দেশ থেকে রাজ্য, জেলা থেকে শহর, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়াও আগামীদিনে দুষ্কর হতে চলেছে

বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ ও সায়নী দাশগুপ্ত, ১৩ জুলাই :
সারা দেশে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত প্রায় ৯ লক্ষের গায়ে গায়ে। প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২৯০০০-৩০০০০ জন। আর, সংক্রমণের হার ক্রমশ উর্ধ্বমুখী! রাজ্যের অবস্থাও একই। শনিবার ১৩৪৪ দেখে যাঁরা চোখ কপালে তুলেছিলেন, রবিবার তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরো বেশি কিছু, ১৫৬০ ! হ্যাঁ, প্রতিদিন এখন এভাবেই আক্রান্ত হচ্ছেন। হয়তো সংখ্যাটা এই হারেই বাড়তে থাকবে আরো এক-দু’মাস, কিংবা চার-ছ’মাস বা একবছর। কেউ জানে না, কারণ ভারতের মতো জনবহুল দেশে সংক্রমণ যেভাবে ছড়িয়েছে, তাতে কতজন সংক্রমিত হয়ে আছেন বা প্রতিদিন সংক্রমিত হচ্ছেন, তা বোঝা বড় দায়। একই কথা প্রযোজ্য পশ্চিমবঙ্গ কিংবা কলকাতা, চব্বিশ পরগণা বা অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রেও। দিন পনেরো আগেও রাজ্যে প্রতিদিন যতজন করে করোনা আক্রান্ত হতেন (৪০০-৫০০) , এখন শুধু কলকাতাতেই প্রতিদিন সেই পরিমাণ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন! কড়া লকডাউনের পরেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সেটাই স্বাভাবিক! আত্মতুষ্টি থেকে প্রথম থেকে সবকিছুই হালকা ভাবে নিয়েছে, প্রশাসন থেকে জনগণ। তবে, যাইহোক, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে অবিলম্বে সচেতন না হলে এবং সংক্রমিতদের দ্রুত খুঁজে বের করতে না পারলে, কলকাতার বাগুইহাটির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো আরো অনেককেই বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে। আক্রান্ত হচ্ছেন, সেলিব্রেটি থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, আধিকারিকরাও, আর সেক্ষেত্রে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে নূন্যতম স্বাস্থ পরিষেবা পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়বে। উত্তর চব্বিশ পরগণা থেকে নদীয়া, হাওড়া থেকে মেদিনীপুর সেই চিত্রই কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের সামনে উঠে আসছে।

thebengalpost.in
করোনা বুলেটিন (১২ জুলাই, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর) :

যাইহোক, স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলায় গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১,৫৬০ জন। ফলে, এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ হাজার ১৩ জন। পাশাপাশি, সংক্রমণে এদিন মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। গত একদিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৬২২ জন। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা ১৮,৫৮১। যার মধ্যে এখনো অ্যাক্টিভ কেস ১০,৫০০। সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। কলকাতার পরেই রয়েছে উওর ২৪ পরগনা। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে হাওড়া ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। হুগলি, মালদা, দার্জিলিং প্রভৃতি জেলাগুলি এরপর একে একে আছে।
thebengalpost.in
জেলার বুলেটিন :

[ আরও পড়ুন -   এবার করোনা আক্রান্ত হলেন গায়ক অভিজিতের পুত্র, রিপোর্ট নেগেটিভ এলো শিল্পীর ]

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ জন! পশ্চিমে ১২ জন (১১ জুলাই পর্যন্ত)। এর মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে খড়্গপুরে মৃত ৩ (তিন) করোনা আক্রান্তও আছেন। রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরো ১৬ জন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক ছাড়াও, ঘাটাল, দাসপুর, বেলদা (২ জন), দাঁতন (২) এবং ডেবরার একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে, খড়্গপুর সালুয়া ইএফআর ক্যাম্পের তিন জওয়ানের শরীরে নতুন করে করোনার জীবাণু মিলেছে। এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরেও তীব্র হারে বাড়ছে সংক্রমণ, একদিনে আক্রান্ত এবার ৫২ জন।

[ আরও পড়ুন -   "পাক্ষিক দক্ষিণবঙ্গ সংবাদ" : তৃতীয় সংখ্যা ]