মে মাসেও খুলছেনা স্কুল! মিড-ডে মিলের সামগ্রী বরাদ্দ করা হল, দূরত্ব বজায় রেখে গাছের তলায় পড়াশোনা শালবনীতে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ এপ্রিল:এখনই স্কুলের দরজা খুলছেনা প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক (অষ্টম শ্রেণী) স্তরের পড়ুয়াদের জন্য। তাই, মে মাসের জন্যও যথারীতি মিড-ডে মিলের সামগ্রী বরাদ্দ করা হল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এই মর্মে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে ইতিমধ্যে। চাল ২ কেজি, আলু ১ কেজি, ছোলা ১ কেজি এবং ১ টি করে সাবান দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে, গত তিন মাসের মতো মে মাসে দেওয়া হবেনা- মুসুর ডাল, সোয়াবিন ও চিনি! প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল মাসে চাল, আলু, ছোলা ও সাবানের সাথে সাথে উপরোক্ত তিনটি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

thebengalpost.in
মিড-ডে মিলের সামগ্রী বিতরণ হবে মে মাসেও :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ
thebengalpost.in
মিড-ডে মিলের সামগ্রী বিতরণের বিজ্ঞপ্তি :

এদিকে, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের দরজা! সম্প্রতি, মাস তিনেক হল নবম থেকে দ্বাদশের ক্লাস শুরু হলেও, এখনও ক্লাস শুরু হওয়ার ইঙ্গিত নেই প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। এর মধ্যেই ফের করোনার বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে দেশ, রাজ্য ও জেলা জুড়ে। কিন্তু, দীর্ঘসময় ধরে গৃহকোণে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্রমে একঘেয়েমি বা অবসাদের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে! অনলাইন পড়াশোনাতেও নেই ক্লাসরুমের সেই আবেগ-উৎসাহ আর সজীবতা। এই পরিস্থিতিতে,‌ জঙ্গলমহল শালবনী ব্লকের প্রত্যন্ত ধান্যশোল গ্রামের একটি কোচিং সেন্টার যেন নতুন এক পথ দেখাল করোনা আবহে ছেলে-মেয়েদের পাঠদানের ক্ষেত্রে। অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে, প্রকৃতির কোলে, দূরত্ব বজায় রেখে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সরাসরি পাঠদান করা হচ্ছে সোমবার থেকে। গাছের তলায়, পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে অফলাইনে বা প্রত্যক্ষ ভাবে এই পাঠদান প্রক্রিয়ায় অনলাইনের সেই নির্জীবতা বা একঘেয়েমি যেমন দূর হল, ঠিক তেমনই দামি স্মার্টফোন কিংবা নেটওয়ার্ক থাকা- না থাকা প্রভৃতি জটিলতার বাইরে গিয়ে সরাসরি শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্ত প্রশ্ন – উত্তর বা সমস্যাগুলি আলোচনা করা সম্ভব হল। মূলত, করোনা’র এই ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এর মধ্যেও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দের যাতে অফলাইনে পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন “কালি কলম একাডেমি” নামে ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা। এই পদ্ধতি যদি সফল হয়, তবে আগামীদিনে তাঁরা অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে অপেক্ষাকৃত নীচু ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ভাবে পাঠদান প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শান্তিনিকেতনে যদি প্রকৃতির কোলে পাঠদান প্রক্রিয়া চলতে পারে, তাহলে এখানে কেন নয়! এক্ষেত্রে, দূরত্বও বজায় থাকল, ফাঁকা জায়গায় সংক্রমণের আশঙ্কাও কিছুটা কমল! ধান্যশোল গ্রামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; তবে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক-দূরত্ব বজায় রেখেও মানসিক-দূরত্ব কমিয়ে, শ্রেণীকক্ষের “সজীবতা” ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা একটুকরো ‘শান্তিনিকেতন’ গড়ে তোলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে বাহবা দিতেই হয়!

thebengalpost.in
ফাঁকা মাঠে, গাছের তলায় ক্লাস :

thebengalpost.in
কালি কলম একাডেমি’র উদ্যোগে প্রকৃতির কোলে ক্লাস :

আরও পড়ুন -   স্বামী ভিনরাজ্যে, 'পরকীয়া'য় মাতলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের গৃহবধূ, 'গণপ্রহার' এর ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন