের দ্রুত হ্রাসই হল এই আকস্মিক দর্শনীয় আলোটির জন্য দায়ী। এই ধরনের আলো প্রথমবার ১৯০৯ সালে, বিজ্ঞানীরা সিংগাপুর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।”
গতকালের, তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ মহাকাশে এই ঘটনাই ঘটেছিল, বলে মনে করছেন শুভেন্দু বাবু। তবে, সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চল ছাড়া এই মেরুজ্যোতি অন্যান্য ভৌগোলিক স্থান থেকে দর্শন করা নেহাতই বিরল ঘটনার সম্মুখীন হওয়া বা সৌভাগ্যের বিষয়। আমফান (বা, অ্যাম্পুন) সুপার সাইক্লোনের দৌলতে, সেই দুর্লভ মাহেন্দ্রক্ষণেরই মুখোমুখি হতে পেরেছিলেন, মেদিনীপুর কলেজ (স্বশাসিত) এর অধ্যাপক সৌমেন্দু দে ও তাঁর পরিবার।

[ আরও পড়ুন -   সমস্ত রেকর্ড ভেঙে রাজ্যে আজ করোনা আক্রান্ত ৭৪৩ জন, মৃত্যু ১৯ জনের, দুই মেদিনীপুরে ১৮ জন ]