দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ মে: ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৪০ টি কোভিড শয্যা ছিল। কিন্তু, জেলা জুড়ে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং জেলার লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমশ উর্ধ্বমুখি হওয়ায় এবার ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবাও ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমলের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শক দল ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এই দলে জেলাশাসক ছাড়াও ছিলেন, দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক যথাক্রমে তুষার সিংলা ও পীনাকী রঞ্জন প্রধান। এছাড়াও ছিলেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল এবং উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। জেলাশাসক জানান, “ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কোভিড শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। তবে, জেনারেল বেডও থাকছে ১০০ টি। ২-১ দিনের মধ্যেই পুরো বিষয়টি শেষ করা হবে।” জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “জেলাশাসকের উপস্থিতিতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক, দুই ও তিন তলায় কোভিড বেড রাখা হবে ১৩৫ টি। চার ও পাঁচ তলায় ১০০ টি জেনারেল বেড থাকবে। মঙ্গলবার পুনরায় আমরা পরিদর্শনে যাব, সমস্ত বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।” তিনি আরও জানান, “১০ টি HDU শয্যা রাখা হবে। ১২৫ টি বেডেও থাকবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন সিস্টেম।”


Whatsapp Group এ

এদিকে, ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও ১০০ টি বেড বাড়িয়ে ১৮০ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল। তিনি জানিয়েছেন, “ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে HDU এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন সিস্টেম থাকছে। ঘাটালেও আমরা ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টি বেড করছি। ওখানেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইনের কাজ চলছে।” তিনি এও যোগ করেছেন, “শালবনীতে ১৫০ টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন সিস্টেম আছে। ওখানে ২০০ টিতেই এই সিস্টেম করে দেওয়া হবে।” এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে বেড বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকেই চাপ আসছিল ক্রমাগত। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে রাজ্যে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন, মেডিক্যালের ‘নাইট সেল্টার’ ভবনে ৭৫ টি HDU বেড করার জন্য। কিন্তু, এ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্বিমত পোষণ করেন। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানান, “ওখানে আগের মতোই কোয়ারেন্টিন সেন্টার বা আইসোলেশন ওয়ার্ড হতে পারে। কিন্তু, HDU ওয়ার্ড করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাছাড়া, বিধান ব্লকের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের দিকটিতে আমাদের ইতিমধ্যে কাজ চলছে কোভিড শয্যা বাড়ানোর জন্য। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকেই অবগত করা হয়েছে। বিধান ব্লকের ওই দিকটিতে (ওয়ার্ড মাস্টার রুম ও পেডিয়াট্রিক্স বিভাগ যেদিকে আছে) তিনটি তলাতেই কোভিড ওয়ার্ড করে দেওয়া হচ্ছে। নীচের তলাতে কাজ চলছে। দ্বিতয় ও তৃতীয় তলের ওয়ার্ডগুলি স্থানান্তরিত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মোট ১০০ টি শয্যা করার চেষ্টা করছি তিনটি তলা মিলিয়ে। যত দ্রুত তা করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।” প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU SARI ইউনিটে মাত্র ২৬ টি বেড আছে। তবে, করোনা সাসপেক্টেডদের জন্য আরও ৪০ টি বেড রাখা হয়েছে বিধান ব্লকে। তবে, বিধান ব্লকে ১০০ টি শয্যা বিশিষ্ট কোভিড ওয়ার্ড হয়ে গেলে হয়তো ওই ৪০ টি বেড নাও রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ।









