বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ৭ আগস্ট : অনেক চেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হলনা! শেষ পর্যন্ত ইডির কাছে ধরা দিতেই হল, রিহা চক্রবর্তী’কে। অপরদিকে রিহার সাথে তার ভাই শৌভিক চক্রবর্তী, সুশান্তের হাউস ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা এবং রিহা-সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার কেও হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। রিহা এবং তার ভাই শৌভিককে ম্যারাথন জেরা করা হয় এবং প্রাথমিক জেরার পর শৌভিক’কে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাড়ি থেকে কিছু ডকুমেন্টস আনার জন্য। যেটি নিয়ে শৌভিক আবার ২ ঘণ্টার মধ্যে ইডির অফিস ফেরত আসে। অন্যদিকে স্যামুয়েলকে প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে জেরা করা হয়।

প্রসঙ্গত, রিহার নামে বিহার আদালতে এফআইআর করার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। এমনকি ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বললে, রিহা অনুরোধ করেন যাতে দিনটি পিছিয়ে দেওয়া হয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে কর্ণপাত করেনি ইডি। সুশান্ত মামলায় সিবিআই এবং বিহার পুলিশের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে রিহা এবং তাঁর উকিল শ্যাম দিবান এও বলেন, এই মামলায় বিহার পুলিশ এবং সিবিআইয়ের প্রবেশ অনৈতিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে। তাদের মতে, যেহেতু সুশান্ত মুম্বাইতে মারা গেছেন, তাই তার তদন্ত মুম্বাই পুলিশের অধীনে করা হোক; শীর্ষ আদালতের কাছেও এই আর্জি জানান তাঁরা। যদিও, এখনও সেই বিষয়ে কোনো রায় দেয়নি আদালত, আগামী ১১ আগস্ট তার শুনানি রয়েছে। রিহা’কে মূলত যে যে বিষয় গুলো নিয়ে জেরা করা হয় সেগুলো হলো- ১৪ লাখ টাকা ইনকাম করে তিনি কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনলেন কিভাবে? সুশান্তের সাথে তার সম্পর্ক কেমন ছিল? যে দুটি স্টার্ট আপ কোম্পানির মালিক তিনি ও তাঁর ভাই ছিলেন, সেগুলিতে কেমন ধরনের লেনদেন হতো? সম্প্রতি কার সাথে কি কি ডিল হয়েছিল, বা আদৌ হয়েছিল কিনা? সুশান্ত যে সময় একা ছিলেন, সেই সময় কোনো কথা হয়েছিল কিনা? সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা আপনার ব্যাংকে ট্রান্সফার হয়েছে সেগুলো কে করেছিল? রিহা ইনকাম ট্যাক্স দিতেন কিভাবে? সেই টাকা সুশান্ত ডাইরেক্ট দিতেন নাকি রিহার কাছে সুবিধা ছিল টাকা তোলার? এই সমস্ত প্রশ্ন টানা ৪ ঘন্টা ধরে করা হয়।

অন্যদিকে, ৯ ঘন্টা ধরে জেরা করা হয় স্যামুয়েল’কে। অপরদিকে, সুশান্ত-রিয়ার প্রাক্তন ম্যানেজার শ্রুতি মোদিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি কেনো হঠাৎ সুশান্ত’কে ছেড়ে রিহার ম্যানেজার হয়ে গেছিলেন; তিনি সুশান্তের ওই কোম্পানি গুলির ব্যাপারে কিছু জানতেন কিনা এই সমস্ত প্রশ্ন করা হয়। এদিকে, রিহার কল রেকর্ড ঘেঁটে সিবিআই এর হাতে আসে মুম্বাই পুলিশের ডিএসপি অভিষেক ত্রিমুখীর সাথে রিহার বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে, অপরদিকে মহেশ ভাটের সাথে ৬০ বার কথা হয়েছে। এমনকি রিহার সাথে সুশান্তের ফ্ল্যাটমেট সিদ্ধার্থ পিটানিরও বহুবার কথা হয়েছে। রিহাকে ইডির তরফ থেকে তাঁর সম্পত্তির (প্রপার্টির) ডকুমেন্ট চাওয়া হলে, রিহা জানায় সেটি তার সিএর কাছে আছে, অথচ গতকালই তার সিএ জানায় প্রোপার্টির ডকুমেন্টস রিহার কাছে আছে। পরে রিহা জানায় যে সে মনে করতে পারছে না, প্রপার্টির ডকুমেন্টস সে কোথায় রেখেছে! ব্যাংকের ডিটেলস খতিয়ে দেখা যায় সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে রিহার ভাই শৌভিকের অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট ট্রানজাকশন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিহার আদালতে সুশান্তের বাবা কে.কে. সিং রিহা’র বিরুদ্ধে তাঁর ছেলেকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিতে এবং সুশান্তের সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন। এরপরই রিহা ও তাঁর পরিবারের সদস্য সহ ৬ জনের নামে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। রিহা, শৌভিক, স্যামুয়েল এবং শ্রুতি ছাড়াও সিদ্ধার্থ পিঠানি’কেও সিবিআই ডেকে পাঠিয়েছে। যদিও মুম্বাইয়ের বাইরে থাকায় সিদ্ধার্থ সিবিআই দপ্তরে এসে পৌঁছতে পারেনি, তবে মৃত্যু রহস্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি, সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও এর হাতে সুশান্তর একটি ডায়েরি এসে পৌঁছেছে, দেখা গেছে তার কিছু পৃষ্ঠা ছেঁড়া। এনিয়ে, সদুত্তর দিতে পারেননি সুশান্তের রুম মেট সিদ্ধার্থ। সিদ্ধার্থ ওই সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুম্বই পুলিশ বলতে পারবে, এর কারণ কি, কারণ ঘটনাস্থল থেকে তারা কিছু চিরকুট ও কাগজপত্র উদ্ধার করেছিল! কখনো আবার বলেছে, সুশান্ত অনেক সময় কিছু লেখার পর তা পছন্দ না হলে ছিঁড়ে ফেলত! এদিকে, সুশান্তের বাবা দাবি করেছেন, ঘটনার পর সুশান্তের ফ্ল্যাটে গিয়ে তার দিদি কিছু ছেঁড়া কাগজ দেখেছিল! সিদ্ধার্থ ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে এও সাফাই দিয়েছে, সুশান্তের পুরনো ফোনগুলো এবং আইপ্যাড সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। এদিকে, সূত্র জানাচ্ছে যে, সিদ্ধার্থ এতদিন ধরে যা যা বলেছেন সেই সমস্ত বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, সিদ্ধার্থ পিঠানি সুশান্তের সঙ্গে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকতেন। ১৪ জুন সুশান্তের দেহ প্রথম দেখেন সিদ্ধার্থই!







