উপেক্ষা করতে চেয়েও মোছা গেলনা শুভেন্দু অনুগামীদের, ভারসাম্য রাখতে গিয়ে সুদীর্ঘ জেলা কমিটি তৃণমূলের

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এবং জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা স্তর ও ব্লক স্তরের কমিটি ঘোষণা করা হল গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর)। গতকাল এক সাংবাদিক বৈঠকে, রাজ্য নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদিত জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটি ঘোষণা করলেন জেলা সভাপতি অজিত মাইতি এবং জেলা যুব কংগ্রেসের কমিটি ঘোষণা করলেন যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। দুটি কমিটিই সুদীর্ঘ হয়েছে বলে অভিমত একাংশ দলীয় নেতৃত্বের। কেউ কেউ বলছেন, “তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এত বড় জেলা কমিটি দেখিনি। এমন কেউ নেই যার নাম নেই! এজন্যই কি ৫০০ কোটি দিয়ে পিকে’কে আনা হয়েছিল ?” আবার, কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, “ফেসবুক, স্যোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে করেও সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক হয়ে গেছে কেউ কেউ! পিকে’র দল কি তাহলে এইসব খোঁজ খবরই নিচ্ছিল!” জেলা কমিটি বড় হয়েছে স্বীকার করে জেলা সভাপতি অজিত মাইতি এবং যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী দু’জনেই বার্তা দিয়েছেন, “সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে ২০২১ এর জন্য।”

thebengalpost.in
জেলা কমিটির ঘোষণা’য় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব :

.

এই কমিটি’তে নবীন-প্রবীনের ভারসাম্য রাখা বা দুর্নীতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়ার কথা বলা হলেও, এমন কিছু নেতা আছেন যাঁরা ব্লক সভাপতি হয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার ভুরি ভুরি অভিযোগ আছে! আবার, গড়বেতা- ৩ নং ব্লকের সভাপতি পদ থেকে বয়সের (অশীতিপর) অজুহাত দিয়ে যেমন সরানো হয়েছে নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায়’কে, ঠিক তেমনই তাঁকে জেলা সহ-সভাপতি’র পদ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর অনুগামীদের যেযন বিভিন্ন পদে (সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক) বসানো হয়েছে যোগ্যতার বিচার না করেই, ঠিক তেমনই শুভেন্দু অনুগামী হিসেবে পরিচিত জেলার সুপরিচিত কিছু মুখকে অকেজো করেই রেখে দেওয়া হয়েছে। সকল বিধায়ক, কর্মাধ্যক্ষ প্রমুখদের আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে জায়গা দেওয়া হলেও, কেউ কেউ চেয়ারম্যান, কো-অর্ডিনেটর বা সহ-সভাপতি হিসেবে পদ পেয়েছেন; আবার কাউকে কাউকে পদ থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে হয়তোবা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বা অনুগামী হিসেবে জেলায় পরিচিতি থাকায়! অভিযোগ উঠছে এমনই। শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, একই অভিযোগ উঠছে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তালিকা নিয়েও। তবে, নেতৃত্ব এই অভিযোগে ‘ঢোঁক’ গিললেও স্বীকার করতে নারাজ! কিছু কিছু যুব নেতা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেছেন, “দলের কাজ করে সম্মান বা গুরুত্ব পাওয়া যায় না, দলকে ব্ল্যাকমেইল করলে গুরুত্ব পাওয়া যায়।” আবার অনেকে মন্তব্য করেছেন, “অন্য দল থেকে এসেই পদ, আর কাজ করেও বি-পদ!” তবে,‌ শুভেন্দু অধিকারী’র প্রভাব অস্বীকার করতে চেয়েও উপেক্ষা করতে পারেননি রাজ্য কিংবা জেলা নেতৃত্ব। তার প্রমাণ, মোহনপুরের সভাপতি প্রদীপ পাত্র। ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে ‘পুনর্বাসন’ দেওয়া হয়েছে! কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূল কিংবা যুব তৃনমূলের কমিটি দেখে মনে হচ্ছে, ‘ভাইপো’রই প্রাধান্য, তবে ‘দাদা’কে অস্বীকার করতে গিয়েও পারা যায়নি!

thebengalpost.in
খড়্গপুর শহর সভাপতি’র নাম ঘোষণা করা হয়নি এখনো:

.

অন্যদিকে, খড়্গপুর শহরের গোষ্ঠী কোন্দলও শেষ পর্যন্ত মিটিয়ে ফেলতে পারল না রাজ্য নেতৃত্ব। খড়্গপুর শহর সভাপতির পদে কারুর নামই ঘোষণা করা হয়নি। তবে, প্রাক্তন শহর সভাপতি রবিশংকর পান্ডে’কে জেলা সহ-সভাপতি পদে পুনর্বাসন দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁকে আর ওই পদে রাখা হবে না! অপরদিকে, দেবাশীষ চৌধুরী’ (মুনমুন)’কে ইতিমধ্যে জেলার মুখপাত্র করা হয়েছে। প্রদীপ সরকার জেলার অন্যতম কো-অর্ডিনেটর। তাহলে পদে বসবেন কে ? বর্ষীয়ান আরেক নেতা জওহর পাল নিজে জেলা সহ-সভাপতি পদে এবং তাঁর ছেলে অসিত পাল’কে দেওয়া হয়েছে, শহর যুব সভাপতি’র পদ। তাহলে, তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি পদে কে আসছেন? পিকে’র দল বা রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব এখনো তা নির্ধারণ করতে পারেনি!

thebengalpost.in
জওহর পাল ও পুত্র অসিত পাল :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে