সংক্রমণ যখন তুঙ্গে, ভ্যাকসিনের “ভাঁড়ে মা ভবানী”! পর্যাপ্ত জোগান নেই পশ্চিম মেদিনীপুরেও, সংক্রমণ-রোধে একাধিক নির্দেশিকা রাজ্যের

thebengalpost.in
টিকা উৎসবে ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা (ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত) :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ এপ্রিল:নামেই “টিকা উৎসব”! এদিকে, টিকার বা ভ্যাকসিনের “ভাঁড়ে মা ভবানী”! গত ৮ ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে করোনা-পরিস্থিতি সংক্রান্ত বৈঠকে জানিয়েছিলেন- লকডাউনের প্রয়োজন নেই, বরং ১১ থেকে ১৪ ই এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে “টিকা উৎসব” পালন করে ভ্যাকসিনেশন বা টিকাকরণ কর্মসূচি’র উপর জোর দেওয়া হবে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যেই ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন নেই বলে ইতিমধ্যে রাজ্যের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কেন্দ্র’কে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দেশজুড়ে যখন লাগামছাড়া সংক্রমণ পরিস্থিতি, সেই সময়ই ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত যোগানের অভাব যে কেন্দ্র সরকারকেও দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে তা বলাই বাহুল্য! তড়িঘড়ি তাই রাশিয়ার স্পুটনিক ভি বা স্পুটনিক ফাইভ (Sputnik Five) ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই ভ্যাকসিন ভারতের বাজারে আসতে চলেছে ডক্টর রেড্ডিস এর হাত ধরে। প্রসঙ্গত, স্পুটনিক ফাইভ ভ্যাকসিনকে জরুরিকালীন ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সিডিএসসিও (সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন) এর বিশেষজ্ঞ কমিটি। এবার, ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) এর তরফে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র মিললেই বাজারে আসবে রাশিয়ার স্পুটনিক। আগামী অক্টোবরের মধ্যে আরও ৪ টি (চারটি) ভ্যাকসিন ভারতের বাজারে আসতে চলেছে বলেও বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গেছে।

thebengalpost.in
ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত জোগান নেই জেলায় (ফাইল ছবি, নিজস্ব:

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভ্যাকসিন ভান্ডার প্রায় নিঃশেষিত! সোমবার (১২ এপ্রিল) ভ্যাকসিনেশন শেষে জেলায় ‘Covishield’ এর ডোজ আছে মাত্র ২৩৮০ টি এবং ‘Covaxin’ এর ডোজ আছে মাত্র ৯৪০০ টি। এই ১১৭৮০ ডোজের মধ্যে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, মেদিনীপুর UFWC, শালবনী CHC, ডেবরা CHC, কেশপুর CHC, হিজলী CHC, খড়্গপুর SDH, ঘাটাল SDH এ অল্পবিস্তর ভ্যাকসিন মজুত আছে। ফলে, জেলার একাধিক ভ্যাকসিনেশন সেন্টার বা সেশন সাইটে আজ, মঙ্গলবার হয়তোবা করোনা ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার তৈরি হবে! এ নিয়ে জেলার স্বাস্থ্যর্তারা রীতিমতো দুঃশ্চিন্তায় আছেন। তবে, জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, আজ Covishield এর ১৫ হাজার ডোজ রাজ্য থেকে পাঠানো হতে পারে। তবে, তা দিয়েই আর ক’দিন চলবে! প্রতিদিন, জেলায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল। সোমবারও ১১,২৮২ জনকে (Covishield 8667, Covaxin 2615) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে। এই পরিস্থিতিতে, বাকি দিনগুলোতে কি হবে, তা নিয়ে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও রীতিমতো দুঃশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেভাবেই এগোনো হবে।” উল্লেখ্য যে, জেলায় এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯১১ জন মানুষ করোনা ভ্যাকসিন (Covishield- ৩,২৭,৮৯৮ এবং Covaxin- ৩৬০১৩) নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৭০৩ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন, ৪৫২০৮ জন। প্রথম দিকে ভ্যাকসিনেশনে উৎসাহ কম থাকলেও,‌ সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎসাহ ও চাহিদা বেড়েছে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী তা স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছেন, “সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে ভ্যাকসিনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। আর, ভ্যাকসিনেশনের উপর এই মুহূর্তে জোর দিতেও বলা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জোগান থাকায় এতদিন পর্যন্ত সফলভাবে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভবও হয়েছে। আগামীদিনে যেভাবে পাঠানো হবে, সেভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”

thebengalpost.in
টিকা উৎসবে ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা (ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত) :

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে ফের একবার করোনার বাঁধ ভাঙল! সোমবার সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫১১ জন! মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১৯৪৭ জন। সুস্থতার হার প্রায় ৯৭ শতাংশ থেকে কমতে কমতে এই মুহূর্তে ৯৪.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে চিকিৎসাধীন বা সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল- ২৬৫৩১। গত চব্বিশ ঘণ্টায়, কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগণায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে- ১১১৫ (মৃত্যু- ৪) ও ১০৮৭ (মৃত্যু- ৩)। দক্ষিণ ২৪ পরগণা (মৃত্যু-২), হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান (মৃত্যু- ১) ও বীরভূমে দ্বি-শতাধিক মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। নদীয়াতে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৪০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পূর্ব মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। রাজ্যের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন। এই পরিস্থিতিতে, সোমবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছেন। ভোট সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া ১০ টি জেলার জেলাশাসকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-
১. বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে জোরদার প্রচার চালাতে হবে।
২. কোভিড সচেনতার প্রচার করতে জনবহুল এলাকায় মাইকে প্রচারেও জোর দিতে হবে।
৩. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে গুরুত্ব আরোপ।
৪. প্রয়োজনে বাজারগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।
৫. প্রয়োজনে জমায়েত বন্ধ করা হবে।
৬. রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারের অনুমতি চাইতে এলে জেলা প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
৭. যেসব জেলায় ভোট মিটে গিয়েছে সেই সব জেলায় করোনা বিধি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ।
৮. সংক্রমণে রাশ টানতে প্রয়োজনে শহরে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা বাড়ানো।
৯. কোভিড রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলির ২০ শতাংশ পরিকাঠামো বৃদ্ধির নির্দেশ।
১০. অবিলম্বে সেফ হোমের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ।
১১. আরটিপিসিআর টেস্ট বাড়ানোর নির্দেশ।
১২. পয়লা (১ লা) বৈশাখের অনুষ্ঠানে ভিড় কমানোয় নজর।

thebengalpost.in
রাজ্যের করোনা বুলেটিন :

আরও পড়ুন -   মহামারীর মধ্যেও বেতন বকেয়া দশ-বারো মাস ধরে! পিএইচই'র অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে কাঁপল মেদিনীপুর কালেক্টরেট