দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ মে: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের “শক্তিক্ষয়” হওয়া শুরু হয়েছে! দেশে একধাক্কায় সংক্রমণ নেমে গিয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৩৩ জন। তবে, বেড়েই চলেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা। গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৩২৯ জনের। একইভাবে, রাজ্যেও সংক্রমণ কমেছে, বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা! গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৯ হাজার ৩ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪৭ জনের। এপ্রিল-মে’র ভয়াবহ সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলস্বরূপই এই মুহূর্তে মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তবে, ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ তার চরম উচ্চতা থেকে এবার নীচে নামা শুরু করেছে বলেও তাঁদের অনুমান। এখন আশঙ্কা একটাই তৃতীয় ঢেউ কি আসবে? এলে কবে নাগাদ? সেই আলোচনার মধ্যেই বেড়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টায় সুস্থতার হার! দেশে ও রাজ্যে যথাক্রমে সুস্থ হয়েছেন, ৪ লক্ষ ২২ হাজার ৪৩৬ জন এবং ১৯১০১ জন। এদিকে, দেশ ও রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই গত ৪৮ ঘন্টায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও কমেছে সংক্রমণের হার! রবিবার ও সোমবারের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৪৮ ঘন্টায় সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ৫০১ জন ও ৪৭২ জন (মোট ৯৭৩ জন)। মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের (রবিবার ১০ ও সোমবার ৭)। গত ৯ দিনের জেলার করোনা গ্রাফটা ঠিক এরকম- ৫৫৯, ৪৮৩, ৫১৪, ৩৮৩, ৫০১, ৫৮১, ৫৯৫, ৫০১ এবং ৪৭২।


Whatsapp Group এ

এদিকে, রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, ১০০ জন। এর মধ্যে, মেদিনীপুর সদর এলাকায় ১৩ জন, মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে ১৫ জন ও হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে ২ জন। এছাড়া, মেদিনীপুর শহর বা পৌরসভা এলাকাতে ৭০ জন। সর্বাধিক সংক্রমণ সেই কুইকোটাতেই ১০ জন। এছাড়াও, আবাস ও হবিবপুরে ৭-৮ জন করে। নজরগঞ্জ, ধর্মা-গিরিধারিচক, জগন্নাথ মন্দির-সুজাগঞ্জ, জর্জকোট-অরবিন্দ নগর প্রভৃতি এলাকায় ৪-৫ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, রবীন্দ্র নগর, শরৎপল্লী, রাঙামাটি, বার্জটাউন, সুকান্তপল্লী, তোলাপাড়া, তলকুই, সিপাই বাজার, কেরানীচটি, মিয়াবাজার, পালবাড়ি, বিধাননগর, পাহাড়িপুর, কামারআড়া প্রভৃতি এলাকায় এক বা একাধিক ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সোমবার মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৫ জন। এর মধ্যে, মেদিনীপুর সদরের গোপগড়ে রীতিমতো পরিবার ও গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সোমবার সংক্রমিত হয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ২ টি পরিবার মিলিয়েই ৫ জন। এছাড়াও, কালগাঙে ৩ জন, ঈশ্বরপুরে ৪ জন, আমড়াতলায় ২ জন, ওয়ালিপুরে ১ সহ সদর ব্লকে মোট ১৭ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে ২ জন ও হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অপরদিকে, মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে ১ জন ও কোতোয়ালী থানার অধীন অন্যান্য কয়েকটি এলাকায় ৮ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদিকে, শুধু মেদিনীপুর শহরেই এদিন ১১৫ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে, রামকৃষ্ণনগরে দুটি পরিবার মিলিয়ে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৭ জন, স্কুলবাজারে একটি পরিবারে ৩ জন সহ মোট ৫ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এবং ছোটোবাজারেও একটি পরিবারের ৩ জন সহ মোট ৫ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। তবে, গোষ্ঠী সংক্রমণের ভয়াবহতা বজায় রেখে এদিনও কুইকোটাতে সর্বাধিক সংখ্যক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, ১৪ জন। অন্যদিকে, আবাস, রাঙামাটি, শরৎপল্লী, অরবিন্দ নগর, পানপাড়া, নজরগঞ্জ, মির্জাবাজার, ধর্মা প্রভৃতি এলাকায় যথারীতি ৪-৫ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, তোড়াপাড়া, তলকুই, বিধাননগর, রবীন্দ্র নগর, গোলকুয়াচক, বিদ্যাসাগরপল্লী, ক্ষুদিরাম নগর, পাটনা বাজার, কর্ণেলগোলা, সিপাই বাজার, আমতলা ও পুলিশ লাইনে ২-৩ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, কেরানীটোলা, কেরানীচটি, বক্সীবাজার, রাজাবাজার, বার্জটাউন ও শেখপুরাতে এক বা একাধিক জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়।


অন্যদিকে, রবিবার খড়্গপুরে ১২৫ (খড়্গপুর রেল সূত্রে ৭৮, আইআইটি সূত্রে ১৭, খড়্গপুর শহরের ২৫ ও গ্রামীণের ৫) জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সোমবার, খড়্গপুরে ৮০ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে, শহরে ৭০, গ্রামীণে ২ ও রেল সূত্রে ৮ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, শালবনীতে ২৩ (শালবনী ১৩, পিড়াকাটা ৪, গড়মাল ২ বিআরবি ১, ডাঙরপাড়া ১, সিংঘপুর ১, সিজুয়া ১) জন, গড়বেতার তিনটি ব্লক মিলিয়ে ৪৮ (গোয়ালতোড় ২৩, গড়বেতা ১৯, রোড ৬) জন, ডেবরায় ২৫ জন, সবংয়ে ৯ জন, পিংলায় ১০ জন, কেশিয়াড়িতছ ৫ জন, দাঁতনে ১৭ জন, বেলদায় (নারায়ণগড়)- ১২ জন এবং কেশপুরে ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, শালবনীতে ২৬ জন (শালবনী বি আর বি ৯, JSW এর ৪, শালবনী ১৩, গোদাপিয়াসাল ২); গড়বেতার তিনটি ব্লক মিলিয়ে ৬৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে, গড়বেতা এলাকায় ৩৪, গোয়ালতোড় এলাকায় ৭ এবং চন্দ্রকোনারোড এলাকায় ২৮ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, ডেবরায় ৮ জন, পিংলায় ৪ জন, সবংয়ে ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, কেশপুরে ২ জন, দাঁতনে ৫ জন, কেশিয়াড়িতে ১২ জন ও বেলদা (নারায়ণগড়ে) ১৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। রবিবার ও সোমবার ঘাটাল মহকুমায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ৭৪ জন ও ৫৬ জন। গত ২ দিনে জেলার করোনা হাসপাতাল গুলি থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন যথাক্রমে ৬০ জন ও ৪০ জন। এছাড়াও, হোম আইশোলেশন থেকে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ সুস্থ হয়েছেন।








