পারিবারিক সংক্রমণের ধারা অব্যাহত রেখে মেদিনীপুর শহরে আজ ১২ জন করোনা আক্রান্ত

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ১২ আগস্ট :
জেলা স্বাস্থ্য ভবনের গতকালের (মঙ্গলবারের) তথ্য অনুযায়ী, মেদিনীপুর শহরের প্রায় ৩২ জনের করোনা রিপোর্ট ‘অমীমাংসিত’ ছিল। আজ (বুধবার), পুনরায় সেগুলি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাল ল্যাবরেটরিতে (ভিআরডিএল) টেস্ট করার পর, ১২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এল! ফলে, গত দু’দিনেই শহরে ২৯ জন‌ (মঙ্গলবার ১৭ জন ও বুধবার ১২ জন) করোনা আক্রান্ত হলেন। গতকালও শহরের ভোলাময়রারা চক এবং পাটনা বাজারে একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। আজও শহরের তিনটি পরিবার থেকে মোট ৯ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে!

thebengalpost.in
শহরে ফের সংক্রমণ :

মেদিনীপুর শহরের মীরবাজারে অবস্থিত সিপিআইএম পার্টি অফিস সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ৪ জন। তাঁরা সকলেই একই পরিবারের সদস্য। জানা গেছে, ওই পরিবারের এক সদস্যা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে অবস্থিত বাঁকুড়া জেলা স্বাস্থ্য ভবনে কর্মরতা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি কোভিড সংক্রমিত হয়েছিলেন। উপসর্গহীন এই মহিলা বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন। এদিকে, তাঁর সংস্পর্শে আসায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গত ৮ আগস্ট শহরের উপকণ্ঠে আয়ুশ হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন। গতকাল রিপোর্ট অমীমাংসিত এসেছিল, আজ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওই পরিবারের চারজন সদস্য ও সদস্যার বয়স যথাক্রমে, ৬২ বছরের প্রৌঢ়, ৫৭ ও ৫১ বছরের দু’জন প্রৌঢ়া এবং ২৫ বছরের এক তরুণী। তবে, তাঁরাও সকলে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত। অন্যদিকে, বল্লভপুরের করাতিপাড়া (১৭ নং ওয়ার্ড) এলাকার এক মুদি দোকানের মালিক ও তাঁর ভাইপো (২৩) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মুদি দোকানের ওই মালিক (৪৮) গত কয়েকদিন ধরেই শুকনো কাশিতে ভুগছিলেন। সাধারণ ওষুধপত্রে কাজ না হওয়ায়, তাঁর স্বাস্থ্যকর্মী স্ত্রী’র (খড়্গপুরে কর্মরতা এবং সেখানেই সরকারি আবাসনে থাকেন) পরামর্শে তাঁরা কোভিড টেস্ট করান। কাকা ও ভাইপো (দু’জনে মিলেই দোকান সামলান) দু’জনের রিপোর্টই পজিটিভ এসেছে। শহরের অপর পরিবার, মিঞাবাজারের ইব্রাহিমসা বাবার মাজারের সামনে হিলু মিঞা’র গলির ভেতরের বাসিন্দা, পরিবারের ৩ জন্য সদস্য ও সদস্যা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আরো একজনের রিপোর্ট এখনো আসেনি, তাঁর রিপোর্টও পজিটিভ আসার আশঙ্কা করছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। কারণ, এখনো রিপোর্ট না আসা ব্যক্তিই সম্প্রতি রাঁচি থেকে ফিরেছেন। তাই, পরিবারের সকল সদস্যই কোভিড টেস্ট করানোর জন্য আয়ুশে গিয়ে লালারস দিয়ে আসেন গত ৮ আগস্ট। তিনজনের (২৭ ও ৫৫ বছরের পুরুষ, ৩৮ বছরের মহিলা) রিপোর্ট পজিটিভ এলেও, ওই ব্যক্তির রিপোর্ট এখনো আসেনি। তবে, সকলেই উপসর্গহীন এবং হোম আইশোলেশনে আছেন বলে জানা গেছে।

thebengalpost.in
উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন সেফ হোম (তাঁতিগেড়িয়া, মেদিনীপুর) :

শহররে শরৎপল্লীর এক মহিলা (৩৫)’র রিপোর্ট আজ পজিটিভ এসেছে। তবে, তাঁর স্বাস্থ্যকর্মী স্বামী (খড়্গপুরের চাঙ্গুয়াল স্বাস্থ্যকেন্দ্র)’র রিপোর্ট নেগেটিভ! মেদিনীপুর শহরতলীর আরো দু’জনের করোনা রিপোর্ট এদিন পজেটিভ এসেছে। ৪৫ বছরের এক মহিলা ও ২২ বছরের এক যুবক। তবে, তাঁদের সম্পর্কে বিশদে কিছু জানা যায়নি।

[ আরও পড়ুন -   পাঁচ হাজারে পশ্চিম মেদিনীপুর, একাধিক করোনা যোদ্ধা সহ সবং, বেলদা, ডেবরা, পিংলা, গড়বেতায় পরিবার সংক্রমণ, শালবনীতে সংক্রমিত ওসিএল কর্মী ]