মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমফানে লন্ডভন্ড বাংলার ছবি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, একযোগে কাজ করার ডাক নমোর গলায়

চব্বিশ ঘণ্টাও হয়নি এরাজ্যে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ! সুপার সাইক্লোন আমফান তছনছ করে দিয়েছে বাংলার কিয়দংশ। প্রবল ঝড় ও একটানা মুষলধারার বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দুই ২৪ পরগণা সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বেশ কিছু অংশ। আমফানের দাপট থেকে রেহাই পায়নি মহানগরীও। মুখ্যমন্ত্রীকে এতটা ভেঙে পড়তে সচরাচর দেখা যায়নি যতটা কালকের সাংবাদিক সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল। কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি, “এই সময় রাজনীতি না করে, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিন।”

চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! পশ্চিমবঙ্গের এহেন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে রাজ্য সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী। বিধ্বস্ত অংশের ছবি নিজে দেখেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আজ প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করেন, ”ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধ্বংসের ছবি দেখেছি। এই চ্যালেঞ্জের সময় পশ্চিমবঙ্গের পাশে রয়েছে গোটা দেশ। রাজ্যের মানুষের সুস্থতা কামনা করছি। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকায় কাজ করছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন শীর্ষ আধিকারিকরা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার পথে চেষ্টার কোনও খামতি থাকবে না।”
ইতিপূর্বে, ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন অমিত শাহ। রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় দুজনের। সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনার পর অমিত শাহ ট্যুইটারে লেখেন, ”আমফান পরিস্থিতির উপর আমরা নজর রেখে চলেছি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।”

[ আরও পড়ুন -   বিনামূল্যে করোনা প্রতিরোধক তুলে দিচ্ছেন চিকিৎসক, দুঃস্থ মানুষদের উঠোনে পৌঁছে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা ]

 

গতকাল নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ”এর আগে আয়লা হয়েছিল। ফণী এবং বুলবুল ঝড়ের সময় সাহায্য করেছি প্রচুর মানুষকে। একদিকে কোভিডের কারণে অর্থনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ। অর্থ নেই বললেই চলে। আজ চোখের সামনে যে ধ্বংস দেখলাম, এই তাণ্ডব থেকে রেহাই পেতে গেলে মানুষকে সাথে নিয়ে লড়াই করতে হবে। কেন্দ্রের কাছে আবেদন, “রাজনীতির না দেখে মানবিকতা দিয়ে দেখুন।”
উল্লেখ্য যে, মুখ্যমন্ত্রী আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমফানের কারণে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে! ক্ষতির পরিমাণ অবর্ণনীয়!
একদিকে করোনার কারণে, প্রায় স্তব্ধ জনজীবন, বন্ধ উপার্জন, রুজি রোজগার। তার উপর প্রকৃতির প্রতিশোধ। মানুষ আজ সত্যিই বড় অসহায়!

[ আরও পড়ুন -   "কনটেইনমেন্টে কোনো ঢিলেমি নয়", খড়্গপুরে এসে বললেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক বীরেন্দ্র, করলেন জেলা পুলিশের প্রশংসা ]