ছত্রধর মাহাত’ র মামলার তদন্তে জঙ্গলমহলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদক, লালগড় ও শালবনী, ২১ জুলাই : জেল থেকে বেরিয়েছেন মাসখানেক হল। লালগড়ের আমলিয়া গ্রামে ছত্রধর মাহাত এরই মধ্যে নতুন একটি জমি কিনেছেন, লালগড়-রামগড় সড়কের ধারে সেই জমিতে নতুন বাড়ি বানিয়েছেন। সোমবার সেই বাড়ির ছাদ ঢালাই উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়া ছিল, নিমন্ত্রিত ছিলেন জনা পঞ্চাশ। সেই দিনই ছত্রধর মাহাত এর নাম জড়িয়ে আছে এমন দুটি মামলার কাগজপত্র ফের চেয়ে পাঠানো হলো এনআইএর পক্ষ থেকে। সূত্রের খবর, এপ্রিল মাস থেকে এই নিয়ে চতুর্থবার কলকাতা এনআইএ’র তরফ থেকে ঝাড়গ্রাম আদালতে এইসব নথি চেয়ে পাঠানো হয়।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ছত্রধর মাহাত :

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে মাওবাদী কার্যকলাপ সংক্রান্ত এই দুটি মামলার তদন্ত ভার নিয়েছে এনআইএ। এদিকে ঝাড়গ্রামে ক্যাম্পাস করার জন্য এনআইএ তরফে তোড়জোড় শুরু হলেও, চার মাস পরেও ঝাড়গ্রাম আদালত থেকে কলকাতার এনআইএ আদালতে নথি এসে জমা না পড়ায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। একটি মামলা রুজু হয়েছিল ২০০৯ সালের অগাস্ট মাসে সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতো খুন হওয়ার জন্য। দ্বিতীয় টি রুজু হয়েছিল সেই বছরই ২৭ শে অক্টোবর ছত্রধর সেই বছরই ২৬ শে সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যদিও সিআইডির চার্জশিটে অবশ্য ছত্রধরের নাম ছিল না। কিন্তু, হঠাৎ এই দুটি মামলার তদন্ত ভার প্রায় ১০ বছর পর এনআইএর হাতে দেওয়া হল কেন তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি :

উল্লেখ্য, ছত্রধর মাহাত’র বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়খন্ডে দাখিল হওয়া সবকটি মামলায় জামিন পেয়ে এই বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেল থেকে ছাড়া পান ছত্রধর মাহাতো। সূত্রের খবর, তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে সম্ভাবনা জোরালো হয়। এরকম অবস্থায় তিনি যাতে তৃণমূলে যোগ দিতে না পারেন সেই কারণেই কি কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ! প্রশ্ন উঠছে রাজনীতি মহলে। যদিও এনআইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি সেই সব নথি ঘেঁটে দেখা যায় যে বর্তমানে সেইসব বিষয়ে তদন্ত করার কোনো যুক্তি নেই তবে সেটিও জানিয়ে দেওয়া হবে।

[ আরও পড়ুন -   কোভিড কেড়ে নিল মেদিনীপুরের বিখ্যাত আইনজীবীর প্রাণ, শহরে তৃতীয় মৃত্যু, জেলায় সংক্রমিত ১১৪ জন ]