পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্যার শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত জেলার কর্মাধক্ষ্য, এক বছর আগের ঘটনায় চক্রান্ত দেখছেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ আগস্ট : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য দপ্তরেরই স্থায়ী সমিতির এক সদস্যা। লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, খড়্গপুর মহকুমার অন্তর্গত একটি থানায়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। চরম অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক দল তথা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব!

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ :

জেলা পরিষদের ওই সদস্যার অভিযোগ, গত বছর জুন মাসে (৬ ই জুন, ২০১৯) একটি পারিবারিক সমস্যা নিয়ে বা সাহায্য চেয়ে তিনি জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে, ওই সময়ই তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয়! ঘটনার পর দলের কাছে বার বার আবেদন জানিয়েও, কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত সপ্তাহেই আদালতের দ্বারস্থ হন জেলা পরিষদের ওই মহিলা সদস্যা। মহিলার বক্তব্য, উনি “প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব” হওয়ায় এবং মুখ খুললে দেখে নেওয়ার “হুমকি” দেওয়ায়, গত এক বছর ধরে অভিযোগ করার সাহস পাননি! কিন্তু, বিবেকের তাড়নায় অবশেষে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে, জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে, ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৫৪ বি এর মতো জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসডিপিও লেভেলে। যদিও এই বিষয়ে, সংবাদমাধ্যম বা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে নারাজ অভিযোগকারিণী নিজে। তবে, অভিযুক্ত ওই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে! এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক বলেও দাবি করেন তিনি। অপরদিকে, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা শাসক দলের জেলা সভাপতি সহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেই নারাজ!

[ আরও পড়ুন -   "রাম আর ডিম ভাজা" খেলেই সারবে করোনা, অদ্ভুত দাওয়াই ]
thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ :

উল্লেখ্য যে, অভিযোগকারিণী তফসিলি জনজাতিভুক্ত হওয়ার কারণে, খাদ্য কর্মাধক্ষ্যের বিরুদ্ধে “Prevention of Atrocities Act,1989” আইন যুক্ত করা হয়েছে মামলায়। ঘটনার নিন্দা করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, জেলা বিজেপি’র সহ সভাপতি অরূপ দাস, শুভজিত রায়, শিবু পানিগ্রাহী প্রমুখরা।