ক্রমশ লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি হচ্ছে, করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিচার করে। আগামী ১৮ মে থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে চতুর্থ দফার লকডাউন। এদিকে, দৈনিক মজুরিতে কাজ করা কিংবা নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক প্রভৃতি পেশার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যাও ক্রমেই প্রকট হচ্ছে! সরকারি রেশন থেকে ভাতের সংস্থান’টুকু হলেও, তরি-তরকারির জন্য দৈনন্দিন খাদ্যসামগ্রীতে টান পড়ছে বেশিরভাগ অসহায় সাধারণ মানুষের সংসারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, লকডাউনের প্রথম দিন থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ’ যে মানবিক কর্মসূচি শুরু করেছিল, সর্বস্তরের মানুষের জন্য, আজও তা থেমে নেই!
পাহাড়, জল, জঙ্গলের বৃত্ত সম্পূর্ণ করেও তাঁরা ছুটে ছুলেছেন, অসহায় মানুষদের দোরগোড়ায়। লকডাউনের প্রথম পর্বেই জঙ্গলমহলের লালগড়, ঝাড়গ্রাম, পিড়াকাটা সহ বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর, তৃতীয় পর্বের একেবারে শেষ লগ্নে, গত ১৩ মে তাঁরা পুনরায় পৌঁছে গিয়েছিল, অবশিষ্ট কিছু গ্রামে। ভীমপুর, কাশীজোড়া, বাঁধগোড়া, গোদামৌলি, মেমুল সহ শালবনী ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়, প্রায় ২৭৫ টি পরিবারে তাঁরা ত্রাণ তুলে দিলেন, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (মেদিনীপুর শাখা) এবং ‘সোমা ভৌমিক মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ এর সহযোগিতায়।
গতকাল (১৪ মে) ‘মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ’ প্রায় ১০০ টি পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল, কেশপুর ও আনন্দপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে। ছাত্রসমাজের সম্পাদক রাজকুমার বেরা বললেন, “সকলের সহযোগিতায় ও আশীর্বাদে আমাদের এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি লকডাউনের চতুর্থ পর্বেও চলবে। এছাড়াও আমরা লকডাউনের মধ্যেই দুটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে পেরেছি, আমাদের শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায়।”







