বিপর্যয় আসার আগেই লোডশেডিংয়ে নাজেহাল পশ্চিম মেদিনীপুরবাসী, মানতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ, খতিয়ে দেখার আশ্বাস কর্মাধ্যক্ষের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ মে: বিপর্যয় মোকাবিলায় সবরকম ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল দফায় দফায় বৈঠক করছেন জেলা ও ব্লক প্রশাসানের আধিকারিকদের সঙ্গে। বৈঠক হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও। অতিমারী পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঠেকাতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়ার সাথে সাথে, করোনা হাসপাতাল গুলিতে জেনারেটর ও পর্যাপ্ত জ্বালানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অপরদিকে, জেলার বিদ্যুৎ বিষয়ক স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি জানালেন, “ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষদের সঙ্গে ডব্লিউবিএসইডিসিএল (WBSEDCL) এর আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। যাতে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে কোথাও কোনও সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আজ, সোমবারও তিনি রিজিওনাল ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকে বসে জেলাশাসককে রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু, বিপর্যয় আসার আগেই গত প্রায় দু-তিন সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত শালবনী সহ জঙ্গলমহল এলাকায় ব্যাপকভাবে যে লোডশেডিং হচ্ছে, সেই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল নন বলে জানালেন! তিনি বললেন, “আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

thebengalpost.in
জঙ্গলমহলে ব্যাপক লোডশেডিং :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

প্রসঙ্গত, গত ২-৩ সপ্তাহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী, পিড়াকাটা থেকে শুরু করে গোয়ালতোড়, সিজুয়া প্রভৃতি জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে যে দিনে মোটামুটি ৬-৭ ঘন্টা কারেন্ট উধাও! আর, একটু ঝড়-বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। সারা রাত কারেন্ট থাকছেনা! অসহ্য গরমে অসুস্থ মানুষ আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আর সুস্থ মানুষের রাতের ঘুমও উড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের। শুধু, জঙ্গলমহল নয় জেলাশহর মেদিনীপুর ও রেলশহর খড়্গপুরও গত ৭-৮ দিন ধরে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের শিকার! মেদিনীপুর শহরের জর্জকোর্ট, পাটনা বাজার, জগন্নাথ মন্দিরের সমীর দাস, অনিমেষ চক্রবর্তী, অলোক দাস প্রমুরা জানাচ্ছেন, “গত কয়েকদিনে ভালোই লোডশেডিং হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩-৪ বার কারেন্ট চলে যাচ্ছে। বাড়িতে অসুস্থ মানুষদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।” খড়্গপুর শহরের বাবলু ছেত্রী, চিত্তরঞ্জন মাইতি ‌প্রমুখরা আরও একধাপ এগিয়ে বললেন, “ভয়ঙ্কর লোডশেডিং। রাতেও চলে যাচ্ছে। আধঘন্টা-একঘন্টা করে কারেন্ট চলে যাচ্ছে! নাজেহাল হয়ে যাচ্ছি।”আর, জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা তো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়াতেও! বলছেন, “রাতের পর রাত কারেন্ট নেই। এই নাকি বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত!” খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ের কোনো সমস্যা নেই, স্থানীয়ভাবে সমস্যা হচ্ছে। শালবনীর এক যুবক সৌরভ চক্রবর্তী বললেন, “অতিমারী পরিস্থিতি ঠিকই, কিন্তু জরুরি পরিষেবা তো চালু রাখতে হবে।” বিদ্যুৎ দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী জানালেন, “চেষ্টা করছি পরিষেবা দেওয়ার, কিন্তু কিছু কিছু সময় পেরে উঠছিনা!” অপরদিকে, বিদ্যুৎ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ জানালেন, “এতোটা সমস্যা বলে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।” অথচ, শাসকদলেরই একজন জনপ্রতিনিধি জানালেন, “হ্যাঁ, সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি উপযুক্ত জায়গায় কানে তুলেছি।” এদিকে, পিড়াকাটার স্টেশন ম্যানেজার আবার “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা”র চেষ্টা করলেন। তিনি বললেন, “ঘূর্ণিঝড় আসার আগে পঞ্চায়েত সমিতির নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে শালবনীর বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটা চলছে, তাই লাইন অফ রাখা হয়েছে।” কিন্তু, প্রতিদিন রাত্রে যে কারেন্ট না থাকার অভিযোগ আসছে? উত্তরে জানালেন, “ঝড়-বৃষ্টির কারণে দু’একদিন সমস্যা হয়েছিল।” একমত নন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। তাঁরা অবিলম্বে এই মারত্মকহারে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে মুক্তি চান!

আরও পড়ুন -   আবারও প্রিয়জন বিয়োগ মেদিনীপুরের! কোভিড কেড়ে নিল সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হায়দার আলী'কে