দু’দিনেই সংক্রমণের “সেঞ্চুরি” পশ্চিম মেদিনীপুরে! ৮ মাসের শিশুও করোনার কবলে, জেলায় কমেছে “মৃত্যুর হার”, “ভ্যাকসিনের অভাবও দ্রুত মিটবে”, আশ্বাস স্বাস্থ্যকর্তাদের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ এপ্রিল: সারা দেশ এবং রাজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুরেও সংক্রমণের জোয়ার এসেছে! গত ৪৮ ঘন্টায় জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১০৭ জন। সোমবার (১২ এপ্রিল) ৫২ জন এবং মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ৫৫ জন। তবে, গত ৭ এপ্রিলের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু’র খবর নেই। করোনা’র দ্বিতীয় ঢেউ (Second Wave) আসার পর, এখনও পর্যন্ত গত ২৫ শে মার্চ এক ব্যক্তি এবং গত ৭ এপ্রিল এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে জেলায়। গত ২৫ শে মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই ২০ দিনে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল- ৩৯৫ এবং মৃত্যু ২। সেই সূত্র ধরে বলা যেতে পারে, সংক্রমণ হু হু করে বাড়লেও, মৃত্যু’র হার ০.৫ শতাংশের থেকেও কম। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারা রাজ্যেও মৃত্যুর হারও ০.৫ শতাংশের কম! গতকাল সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন মোট ৪৮১৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। মৃত্যু’র হার মাত্র ০.৪২ শতাংশ! তবে, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা সহ প্রতিটি জেলাতেই সংক্রমণের এই উর্ধ্বমুখি হার চিন্তায় রেখেছে প্রশাসনকে। ইতিমধ্যে, কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন’কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণের বেঞ্চ জমায়েত সৃষ্টি সহ মিটিং-মিছিলের উপর বিভিন্ন শর্ত চাপিয়েছে! যদিও সেইসব ‘শর্ত’ থোড়াই কেয়ার করে, ‘রাজনীতি’কে মানুষের ‘জীবন’ এর উর্দ্ধে স্থান দিয়ে নেতা-নেত্রীরা ভোটের প্রচার চালিয়ে যেতে ব্যস্ত।

thebengalpost.in
বাড়ছে সংক্রমণ :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৫ জন। ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ আসার পর এখনও পর্যন্ত এটাই সর্বাধিক! RT-PCR টেস্টে ১৮ জন, Rapid Antigen টেস্টে এ ২৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালের Truenat টেস্টে ১০ জন এর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে, সর্বাধিক সংক্রমণ সেই খড়্গপুরেই। গতকাল ১৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন খড়্গপুরে। মেদিনীপুর শহরে ১৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন নতুন করে। অপরদিকে, গড়বেতার পিংবনী এলাকায় একটি পরিবারের ৮ মাসের শিশু সহ মোট ৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, ঘাটাল মহকুমায় ১০ জন, শালবনীতে ১ জন এবং দাঁতন এলাকায় ৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। লক্ষনীয় যে, করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে অধিকাংশই উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত। তাই, হাসপাতালের তুলনায় গৃহ নিভৃতবাসেই (হোম আইশোলেশনে) থাকছেন বেশিরভাগজন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU বিভাগে কয়েকজন ছাড়া, শালবনী সুপার স্পেশালিটি’তে আজই প্রথম একজন করোনা আক্রান্ত’কে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য। ৬৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দিয়েই করোনার দ্বিতীয় পর্বে ফের চিকিৎসা শুরু হল শালবনীতে।

thebengalpost.in
চলছে ভ্যাকসিনেশন :

অন্যদিকে, গত কয়েকদিনে ভ্যাকসিনের প্রতি মানুষের উৎসাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য ও জেলা জুড়ে ভ্যাকসিনের ভান্ডারে টান পড়ে! জরুরি ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় ১৫,০০০ কোভিশিল্ড পাঠানো হয়েছিল জেলায়। এর মধ্যেই, আজ (১৪ এপ্রিল) দুপুরে, ৩ লক্ষ Covishield ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে রাজ্যে। সন্ধ্যায় আরও ২ লক্ষ Covaxin পৌঁছবে। কাজেই আগামীকাল থেকে জেলায় জেলায় আর ভ্যাকসিনের আকাল দেখা যাবেনা বলেই স্বাস্থ্য কর্তাদের অভিমত। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যেই ভ্যাকসিনের জোগান স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সকলকে ভ্যাকসিন প্রদান করাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের লক্ষ্য। তবে, সংক্রমণ এড়ানোর জন্য শুধু ভ্যাকসিন নয়, সাধারণ মানুষের সতর্কতাও প্রয়োজন। মাস্ক ব্যবহারের সাথে সাথে আগের মতোই সাবান-স্যানিটাইজারের ব্যবহার, গরম জলের ভাপ (ভেপার/Vapor) প্রভৃতি নিতে হবে। মানুষকে সচেতন করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।” একই কথা জানিয়েছেন উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। তিনি বলছেন, “ভ্যাকসিনেশন এবং স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা (Herd Immunity বা স্বাভাবিক অনাক্রম্যতা) গড়ে ওঠার ফলে মৃত্যুর হার কমেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো রোগী এবার খুবই কম। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন, এটাও স্বাভাবিক। কারণ, সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য ভ্যাকসিন ৭০-৮০ শতাংশ কার্যকরী। তবে, শারীরিক জটিলতা বা মৃত্যুর হার কমাতে ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকরী। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও যাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাঁরা সকলেই উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত। এরপরও বলব, এখনও যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভ্যাকসিন নেওয়া বাকি, তাই সকলকেই অবিলম্বে সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। মাস্ক ব্যবহার, দূরত্ব বজায় রাখা সহ একটু সতর্ক হলেই, এই সংক্রমণ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

thebengalpost.in
রাজ্যের করোনা বুলেটিন :

আরও পড়ুন -   নির্বাচনের আগের দিনই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য