আমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে শাসকদলের রাজনীতির প্রতিবাদ করায় হামলা জেলা সভাপতি সহ বিজেপি কর্মীদের উপর, অভিযোগে জেলার সর্বত্র অবস্থান-বিক্ষোভ বিজেপির

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
দাঁতন থানার সামনে বিজেপি'র অবস্থান বিক্ষোভ :

বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, দাঁতন, ১ জুন :  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন এবং প্রশাসন সহ জন-প্রতিনিধিদের কড়া বার্তা দিয়েছেন, “আমফানের ত্রাণ বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনো রাজনীতি বরদাস্ত করা হবেনা!” তারপরেও পশ্চিম মেদিনীপুরের আমফান বিধ্বস্ত দাঁতনে দুর্গত মানুষদের ক্ষতিপূরণের তালিকা নিয়ে রাজনীতি করার মারাত্মক অভিযোগ উঠল। বিজেপি’র স্থানীয় মন্ডল সভাপতির অভিযোগ, “প্রায় তিনশ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি তৈরির সরকারি অনুদান প্রাপকদের যে লিস্ট বিডিও তৈরি করেছেন, সেখানে শুধুই তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের নাম। একজনমাত্র বিজেপি সমর্থকের নাম তালিকায় আছে।”

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
দাঁতন থানার সামনে বিজেপি’র অবস্থান বিক্ষোভ :

এই ঘটনার প্রতিবাদ করায়, বিজেপি কর্মীদের উপর তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বিজেপি’র মন্ডল সভাপতির বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁর স্ত্রী’র প্রতি অকথ্য গালিগালাজ করার অভিযোগও ওঠে! খবর পেয়ে মেদিনীপুর শহর থেকে বিজেপি’র জেলা সভাপতি শমিত দাশ, সহ সভাপতি শিবু পানিগ্রাহী ও শুভজিৎ রায় সহ শীর্ষস্তরের নেতৃত্ব পৌঁছে যান দাঁতনে। দাঁতন থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়। আইসি’ সুব্রত মজুমদার এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে, বিজেপি’র জেলা নেতারা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপরই, থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে তৃণমূল পার্টি অফিসের উপর দিয়ে গাড়ি এগোনোর সময় প্রায় শ’তিনেক তৃণমূল কর্মী বিজেপি নেতাদের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং জেলা সভাপতি সহ বিজেপি নেতাদের গাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। জেলা সভাপতিকে রক্ষা করতে গিয়ে বিজেপি নেতা সৌমেন দাস আহত হন বলে অভিযোগ। আরো মারাত্মক অভিযোগ তৃণমূল কর্মীরা যখন এই হামলা চালাচ্ছিলেন, উপস্থিত ছিলেন দাঁতনের তৃণমূল বিধায়ক বিক্রম প্রধান। বিজেপি’র জেলা সহ-সভাপতি শিবু পানিগ্রাহী’র এই বিষয়ে অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী ক্যামেরার সামনে বসে নাটক করছেন। আর তাঁর যথাযোগ্য ভাইয়েরা অ্যাকশন চালাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিয়েও তৃণমূল আর তাদের পদলেহনকারু সরকারি আধিকারিকরা রাজনীতি করছেন। আর তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের জেলা সভাপতি সহ আমরা আক্রান্ত হলাম। তৃণমূলের বিধায়কের উপস্থিতিতে এই কান্ড ঘটল! ধিক্কার জানাই তৃণমূলের এই জঘণ্য রাজনীতির প্রতি।”

[ আরও পড়ুন -   ভোটের দামামা বাজল মেদিনীপুরে! 'দেওয়াল-যুদ্ধ' থেকে 'ঘরে-দুয়ারে', শাসক-বিরোধী সম্মুখ সমরে ]
দ্য বেঙ্গল পোস্ট
দাঁতন থানা :

 

এই হামলার ঘটনার পরই গাড়ি ঘুরিয়ে বিজেপি’র জেলা নেতৃত্ব পুনরায় দাঁতন থানায় ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পরেই, ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এই ঘটনার প্রতিবাদে, দাঁতন থানার সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে যান বিজেপি’র জেলা নেতারা। এদিকে, মেদিনীপুর শহর সহ গোটা জেলাতেই অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। মেদিনীপুর শহর থেকে বিজেপি’র অপর এক জেলা সহ-সভাপতি অরূপ দাস বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূল এই হামলা চালিয়েছে। তৃণমূল এতটাই দেওলিয়া হয়ে গেছে, ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়েও রাজনীতি করছে। আর তার প্রতিবাদ করায় বিজেপি নেতাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আমরা নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মেদিনীপুর শহর সহ সারা জেলাতেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ জানিয়েছি।”

[ আরও পড়ুন -   'তারকা খচিত' হতে চলেছে এবারের নির্বাচন! বুধবার থেকেই প্রার্থী ঘোষণা শুরু সব দলের, মমতাকে সমর্থন তেজস্বী-অখিলেশের ]

যদিও এই হামলার ঘটনাকে ‘বিজেপির নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়ে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন “এই কঠিন সময়ে নোংরা রাজনীতি করে বিজেপি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। মানুষ এসব মেনে নেবেনা।”