দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ১৩ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন বার বার আহ্বান জানাচ্ছেন, করোনা যোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য, ঠিক সেই সময়ই তাঁর দলের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, এক করোনা যোদ্ধার উপর হামলা চালানোর। ঘটনাটি ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের বাকড়া গ্রামের। সনু প্রামাণিক নামে ওই গ্রামের এক শবর পরিবারের যুবক বাকড়া গ্রামের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে খাওয়ার ও জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাতেও সেই কাজে যখন সনু যাচ্ছিল, মাঝপথে সোনুকে আটকে ওই গ্রামেরই কয়েকজন বিজেপি কর্মী বেধড়ক মারধর করে। আহত সোনু’কে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোনু যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। ঝাড়গ্রাম শহর যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল পাত্র ও জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সুব্রত সাহা রাত ১২ টা নাগাদ স্থানীয় হাসপাতাল থেকে সোনু’কে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে, সনু মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন এবং অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বাড়িতে সোনু’র মা ও স্ত্রী আছেন। তাঁর মা এর করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি’র চার নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিজেপির বুথ সভাপতি সুবোধ মাহাত, লালু মাহাত, জ্যোতির্ময় মাহাত এবং প্রশান্ত মন্ডল নামে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই চারজনে মিলেই সোনুর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সোনু কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে করোনা নিয়ে এসে গ্রামে ছড়াচ্ছে, এই অভিযোগে তার উপর হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা! জানাচ্ছে সোনু’র পরিবার। বুধবার বিকেলে সোনুর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন স্বয়ং জেলাশাসক আয়েশা রানী এ। এই শবর পরিবারটির হাতে ত্রাণসামগ্রীও তুলে দেন জেলাশাসক। ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে এদিন জানিয়েছেন।







