দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১৮ মে: ঘটনাবহুল দিনের সাক্ষী থাকল সারা বাংলা তথা সারা দেশ! নারদা মামলায় সোমবার সকাল থেকে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সূচনা হয়েছিল একপ্রকার বিনা নোটিশে রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে, গভীর রাত পেরিয়েও সেই নাটকীয় ঘাত-প্রত্যাঘাত বজায় থাকল মঙ্গলবার রাত্রি দেড়টা-দুটো পর্যন্ত। সন্ধ্যা নাগাদ জামিন, মাত্র ৪ ঘন্টার ব্যবধানে ফের জেল! এমন ঘটনাই টিভি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্দায় দেখল সারা বাংলা। ব্যাঙ্কশাল আদালত (নিম্ন আদালত) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা নাগাদ ধৃত ৪ নেতারই জামিন মঞ্জুর করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যেই উচ্চ আদালতে অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানায় সিবিআই। রাত্রি সাড়ে ১০ টা নাগাদ, জামিনের উপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। বুধবার পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত জেল হেফাজত হয় বঙ্গ-রাজনীতির এই চার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের। নিজাম প্যালেস থেকে রাত্রি ১ টা নাগাদ চারজনকে বের করা হয়, প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে, একে একে বাইরে বেরিয়ে আসেন সস্ত্রীক পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র, বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং পরিবহন মন্ত্রী ও কলকাতা পৌরসভার প্রশাসক ফিরহাদ ববি হাকিম। রাত্রি দেড়টা নাগাদ প্রেসিডেন্সি জেলে পৌঁছে যান চারজনই। যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে যান মদন-শোভন ও ফিরহাদ। কিছু বলেননি সুব্রত।


Whatsapp Group এ

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত্রি ১ টা। নিজাম প্যালেস থেকে বেরোনোর সাথে সাথেই সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন মদন মিত্র’কে। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মদন বলেন, “আমরা খারাপ, শুভেন্দু-মুকুলরা ভালো! ভালো, সবই জনগণ দেখছেন।” বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। প্রথমেই বলেন, “এই দেখুন বৈশাখী আমার সঙ্গেই আছে সেই দুপুর ১ টা থেকে। আর আপনারা দেখিয়ে যাচ্ছেন, বৈশাখী আসেনি।” গ্রেপ্তারি ও জেল নিয়ে বলেন, “আইনের উপর পুরো ভরসা আছে। আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমি কোনো অন্যায় করিনি। কারুর কাছ থেকে কোনও টাকা নিইনি।” এরপর, ফিরহাদ হাকিম। প্রথমেই ভেঙে পড়েননি। বললেন চক্রান্তের কথা! এও বললেন, “দেশের বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা আছে। সিবিআই-ইডি’কে বিজেপি কিনে নিলেও দেশের বিচার ব্যবস্থা সঠিক পথেই চলবে।” এরপরই, কলকাতার কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার কি হবে, এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তরে কেঁদে ফেলেন ফিরহাদ। কান্না ভেজা গলায় বলেন, “কলকাতাকে বাঁচাতে দিলনা!” এর কিছুক্ষণ আগেই, রাত্রি ১২ টা-সাড়ে ১২ টা নাগাদ ফিরহাদ কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম নিজাম প্যালেসের বাইরে সমবেত তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “একেবারেই অশান্তি করবেন না, অসহিষ্ণুতা দেখাবেন না! নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ এটারই অপেক্ষা করছে। আপনারা একটু অশান্তি করলেই, ওরা তার দশগুন করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে। ভোটে জিতে বাংলা দখল করতে পারেনি, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে বাংলা দখল করবে! আপনারা শান্ত থাকুন। আইনের উপর ভরসা রাখুন।”









