দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৭ জুলাই : লকডাউন কাটতে না কাটতেই, অবাধে বালি চুরি’র খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই, পুলিশ-প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে। বেআইনি অর্থের লোভে, অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অসাধু পথ অবলম্বন করতে পিছপা হচ্ছে না, পরিবেশ আর মানুষের কথা না ভেবেই! কন্ট্রাক্টর থেকে বালি মাফিয়া সকলেই একই পথের পথিক। এজন্য নদীর গতিপথ পরিবর্তন থেকে বেহাল রাস্তা আর পরিশেষে রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন সাধারণ-নিরীহ গ্রামবাসীরা।

ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের নজরে পড়তেই, বালি মাফিয়া থেকে শুরু করে, রাস্তার কন্ট্রাকটররা সজাগ হতে শুরু করে। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে, ফের শুরু হয়! তার সঙ্গে সঙ্গে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ বাধে কয়েকবার। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার যথাক্রমে, কংসাবতী ও শিলাবতী নদীতে অবৈধভাবে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে গড়বেতার ধাদিকা এলাকা থেকে শুরু করে, মেদিনীপুর সদর ব্লকের কংসাবতী নদীর দুই পাড়ে ও ঝাড়গ্রাম জেলার মধ্যস্থল মানিকপাড়া থানার অন্তর্গত আমদই, ভিড়িংপুর গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের দানা বাঁধতে থাকে। স্থানীয় পুলিশ এই পরিস্থিতির সামাল দিলেও, অবৈধ বালি তোলাকে নিয়ে স্থায়ীভাবে সমস্যার সুরাহা করতে পারেনি ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন ও মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন, অভিমত এই সকল গ্রামের বাসিন্দাদের।

বৈধ খাদান এর পাশেই অবৈধ খাদান এর অভিযোগ বারংবার আসা সত্ত্বেও মাফিয়ারা আজও অধরা। নানা অভিযোগের মধ্যে এই অভিযোগও সামনে আসে ‘কেন্দ্রীয় সড়ক যোজনা’ র রাস্তার ওপর দিয়েই অবৈধ খাদানে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে ফেলেছে বালি মাফিয়ারা। মাফিয়ারা কন্ট্রাকটর সহ এলাকাবাসীকে সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে, কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করে চলেছে। শুধু তাই নয়, মেদিনীপুর সদর ব্লকের অন্তর্গত চাঁদড়া অঞ্চলের আলমপুর গ্রাম ও কনকাবতী অঞ্চলের নেপুরা গ্রামের পার্শ্ববর্তী নদীর বিপরীত তীরে, দিনের আলোয় জেসিবি মেশিন চালিয়ে নদীগর্ভ থেকে বালি উত্তোলন করতে দ্বিধাবোধ করছে না মাফিয়ারা। কোন কোন বালি মাফিয়ারা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য, অবৈধ বালিকে বৈধ বালির সিও দেখিয়ে পাস করাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে আসছে। শুধু তাই নয়, কনকাবতী থেকে গোপনন্দিনী পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সমস্যায় দুর্ভোগ বাড়ছে নিত্যযাত্রীদের! খানাখন্দ, গর্ত গুলোকে ইঁট দিয়ে সারানোর চেষ্টা করলেও, তাতে আরো বিপদের মুখোমুখি হতে চলেছেন নিত্যযাত্রীরা। এইসব রাস্তা দিয়ে চব্বিশ ঘন্টায় ট্রাক্টর ও ডাম্পার গাড়ি চলে কমবেশি ৬০-৭০ কিংবা আরো বেশি। নদী গর্ভের বালিকে কেন্দ্র করেই, সমস্যায় জর্জরিত গ্রামবাসী থেকে সাধারণ পথচলতি মানুষ। শুধু তাই নয় এই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে উঠেছে প্রশাসনও। স্থায়ীভাবে এখনো কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারছেনা ঝাড়গ্রাম প্রশাসন ও মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। পুলিশ, প্রশাসন, আধিকারিক ও কর্মাধ্যক্ষ’ দের সাথে এই বিষয়ে কথা বললে, তাঁরা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও, কোনো এক অজানা কারণে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর, সবকিছুই চলে আগের মতোই! ভুক্তভোগী সেই সাধারণ মানুষ। কর্মসংস্থানের অজুহাত দেখানো হলেও, তা যে আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকারই নামান্তর তা বলার অপেক্ষা রাখেনা! বরং, এজন্য, পরিবেশ আর মানবসমাজের যে বড় ক্ষতিসাধন হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই মাফিয়াদের। সবকিছুর শেষেও, সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে, প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকার দিকে।

- Jhargram
- Nature and environment
- Paschim Medinipur
- Society
- South Bengal
- এক ঝলকে
- দক্ষিণবঙ্গ
- ঝাড়গ্রাম
- রাজ্য
- পরিবেশ
- পশ্চিম মেদিনীপুর







