“আগুনে ঝাঁপ” দিয়ে গাজন উৎসবের সমাপ্তি! “চৈতী গাজন” ও “নববর্ষ” বরণে মেদিনীপুরের শিল্পীরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৫ এপ্রিল: “গাজন” বাঙালিদের পালিত একটি হিন্দু লোকউৎসব। এই উৎসব শিব, নীল, মনসা ও ধর্মঠাকুরের পূজাকেন্দ্রিক উৎসব। মূলত অনার্যরা পালন করলেও, উৎসব ঘিরে সর্ব জাতি-বর্ণের উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। মালদহে এই গাজনের নাম গম্ভীরা, জলপাইগুড়িতে গমীরা। বাংলা ‘গাজন’ শব্দটি “গর্জন” শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসীরা প্রচণ্ড গর্জন করেন বলে উৎসবের এইরূপ নামকরণ হয়। অপর মতে, ‘গা’ শব্দের অর্থ “গ্রাম” বা “গাঁ” এবং ‘জন’ শব্দের অর্থ জনসাধারণ; গ্রামীণ জনসাধারণের উৎসব হওয়ায় এই উৎসবের এই রূপ নামকরণ হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, গাজন উৎসবের দিনে দেবী হরকালীর সঙ্গে শিবের বিবাহ হয়। বিবাহ উৎসবে সন্ন্যাসীরা বরযাত্রী হিসেবে অংশ নেন। অন্যদিকে, ধর্মঠাকুরের গাজন হল ধর্মঠাকুর ও দেবী কামিনী-কামাখ্যার (বাঁকুড়া জেলা), দেবী মুক্তির বিবাহ উৎসব। বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ জুড়ে সন্ন্যাসী বা ভক্তদের মাধ্যমে শিবের গাজন অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্র সংক্রান্তিতে “চড়ক পূজা”র সঙ্গে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। এই দিনই “আগুনে ঝাঁপ” থেকে শুরু শরীরকে শূণ্যে ভাসিয়ে দিয়ে নানা কসরৎ দেখানো হয়! আসলে ভক্তা বা ভক্তের দল একে “কৃচ্ছসাধনা” বলে মনে করেন। দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে নিজেদের মনে-প্রাণে “সঁপে” (সমর্পণ) দেওয়ার উদ্দেশ্যেই শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেন তাঁরা!

thebengalpost.in
আগুনে ঝাঁপ মেদিনীপুরে :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

বুধবার “চৈত্র সংক্রান্তি”র দিন মেদিনীপুর শহরের পাটনাবাজারের বুড়ো শিব মন্দিরে গাজন উৎসব অনুষ্ঠিত হল। এদিন সকালে ভক্তবৃন্দরা (ভক্তা) মন্দির থেকে বেরিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে এলাকা পরিক্রমা করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন উপবাস থাকার পর, এদিন আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটে গাজন উৎসবের সমাপ্তি। একই সংগে উপবাসও ভঙ্গ হয় ভক্তবৃন্দদের। এদিন বিকেলে পাটনা বাজার চকে (আগুন ভাঙার চকে) আগুনের স্তুপে একে একে ভক্তরা “ঝাঁপ” গিয়ে আগুন ভাঙেন। আর এভাবেই সমাপ্তি ঘটে আগুন ঝাঁপ বা গাজন উৎসবের। এদিন গাজন দেখতে পাটনা বাজার এলাকায় ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। অপরদিক, মেদিনীপুর শহরের অন্যতম জনপ্রিয় লোক সঙ্গীতের দল “সুজন বন্ধু”র উদ্যোগে প্রথম বারের জন্য অনুষ্ঠিত হল, একটু ভিন্ন স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “চৈতী গাজন”। রবীন্দ্র নিলয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্র নিলয়ের সঙ্গীতবিভাগের শিক্ষার্থীরা। ধুনুচিতে ধুনো ও অগ্নি নিক্ষেপ করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সঙ্গীত গুরু জয়ন্ত সাহা ও রবীন্দ্র স্মৃতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ ওঝা। উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী আলোক বরণ মাইতি, সুপান্থ বসু, রথীন দাস, নাট্যকার জয়ন্ত চক্রবর্তী, শিল্পী সুদীপ মাইতি, অরূপ রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। “সুজন বন্ধু”র পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সঙ্গীত শিল্পী অরুণাশু রায়। “সুজন বন্ধু”র নিজস্ব কলা কুশলীরা ও অতিথি শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে সম্মানিত করা হয়। “সুজন বন্ধু”র পক্ষে দীপঙ্কর শীট জানান,গতবছর তাঁরা এই অনুষ্ঠানটি শুরু করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু লকডাউনের কারণে তা হয়ে ওঠেনি! অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোম চক্রবর্তী ও অর্ণব বেরা।

thebengalpost.in
&সুজন বন্ধু’ র “চৈতী গাজন” :

এদিকে, আজ নববর্ষের সকালে অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের দিন সকাল সকাল মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণে, “ডান্সার্স ফোরাম” এর পরিচালনায় বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হল। “জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক, যাক ভেসে যাক”, এই সুরে “বৈশাখ” কে বরণ করার অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন নাচের স্কুল অংশগ্রহণ করে। কোভিড বিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই অনুষ্ঠান উদযাপিত হল বৃহস্পতিবার সকালে।

thebengalpost.in
ববর্ষকে বরণ করে নিলেন শিল্পীরা :

আরও পড়ুন -   আজই বিধায়ক পদ ছাড়ছেন শুভেন্দু! হন্যে হয়ে খুঁজছে সংবাদমাধ্যম, এখনও 'লেন্সের' বাইরে ব্ল্যাক স্করপিও