দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ আগস্ট : কোভিড পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বার বার পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঠান্ডা পানীয় বা যেকোনো ধরনের ঠান্ডা কিংবা ফ্রিজের জিনিস না খাওয়ার (বা পান করার) বিষয়ে। কিন্তু, অনেক সময়ই তা মানা সম্ভব হচ্ছেনা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনকও হয়ে উঠছে। আসলে, গলার মধ্যে ঠান্ডা পরিবেশ বা যেকোনো ভাবে ঠান্ডা লাগানো, ভাইরাসের বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। শনিবার খড়্গপুরের একটি ঘটনা যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য ভবনের শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, খড়্গপুর শহর ও গ্রামীণের অধীনে মোট ৭ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন। এর মধ্যে খড়্গপুর লোকালের তালবাগিচা সংলগ্ন দীনেশ নগর এলাকায় যে দু’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সম্পর্কে তারা মামা (৩২) ও ভাগ্নে (২৩)। সম্প্রতি তাঁরা খড়্গপুরের গোলবাজারে একসাথে বাজার করতে এসেছিলেন বলে জানা যায়। পরিবার সূত্রে খবর, বাজার শেষে মামা ও ভাগ্নে স্থানীয় একটি দোকান থেকে ঠান্ডা পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস কিনে খান। তারপরই বাড়ি ফিরে দু’জনের শরীরে জ্বর আসে। শুধু তাই নয় করোনার উপসর্গও (জ্বর-সর্দি-কাশি) দেখা দেয়! এরপর গত ৬ আগস্ট, মহকুমা হাসপাতালে তাঁদের লালারসের নমুনা সংগৃহীত হয়। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাল ল্যাবরেটরি থেকে শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে করোনা পরীক্ষার জন্য রিপোর্ট পজিটিভ আসে! অপরদিকে জ্বর নিয়ে মামা-ভাগ্নে দু’জনই বাড়িতে থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও করোনা-ভীতি তৈরি হয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আতঙ্কের কিছু নেই, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, গোলবাজার এলাকার সেই সমস্ত দোকানগুলিকেও চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রেলশহরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার ১৮ নং ওয়ার্ডে এক ৫২ বছরের প্রৌঢ়ার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। খড়গপুর লোকালের অন্তর্গত সালুয়ায় বছর ৩৫ এর এক মহিলার ও ১ বছরের এক শিশুর গত ৬ আগস্ট লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হলে, শনিবার রাতে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এছাড়াও, খড়গপুর শহরের ১৮ নং ওয়ার্ডের সুভাষপল্লী এলাকার ৪৮ বছর বয়সী এক মহিলার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এছাড়াও শহরের ২৮ নং ওয়ার্ডের ঝাপেটাপুর নার্সিংভবনে এক ৫১ বছরের মহিলাও করোনা সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পিংলার এক ৪৬ বছর বয়সী ব্যক্তি খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিজের লালারস দিয়েছিলেন গত ৬ আগস্ট, শনিবার রাতে তাঁর রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে।

এদিকে, নতুন করে ফের এদিন (শনিবার) মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক জুনিয়র চিকিৎসকের (৩০) রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। কেশপুরের চড়কা (আমড়াকুচির)’র এক কিশোর (১৬) অসুস্থ হয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে চিকিৎসা করাতে এলে, উপসর্গ থাকায় লালারস সংগৃহীত হয়, ৭ আগস্ট। শনিবার রাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ঘাটালের পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর এলাকায় একই পরিবারের ৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বৃদ্ধ (৭৬), বৃদ্ধা (৭৩), তাঁদের বৌমা (৩৫) ও নাতি (১২) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। পুত্র (৪৬) ও নাতনি (৯)’র করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দাসপুর ১ এ আজ ৭ জন ও দাসপুর ২ এ ৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে, দুবরাজপুর (নাড়াজোল, দাসপুর ১) এর একটি পরিবারের স্বামী (৩১) ও স্ত্রী (২২) এবং খাড় রাধাকৃষ্ণপুরের (দাসপুর ১) একই পরিবারের ৩ জন আছেন আক্রান্তের তালিকায়। অন্যদিকে, শালবনীতে এক ডিআরবি আধিকারিকের করোনা রিপোর্ট এদিন পজেটিভ এসেছে। সবমিলিয়ে জেলায় এদিন ২৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।







