গত এক সপ্তাহে মেদিনীপুর শহরে ১৫ জন করোনা আক্রান্ত, ৭ দিন বন্ধ থাকছে জেলা আদালত

thebengalpost.in
আগামী সাত দিন বন্ধ জেলা আদালত :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৩ আগস্ট : গত এক সপ্তাহে মেদিনীপুর শহর ও শহরতলী মিলিয়ে ১৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তালিকায়, মেদিনীপুর শহরের প্রসিদ্ধ চক্ষু বিশেষজ্ঞ থেকে জুনিয়র ডাক্তার, শিক্ষক, ওষুধ কোম্পানির সেলস প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পরিযায়ী শ্রমিক সকলেই আছেন! তা সত্বেও শহরের রাস্তাঘাটে ভিড় চোখে পড়ার মতো! সাহস আছে মেদিনীপুর বাসীর! রাখি কিনতে গিয়ে তো একে অপরের ঘাড়ে উঠে যেতেও ভয় পাচ্ছেন না! এদিকে, মেডিক্যাল কলেজের সূত্র ধরে, ঘিরে দেওয়া হয়েছে, বটতলাচক কালি মন্দির থেকে একেবারে জ্যাক পালের শোরুম অবধি। অন্যদিকে, মেদিনীপুর জর্জ কোর্টও আগামী সাত দিনের জন্য (এই সপ্তাহ) বন্ধ রাখা হচ্ছে, করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসার কারণে! মেদিনীপুর জর্জ কোর্ট বা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক কর্মীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে গত ৩১ শে জুলাই। তিনি নারায়ণগড় থানার বাসিন্দা। এই ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে আদালত প্রাঙ্গণে।

thebengalpost.in
বটতলাচকের রাস্তায় কনটেইনমেন্ট :

.

মেদিনীপুর জর্জ কোর্টের এক গ্রুপ ডি কর্মীর (কম্পিউটার বিভাগের) করোনা আক্রান্তের ঘটনায় আতঙ্ক দেখা যায় জর্জ কোর্টের কর্মী ও উকিলদের মধ্যে। আক্রান্তের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়নগড় থানার নারমা এলাকায়। প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার বাইকে করেই অফিস যাতায়াত করতেন বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি। প্রতিদিনের মতো ২১ জুলাই নিজের বাইকে করে বাড়ি আসেন নারায়নগড়ের নারমার বাসিন্দা, জর্জকোর্টের ওই কর্মী। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে সামান্য করোনা উপসর্গ দেখা দেয়।পরের দিন পর্যন্ত থাকে জ্বর কাশি। এক হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খান ওই ব্যক্তি। দিন কয়েক বাদে ২৮ শে জুলাই ফের অফিসে গেলে কোর্টের এক আধিকারিকের পরামর্শে করোনা পরীক্ষা করান তিনি। বেলদা গ্রামীণ হাসপাতালে ২৯ শে জুলাই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ হলে, ৩১ জুলাই সন্ধ্যা নাগাদ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশের সহযোগিতায়, চিকিৎসার জন্য ওই ব্যক্তিকে পাঠানো হয় ডেবরা সেফ হোম বা করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে। ওই আক্রান্ত কর্মীর বাড়ি সহ পাড়া সিল করে কনটেইনমেন্ট জোন করে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী সহ পরিবারের পাঁচজন এখন হোম আইসোলেশনে। যদিও তাদের কোন উপসর্গ নেই। এখন স্থিতিশীল ওই ব্যক্তিও।

thebengalpost.in
আগামী সাত দিন বন্ধ জেলা আদালত :

এদিকে, মেদিনীপুর জর্জ কোর্টের চতুর্থ শ্রেনীর ওই কর্মী কাজ করতেন কম্পিউটার বিভাগে। যেখানে কর্মরত আরো প্রায় পাঁচ-ছ’জন কর্মী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর রাজকুমার দাস জানিয়েছেন, “গত মঙ্গলবার ওই কর্মী জ্বর গায়ে অফিসে আসেন। তাতে অফিসের অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই কর্মীর লালারসের নমুনা করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ আসে।” রাজকুমার বাবু আরো জানিয়েছেন, তিনি নিজে সহ মোট ১৩ জন আপাতত হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। স্যানিটাইজ করা হয়েছে গোটা কোর্ট চত্ত্বর। সিল করে দেওয়া হয়েছে ওই এলাকা। স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা ঘটনায়। মেদিনীপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আইনজীবি মৃণাল কান্তি চ‍ৌধুরি জানান, “জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও হাইকোর্টের জোনাল ইনচার্জের আদেশানুসারে মেদিনীপুর জেলা আদালতের এক কর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সব কাজকর্ম স্থগিত রাখা হয়েছে আগামী ৭ দিনের জন্য।”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে